Civic Controversy: সিভিক ভলান্টিয়ার ছুঁলেও ছত্রিশ ঘা! ঘুষ খাওয়ার ভিডিয়ো তুলতে গিয়ে ‘জেলের ভাত’ খাচ্ছেন ইনি?
Ashoknagar: অশোকনগরের কেশবপল্লি এলাকার বাসিন্দা মিঠুন সাহা। পেশায় ব্যবসায়ী। অভিযোগ, তাঁর দোকানের সামনেই প্রতিদিন পুলিশ গাড়ি দাঁড় করিয়ে নানা সময় টাকা নেয়। বিষয়টি দেখে প্রতিবাদী মিঠুন সেই ঘটনার মুহূর্ত মোবাইল ফোনে রেকর্ড করেন। সেই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন ওই ব্যবসায়ী।

অশোকনগর: কয়েকদিন আগে বারাসত জেলা পুলিশের এক সিভিক ভলান্টিয়ারের টাকা তোলার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়। যা নিয়ে জোর বিতর্ক বাধে। এমনকি, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও বিষয়টি তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতে যিনি ওই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন, সেই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল অশোকনগর থানার পুলিশ। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, মিঠুন সাহা নামে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এলাকায় গুন্ডামির অভিযোগ গণআবেদন জমা পড়েছিল। তার ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের কাছে অস্ত্র পাওয়া গিয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
অশোকনগরের কেশবপল্লি এলাকার বাসিন্দা মিঠুন সাহা। পেশায় ব্যবসায়ী। অভিযোগ, তাঁর দোকানের সামনেই প্রতিদিন পুলিশ গাড়ি দাঁড় করিয়ে নানা সময় টাকা নেয়। বিষয়টি দেখে প্রতিবাদী মিঠুন সেই ঘটনার মুহূর্ত মোবাইল ফোনে রেকর্ড করেন। সেই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন ওই ব্যবসায়ী। আগেও পুলিশের বিরুদ্ধে এমন পোস্টের জন্য তাঁকে সমস্যায় পড়তে হয় বলে অভিযোগ। এমনকি জেলা পুলিশ সুপারের কাছেও বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন মিঠুন। এবারও ওই ব্যবসায়ীকে মিথ্যে অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সরব হয়েছে তাঁর পরিবার।
মিঠুন সাহার স্ত্রী সুস্মিতা সাহা থানায় বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করতে আসলেও অসহযোগিতা করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁকেও অশ্লীল ভাষায় কটু কথাও বলা হয় বলে পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সুস্মিতা। এমনকি স্বামীর খোঁজে মিসিং ডায়েরি করতে চাইলেও তা না নিয়ে, হুমকি দেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়, মিঠুন সাহাকে ধরে নিয়ে আসলেও তাঁর মা ও স্ত্রী-সহ ছোট দুই সন্তানকে প্রায় মাঝ রাত পর্যন্ত ঘরের বাইরে বসিয়ে রাখা হয়। বাড়ির চাবি মিঠুনের কাছে ছিল। বারবার অশোকনগর থানায় গিয়ে কাতর আবেদন জানালেও কোনওরকম ভাবেই ঘরের চাবি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। মিঠুনের মা নার্ভের রোগী। সেই অবস্থায় দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরেই বসে থাকতে হয় গোটা পরিবারকে। কয়েকঘণ্টা পর বাড়ির চাবি দেওয়া হয়।
এই খবরটিও পড়ুন




সুস্মিতার অভিযোগ, পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কারণেই এই হেনস্থা। অশোকনগর থানার এমন চরম-অমানবিক ও টাকা তোলার বিষয়টি জানিয়ে জেলা পুলিশ সুপার সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর কাছে অভিযোগ জানাবেন বলেও জানিয়ে দেন মিঠুনের স্ত্রী। প্রতিবেশীদের দিয়ে মিথ্যে অভিযোগ করে তাঁর স্বামীকে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হতে পারে বলেও অনুমান তাঁর।
যদি মিঠুন সাহা-র কয়েকজন প্রতিবেশী দাবি করেন, এলাকায় গুন্ডামি করেন মিঠুন। মহিলাদের কটূক্তি করেন। সেজন্যই তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ, পৌরসভা, জেলাশাসকের কাছে গণআবেদন জানিয়েছিলেন তাঁরা। জানুয়ারিতে সেই আবেদন জানানো হয়। সেই আবেদনের ২ মাস পর কেন মিঠুনকে গ্রেফতার করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই নিয়ে মিঠুনের প্রতিবেশীরা বলছেন, পুলিশ কেন ২ মাস পর পদক্ষেপ করল, সেটা পুলিশই বলতে পারবে।
অন্যদিকে, পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মিঠুনের বিরুদ্ধে গণআবেদন জমা করেছিলেন প্রতিবেশীরা। তারই প্রেক্ষিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিয়োর সঙ্গে এই গ্রেফতারির কোনও সম্পর্ক নেই বলে পুলিশের দাবি।





