Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Donald Trump: সংবিধান ভেঙে, ক্ষমতা প্রয়োগ করে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হতে চান ট্রাম্প? আদালতে ছুটল বিরোধীরা

সংবিধান ভেঙে কী ভাবে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হবেন ট্রাম্প? সেই কারণে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্বাচনের নিয়ম বদলে দেওয়ার তোড়জোড় করেছেন ট্রাম্প। নিজের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ইস্যু করেছেন একটি বিশেষ নির্দেশও।

Donald Trump: সংবিধান ভেঙে, ক্ষমতা প্রয়োগ করে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হতে চান ট্রাম্প? আদালতে ছুটল বিরোধীরা
Image Credit source: PTI
Follow Us:
| Updated on: Apr 01, 2025 | 8:37 PM

মার্কিন মুলুকের আইন বলছে কোনও ব্যক্তি তাঁর জীবদ্দশায় সর্বাধিক ২ বার প্রেসিডেন্ট হতে পারেন। তার বেশি নয়। সেই কারণে নিজের দ্বিতীয় টার্ম শেষ করে গদি ছাড়তে হয়েছিল বারাক ওবামাকে। কিন্তু সেই প্রথা ভেঙে তৃতীয়বার মসনদে বসতে চান বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে একবার প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

সংবিধান ভেঙে কী ভাবে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হবেন ট্রাম্প? সেই কারণে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্বাচনের নিয়ম বদলে দেওয়ার তোড়জোড় করেছেন ট্রাম্প। নিজের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ইস্যু করেছেন একটি বিশেষ নির্দেশও। যার পরেই বিরোধী দল ডেমোক্রাট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কেস করেছে।

মার্কিন আদালতে মামলা দায়ের করার পর অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ক্যাম্পেইন লিগ্যাল সেন্টারের জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “নির্বাহী ডিক্রির মাধ্যমে নির্বাচনী বিধি নির্ধারণ করা প্রেসিডেন্টের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যে বিশাল পরিবর্তন আনা হয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি উদ্বিগ্ন করে তুলেছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও। সেই পরিবর্তনগুলির মধ্যে একটি হল এমন যে কেবল তাঁরাই মার্কিন নির্বাচনে ভোট দানের যোগ্য বলে গণ্য হবেন যাঁরা মার্কিন নাগরিকত্ব প্রমাণ করে নিবন্ধন করবেন। এমনকি ভোটের দিনের পরে আসা ডাকযোগে ব্যালটের গণনা সীমিত করা হবে।

এই খবর সামনে আসার পরেই ক্ষুব্ধ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। তাঁদের দাবি এই ধরনের পরিবর্তন লক্ষ লক্ষ ভোটারকে প্রভাবিত করতে পারে। পরোক্ষে যা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করবে। ফেডারেল আদালতকে প্রেসিডেন্টের এই নির্দেশের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করার দাবি জানিয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি, সিনেট সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার, হাউস সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিস এবং অন্যান্যরা এই বিষয়ে ওয়াশিংটনে আদালতে দায়ের করা মামলায় বলে, “প্রেসিডেন্ট আমাদের নির্বাচনের নিয়মকানুন নির্ধারণ করতে পারেন না।”

এই নির্দেশকে ‘আমূল’ বলে বর্ণনা করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মামলা করার সময় বলে, “এই নির্দেশ আমেরিকানদের ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন, ভোটদান এবং আমাদের গণতন্ত্রে অংশগ্রহণের উপর আমূল পরিবর্তন করার চেষ্টা। যা সবই ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র।” তাঁদের দাবি এর কোনওটাই ‘আইনত বৈধ’ নয়।

২৫ মার্চ ‘আমেরিকান নির্বাচনের অখণ্ডতা সংরক্ষণ ও সুরক্ষা’ শীর্ষক একটি নির্দেশে সই করেন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প এটিকে “এখনও পর্যন্ত গৃহীত সবচেয়ে দূরবর্তী নির্বাহী পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেন। ‘ব্যাপক জালিয়াতি’ থেকে মার্কিন নির্বাচনকে সুরক্ষিত করার জন্য এটি করেছেন বলেও জানান।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের হারের জন্য ‘ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতি’কে দায়ী করেন তিনি। ভোটদানে কম হার নিয়েও বরাবর সওয়াল করেছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মামলার সমর্থনকারী আইন বিশেষজ্ঞদের একটি দল প্রেসিডেন্টের আদেশকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে নিন্দা করেছেন। তাঁদের মতে, এই পরিবর্তন “লক্ষ লক্ষ ভোটারকে ভোটদান থেকে বঞ্চিত করবে।” বিবৃতি জারি করে বলা হয়, “প্রেসিডেন্টের নির্দেশ একটি বেআইনি পদক্ষেপ। যা আমাদের পরীক্ষিত নির্বাচন ব্যবস্থাকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র।”

ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, যারা ভোট দিতে আসছেন তাঁদের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য যথাযথ নথিপত্র – যেমন পাসপোর্ট – দিয়ে আগে নিবন্ধন করতে হবে। এই বিষয়ে ভারতের প্রসঙ্গ টেনে আনেন ট্রাম্প। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ড সিস্টেম চালু করার জন্য কৃতিত্ব দিয়েছেন, যা ভোটারদের সঠিক নিবন্ধন নিশ্চিত করে।

যদিও ট্রাম্পের বর্তমান নির্দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্টের মেয়াদ কাল পরিবর্তনের উপর কোনও প্রভাব ফেলে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই বলেছেন, তিনি তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার কথা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন। যা এর আগে মার্কিন ইতিহাসে মাত্র একবার ঘটেছিল। তার পরে সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে ২বার মেয়াদের সীমা প্রবর্তন করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, শুধুমাত্র প্রেসিডেন্ট ডেমোক্র্যাট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট ২ বারের বেশি এই দায়িত্ব পালন করেছেন। ৪বার (১৯৩২, ১৯৩৬, ১৯৪০ এবং ১৯৪৪) প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন রুজভেল্ট। ১২ এপ্রিল, ১৯৪৫ প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন চতুর্থ মেয়াদে ৬৩ বছর বয়সে মারা যান তিনি। এরপরেই সীমিত করা হয় প্রেসিডেন্টের মেয়াদকাল।

মার্কিন সংবিধান অনুসারে কেউ প্রসিডেন্ট হিসাবে ২ বার দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এগুলি টানা বা অ-পরবর্তী হতে পারে, তবে দুটি মেয়াদ বা ৮ বছরের বেশি নয়। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তৃতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফিরতে হলে সাংবিধানিক সংশোধনী প্রয়োজন। যা বাস্তবে খুব কঠিন কাজ। এর জন্য মার্কিন কংগ্রেস এবং ৫০টি রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশে ব্যাপক সমর্থন প্রয়োজন।