‘এক ঝাঁক ইচ্ছে ডানা’র ওড়ার কথা ইয়াসের ল্যান্ডফলের দিনই! দ্বীপের সেই গর্ভবতীদের আগেই আনা হল হাসপাতালে

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস (Cyclone Yaas) মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চগুলিতে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এদিকে, সুন্দরবনের (Sundorban) প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে গর্ভবতী মহিলাদের পাশে দাঁড়াতে এবার এগিয়ে এসেছে প্রশাসন।

'এক ঝাঁক ইচ্ছে ডানা'র ওড়ার কথা ইয়াসের ল্যান্ডফলের দিনই! দ্বীপের সেই গর্ভবতীদের আগেই আনা হল হাসপাতালে
সুন্দরবনের প্রত্যন্ত দ্বীপের গর্ভবতীদের আগাম হাসপাতালে ভর্তি

সুন্দরবন: ওঁদের বাঁচছে আরও একটি নতুন প্রাণ। ইয়াস যেদিন তার তাণ্ডবলীলা চালাবে, সেদিনই হয়তো তাদের পৃথিবীর আলো দেখার কথা! কিন্তু ওদের মায়েরা যে দ্বীপের বাসিন্দা। তাই উপকূলের সেই মায়েদের কথা ভেবে এগিয়ে এল স্বাস্থ্য দফতর। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস (Cyclone Yaas) মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চগুলিতে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এদিকে, সুন্দরবনের (Sundorban) প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে গর্ভবতী মহিলাদের পাশে দাঁড়াতে এবার এগিয়ে এসেছে প্রশাসন। বিশেষ পদক্ষেপ করা হয়েছে সুন্দরবনের গোসাবা এলাকার ক্ষেত্রে।

ধীরে ধীরে শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হচ্ছে ‘ইয়াস’। দিঘা থেকে ৬৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে এটি অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সোমবারই ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হচ্ছে ইয়াস। বিকেলের দিকে সমুদ্রে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। তারপর আরও শক্তি বাড়িয়ে বঙ্গোপসাগরে উত্তর উত্তর-পশ্চিম দিক দিয়ে উপকূলের দিকে এগোবে ইয়াস।

আগাম সতর্কতা বজায় রেখে বিভিন্ন দ্বীপ থেকে গর্ভবতী মহিলাদের নিয়ে আসা হয়েছে গোসাবা গ্রামীণ হাসপাতালের মাদার হাবে। করোনার চোঙ রাঙানি ছিলই। এবার শিয়রে এসেছে দাঁড়িয়ে ইয়াস আতঙ্ক। ষাঁড়াশি চাপে মানুষ। সবথেকে বেশি চাপে সুন্দরবন অঞ্চলের বাসিন্দারা। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, ঘূর্ণিঝড় মানেই একের পর এক দ্বীপের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। গোসাবার ৯টি দ্বীপে রয়েছে ১৪ টি গ্রাম। সেই গ্রামের গর্ভবতী মহিলাদের সাহায্যে এগিয়ে এল জেলা স্বাস্থ্য দফতর।

প্রসবের দিন ২৬ তারিখ, কিংবা তার আশেপাশে-এমন গর্ভবতী মহিলাদের আগেভাগেই নিয়ে আসা হল গোসাবা গ্রামীণ হাসপাতালে। এ প্রসঙ্গে গোসাবা ব্লক হাসপাতালের বিএমওএইচ বলেন, “ঘূর্ণিঝড়ে অনেক জায়গাতেই পথ অবরুদ্ধ হয়ে যেতে পারে। সমস্যায় পড়তে পারেন তাঁরা। যাতে মায়েদের সমস্যা না হয়, তাই নদীমার্তৃক এলাকাগুলি থেকে তাঁদের নিরাপদে এনে রাখা হচ্ছে।”

আরও পড়ুন: কোন দিন কোথায় কত কিলোমিটার বেগে ঝাপটা মারবে ‘ইয়াস’? কবে কলকাতাতে বিপর্যয়?

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে হাসপাতাল যাতে কোনওভাবেই বিদ্যুৎহীন হয়ে না পড়ে, তার জন্য অতিরিক্ত জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের উদ্যোগে এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের মনোবল বাড়াতে হাজির সঙ্গীতশিল্পী সিধু ও অনিন্দ্য। হবু মায়েদের সামনে দাঁড়িয়েই তাঁরা গাইলেন, ‘এক ঝাঁক ইচ্ছে ডানা, যাদের আজ উড়তে মানা, মিলবেই তাদের অবাধ স্বাধীনতা…’

উল্লেখ্য, ইয়াস মোকাবিলায় নবান্নের পাশে প্রশাসনিক ভবন উপান্নতে কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হয়েছে। যাবতীয় প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন তিনি। এনডিআরএফ টিম পৌঁছে গিয়েছে জেলায় জেলায়। বেশ কয়েকটি কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে। আপৎকালীন ফোন নম্বরও দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হল— ১০৭০ এবং ০৩৩-২২১৪৩৫২৬।

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla