নিজের হার স্বীকার করে নিলেন মমতা!

হঠাৎ কী হল মুখ্যমন্ত্রীর? প্রকাশ্যেই কেন এহেন উক্তি? তবে কি হাঁপিয়ে উঠলেন তিনি?

নিজের হার স্বীকার করে নিলেন মমতা!
ফাইল ছবি

শিলিগুড়ি: তিনি কী বলবেন, তার দিকে তাকিয়ে ছিল গোটা বাংলা। একে তো বাজেটের দিন, তার ওপর উত্তরবঙ্গ তাঁর কাছে একটা বড় ফ্যাক্টর। সেই উত্তরবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়েই নিজের হার স্বীকার করে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। লোকসভা নির্বাচনে হারের দায় নিলেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে।

কথাগুলো যখন বলছিলেন, তখন মুখ্যমন্ত্রীর গলায় একফোঁটাও ছিল না আফসোসের সুর। বরং চরম আত্মবিশ্বাসী মমতাকে দেখলেন উত্তরবঙ্গ। মমতা বললেন, “বিধানসভায় গো হারা হেরে গিয়েছি। জানি এ বার আপনারা পুষিয়ে দেবেন।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী আসলে নিজের হার থেকেই জেতার সূচনা করতে চাইছেন। সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী মমতা বলতে চেয়েছেন, তিনি কাজ করেছেন, উত্তরবঙ্গের মানুষ তাতে সন্তুষ্ট। উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সফল রূপায়ন হয়েছে। সেই তালিকাও তুলে ধরেন তিনি।

উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে কার্যত ধসে গিয়েছিল তৃণমূল। রাজগঞ্জ ও চোপড়া বিধানসভা বাদ দিয়ে উত্তরবঙ্গে আর একটিও আসনে জিততে পারেনি তৃণমূল। লক্ষ্যণীয়ভাবে ভাল ফল করে বিজেপি। তাদের দাবি, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও একই ফল বজায় থাকবে। সে ক্ষেত্রে জমি উদ্ধারে মরিয়া মমতা বললেন, “আমরা অর্জন করলাম সবকিছু। মাত্র ৬-৭ বছর টাইম পেয়েছি। একাধিক কাজ হয়েছে।”

তাঁর আশ্বাসবাণী “নিশ্চিন্তে থাকুন। রাজ্যকে আমি অনেক এগিয়ে নিয়ে যাব।” এ দিন মমতার গোটা বক্তব্যের বেশিরভাগই ছিল বাজেট প্রসঙ্গ। কেন্দ্রকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি। তবে কথা প্রসঙ্গে নিজের কাজের খতিয়ানও তুলে ধরেন তিনি।

মমতা বলেন, “রেশন কার্ড আগে যা ছিল, তারপর ডিজিটাল করা হয়েছে। সারা বাংলা আজ গোটা দেশের ভবিষ্যৎ। সারা বিশ্ব বাংলার দিকে তাকিয়ে। আপনারা দেখছেন তো স্বাস্থ্যসাথী কার্ড আমরা কী দ্রুত গতিতে করছি।” এরপরই মমতা বলেন, “নিশ্চিন্তে থাকুন, দিদিও থাকবে, আপনারাও থাকবেন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডও থাকবে।”

আরও পড়ুন: ‘হুক্কা হুয়া বাজেট’! বাংলায় আপনারা কী করবেন, সব করে দিয়েছি: মমতা

বিশ্লেষকরা বলছেন, মমতা উত্তরবঙ্গ নিয়ে অত্যন্ত প্রত্যয়ী। তিনি আশাবাদী, উত্তরবঙ্গের মানুষ এবার তাঁর পাশেই থাকবেন। নিজের হার স্বীকার করে আদতে মানুষের মন জয় করতেই চাইলেন। ‘আপনারা পুষিয়ে দেবেন’ কথাটার মধ্যেই সুপ্ত মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রাজ্যবাসীর প্রতি মমতার অধিকারবোধ। সেই অধিকারবোধ থেকেই তিনি জয়ের পথ প্রশস্ত করতে চাইলেন, বলছেন  কুশীলবরা।