হাতের শিরা কাটা, লিচু গাছে ঝুলছে বধূর দেহ! সুইসাইড নোটে লেখা ‘আমার সবকিছু ছিল, হেলায় হারালাম’

Suicide: হাতের শিরা কেটে রক্ত শুকিয়েছে হাতেই। বাড়ির বাগানের একটা লিচু গাছ থেকে গলায় ওড়নার ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছে গৃহবধূর দেহ। আর সেখান থেকেই মিলল সুইসাইড নোট। সোমবার তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল আসানসোলের সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুরের পিঠাইকেয়ারির পঞ্চায়েত অফিস সংলগ্ন নেতাজী কলোনি এলাকায়।

হাতের শিরা কাটা, লিচু গাছে ঝুলছে বধূর দেহ! সুইসাইড নোটে লেখা 'আমার সবকিছু ছিল, হেলায় হারালাম'
প্রতীকী চিত্র।

আসানসোল: হাতের শিরা কেটে রক্ত শুকিয়েছে হাতেই। বাড়ির বাগানের একটা লিচু গাছ থেকে গলায় ওড়নার ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছে গৃহবধূর দেহ। আর সেখান থেকেই মিলল সুইসাইড নোট। সোমবার তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল আসানসোলের সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুরের পিঠাইকেয়ারির পঞ্চায়েত অফিস সংলগ্ন নেতাজী কলোনি এলাকায়। মৃতার নাম দূর্বা ওরফে মামন চট্টোপাধ্যায় (৩৬)।

জানা গিয়েছে বছর ১৭ আগে আসানসোলের হিরাপুর থানার হিরাপুর ঠাকুরবাড়ি এলাকার বাসিন্দা দূর্বা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রূপনারায়ণপুরের সঞ্জয় ওরফে বাবলু চট্টোপাধ্যায়ের বিয়ে হয়। তাঁদের ১৬ বছরের একটি ছেলে আছে। গৃহবধূর আচমকা এই রহস্যমৃত্যু নিয়ে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। মৃতার বাপের বাড়ির লোকজনেরা এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে মেনে নিতে নারাজ। সুইসাইড নোট মিললেও তাঁরা একে খুন বলে দাবি করেছেন। এ নিয়ে রূপনারায়ণপুর ফাঁড়িতে অভিযোগ জানিয়ে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে বার করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। পুলিশ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু বা ইউডির মামলা করেছে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

দুর্বা দেবীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর দেখা যায় তাঁর হাতের শিরা ব্লেড দিয়ে কাটা রয়েছে। আর শরীর গাছে ঝুলে থাকলেও পা দুটি প্রায় মাটিতে ছুঁয়ে আছে। এই প্রেক্ষিতে মৃতার বাপের বাড়িরল লোকজনের দাবি, এটা খুন। যদিও ঘরের ভেতর থেকে লাল কালিতে লেখা একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃত দুর্বার পরিবারের লোক।

ঠিক কী ঘটেছিল?

সোমবার সকাল ৬টা নাগাদ ঘুম থেকে উঠে সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় দেখেন বাড়ির বাগানের ছোট লিচু গাছ থেকে তাঁর স্ত্রী দূর্বা চট্টোপাধ্যায় গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছে। রূপনারায়ণপুর ফাঁড়িতে খবর দেওয়া হলে পুলিশ আসে। পুলিশ দেখতে পায় হাতের শিরা কাটা। রয়েছে একটি সুইসাইড নোট। সেই নোটে লেখা আছে, “আমি…. মামন, আমার সবকিছু ছিল। আমি সেইসব হেলায় হারালাম। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়”।

এদিকে মৃত্যুর খবর পেয়ে বধূর দূর্বার বাপের বাড়ি বার্নপুরের হিরাপুর ঠাকুরবাড়ি এলাকা থেকে তাঁর বাবা কৃষ্ণদাস বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আত্মীয় পরিজনেরা রূপনারায়ণপুর পুলিশ ফাঁড়িতে ছুটে আসেন। কৃষ্ণদাসবাবুর অভিযোগ, সুইসাইড নোটের হাতের লেখা তাঁর মেয়ের নয়। মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। গত বৃহস্পতিবার দূর্বাদেবী বাপের বাড়ি গিয়েছিলেন কাছে। শনিবারই শ্বশুরবাড়ি ফিরে আসেন। তাঁর বাবার দাবি, ‘মুখে কিছু না বললেও, আমার মনে হয়েছিল, মেয়ের কিছু একটা হয়েছে। শ্বশুর বাড়িতে কোন কিছু হয়েছিল কিনা তা আমার জানা নেই। কারণ মেয়েকে এইসব ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও, সে কিছু বলত না।’

যদিও মৃতার স্বামী সঞ্জয়বাবু বলেন, “আমি এই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানি না। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাগানে এসে দেখি স্ত্রী গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে ঝুলছে। পুলিশ জানায়, সবকিছু খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরও পড়ুন: কারও কান কাটা গিয়েছে, কারও গলা! এবার চিলের চিল চিৎকারে নামল কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা টিম!

Read Full Article

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla