Charles Sobhraj: ১৯ বছর কারাবাসের পর মুক্তি পাচ্ছে ‘বিকিনি কিলার’ চার্লস শোভরাজ
French serial killer Charles Sobhraj: ১৯ বছর কারাবাসের পর, কুখ্যাত ফরাসী 'সিরিয়াল কিলার' চার্লস শোভরাজকে মুক্তির নির্দেশ দিল নেপালের সুপ্রিম কোর্ট।

কাঠমান্ডু: ১৯ বছর পর ছাড়া পাচ্ছে কুখ্যাত ফরাসী ‘সিরিয়াল কিলার’ চার্লস শোভরাজ (Charles Sobhraj)। বুধবার (২১ ডিসেম্বর) তাকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে নেপালের সুপ্রিম কোর্ট (Nepal Supreme Court) । ১৫ দিনের মধ্যে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। তার বয়স বিবেচনা করে আদালত এই রায় দিয়েছে। দুই মার্কিন পর্যটককে হত্যার দায়ে ২০০৩ সালে চার্লস শোভরাজকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এর আগে ১৯৭৬ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ভারতের কারাবন্দি ছিল চার্লস শোভরাজ। গত শতাব্দীর সাতের দশকে দক্ষিণ এশিয়ার হিপি ট্রেইলে বহু পশ্চিমী পর্যটককে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার হাতে নিহত পর্যটকদের বিকিনি পরা অবস্থায় পাওয়া যেত বলে, সে ‘বিকিনি কিলার’ নামে পরিচিত। শুধু হত্যাই নয়, একাধিক জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে চার্লস শোভরাজের বিরুদ্ধে।
১৯৮৬ সালে চার্লস শোভরাজ, তার সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে নয়া দিল্লির তিহার জেল থেকে পালিয়েছিল। কিন্তু দ্রুতই ধরা পড়েছিল সে। ১৯৯৭ সালে সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মুক্তি পেয়েছিল সে। এরপর, ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর, নেপালের এক ক্যাসিনোর বাইরে থেকে তাকে গ্রেফতার করেছিল নেপালি কর্তৃপক্ষ। ১৯৭৫ সালে জাল পাসপোর্ট নিয়ে নেপালে ঢুকেছিল সে। সেখানে, ২৯ বছরের মার্কিন নাগরিক কোনি জো বোরোনজিক এবং তাঁর প্রেমিকা ২৬ বছরের কানাডার নাগরিক লরেন্ট কেরিয়েরকে হত্যা করেছিল সে। ওই দুই বিদেশী পর্যটককে হত্যা করার দায়ে তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে জাল পাসপোর্ট ব্যবহার করার জন্য তাকে আরও এক বছরের কারাদণ্ড এবং ২০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।
এই ভয়ঙ্কর আন্তর্জাতিক অপরাধীর জন্ম হয়েছিল ভিয়েতনামে। পরে সে ফরাসী নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিল। তার মা ছিল ভিয়েতনামের নাগরিক, বাবা এক ভারতীয়। একটা সময়, এই বিকিনি কিলার বহু দেশের পুলিশের রাতের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সে নিশানা করত হিপি মহিলাদের। প্রথমে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করত। তাদের সঙ্গে নেশা করত এবং তারপর তাদের হত্যা করত। সে এতটাই ধূর্ত ছিল যে, পুলিশ তার অপরাধের সন্ধান পাওয়ার আগেই সে অপরাধ করে পালিয়ে যেত। এই কারণে সে ‘দ্য সারপেন্ট’ বা সাপ নামেও পরিচিত ছিল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রায় সব দেশেই তার বিরুদ্ধে বিদেশী পর্যটকদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে সে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় অন্তত ২০ জনকে হত্যা করেছিল বলে শোনা যায়। শুধু থাইল্যান্ডেই ১৪ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।





