Khejuri: ‘হার্মাদ মুক্তি দিবসে’ শুভেন্দু-উৎখাতের ডাক তৃণমূলের! বিজেপি বিধায়ক দাঁড়ালেন সিপিএমের পাশে!

TMC and BJP: সিপিএম জমানায় সন্ত্রাসের কথা বলতে গিয়ে একসময় শুভেন্দুর গলায় শোনা যেত 'হার্মাদ' শব্দ। এখন তিনি বিজেপিতে। এদিন বামেদের পাশে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুকে বলতে শোনা গিয়েছে, 'সিপিএমের সকলে খারাপ নয়'। আর ‘হার্মাদ মুক্তি দিবস’ তৃণমূল নেতাদের আক্রমণের সিংহভাগ জুড়ে কেবল শুভেন্দু!

Khejuri: 'হার্মাদ মুক্তি দিবসে' শুভেন্দু-উৎখাতের ডাক তৃণমূলের! বিজেপি বিধায়ক দাঁড়ালেন সিপিএমের পাশে!
হার্মাদ মুক্তি দিবসে তৃণমূলের আক্রমণে শুধু শুভেন্দু! নিজস্ব চিত্র।

পূর্ব মেদিনীপুর: সিপিএমকে (CPIM) উৎখাত করে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ২৪ নভেম্বর খেজুরিতে (Khejuri) ‘হার্মাদ মুক্তি দিবস’ পালন করে আসছে তৃণমূল (TMC)। সিপিএম জমানায় সন্ত্রাসের কথা বলতে গিয়ে একসময় শুভেন্দুর গলায় শোনা যেত ‘হার্মাদ’ শব্দ। এখন তিনি বিজেপিতে। এদিন বামেদের পাশে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘সিপিএমের সকলে খারাপ নয়’। আর ‘হার্মাদ মুক্তি দিবস’ তৃণমূল নেতাদের আক্রমণের সিংহভাগ জুড়ে কেবল শুভেন্দু! ‘হার্মাদ মুক্তি দিবস’ অনুষ্ঠান মঞ্চে মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্রকে বলতে শোনা গেল, “একটা ফুটকি লাগিয়ে দিয়ে বাম থেকে রাম হয়েছে (শুভেন্দু)। তাই আবার সেই হার্মাদগুলি দিয়ে এই খেজুরি দখলের চেষ্টা করছে।” আর গণ প্রতিরোধ করে খেজুরিতে শুভেন্দুকে ঢুকতে না দেওয়ার ডাক দিলেন আরেক মন্ত্রী অখিল গিরি।

এদিন শুভেন্দুকে বলতে শোনা গিয়েছে, “সিপিএমের সকলে খারাপ নন। ২০২৩ সাল অনেক বাকি আছে। তার আগে আসুন আপনারা একসঙ্গে এই জেহাদি তৃণমূলকে নির্মূল করি”। এদিকে ‘রঙ বদলানো হার্মাদ’ বলে বিজেপিকে আক্রমণ খেজুরি গেরুয়া শূন্য করার ডাক দিল তৃণমূল।

বুধবার বিকেলে খেজুরি কলাগেছিয়াতে ‘হার্মাদ মুক্তি দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত দলীয় সভায় উপস্থিত হয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি-র ঝুলি শূন্য করে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছোড়েন তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা। সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র, অখিল গিরি। ছিলেন জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ পার্থ প্রতিম দাস, জেলা তৃণমূলের নেতা মামুদ হোসেন, বিমান নায়েক।

এদিন পদযাত্রা শেষে ধোবাপুকুরের পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিএমকে দোসর করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই ঘোষণা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা ভোটে খেজুরির বিজেপি-র প্রার্থীকে জেতাতে সিপিএমের সমর্থন ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তারই পাল্টা হিসেবে বিকালে তৃণমূলের সভাতে সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র বলেন, “আগে সিপিএমের হার্মাদ ছিল। এখন আর এক হার্মাদ এসেছ। শুধুমাত্র রঙটা বদলেছে। লাল থেকে গেরুয়া। বাম থেকে রাম। বাম ছিল, একটা ফুটকি লাগিয়ে দিয়ে রাম হয়েছে। তাই আবার সেই হার্মাদগুলি এই খেজুরি দখলের চেষ্টা করছে।”

তিনি যোগ করেন, “খেজুরির মানুষের থেকে যখন তাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন তখন ওদের বাহুবলি নেতা অর্থ, অহংকার, পেশিশক্তি দিয়ে চেষ্টা করছেন পুনরায় পরিবর্তিত হার্মাদগুলিকে দিয়ে এখানে অশান্তি, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার।” খেজুরির মানুষের পাশে থেকে লড়াই-আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে এলাকার শান্তি রক্ষার কথা বলেন সেচমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “আমরা চাই অহিংস পথে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে বাংলায় যে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে, সেই শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক খেজুরির মাটিতে। লড়াইয়ের জন্য আমাদের অস্ত্র আছে। সেটা হল ঘাসের ওপর জোড়া ফুল আঁকা তেরঙ্গা ঝাণ্ডা। এটা দিয়েই আমরা হিংসা, পেশিশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব।”

আরও পড়ুন: Malda: প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি পেয়ে জয়েন্ট বিডিও পদে ইস্তফা! আশিসবাবুর কাণ্ডে শোরগোল 

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla