কাবুলে ছায়া সরকার চালাতে চায় ইসলামাবাদ, হক্কানিদের সামনে রেখে চলছে ‘গেম প্ল্যানিং’

Pakistan: হক্কানি নেটওয়ার্কের পৃষ্ঠপোষক পাকিস্তান। তাই তালিবান সরকার গঠনে নাক গলাতে পাক গুপ্তচর প্রধানও মাঠে নেমেছে বলেই সূত্রের খবর।

কাবুলে ছায়া সরকার চালাতে চায় ইসলামাবাদ, হক্কানিদের সামনে রেখে চলছে 'গেম প্ল্যানিং'
ফাইল চিত্র।

কাবুল: এতদিন ধরে কাশ্মীরে ছায়াযুদ্ধের ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালিয়েছে পাকিস্তান। এবার কাবুলে ছায়া সরকার চালাতে চায় ইসলামাবাদ। হক্কানি গোষ্ঠীকে সামনে রেখে আফগানিস্তানের দখল চায় পাকিস্তান ও চিন। তালিবান সংসারে সিঁধ কাটতে কাবুলে পৌঁছেছেন আইএসআই (ISI) প্রধান ফৈয়াজ হামিদ। কিন্তু, কাবুল নদীর কোন খাতে বইছে কেউ জানে না। দ্রুত বদলাচ্ছে আফগান আবহাওয়া।

গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত। গুলির শব্দে কাবুল শহরে কান পাতা দায় হয়ে উঠেছিল। পাকিস্তানের নেটিজেনরা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা শুরু করে, পঞ্জশির দখল উদযাপন করছে তালিবান। কিন্তু, সকাল হতেই দেখা পড়ে রয়েছে সতেরো জেহাদির লাশ। উত্‍সব করতে গিয়ে এতজন মারা গেল? ঠিক কী উৎসব চলছিল সেদিন রাতে?

সূত্রের খবর, ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কাবুলে ছোটখাটো গৃহযুদ্ধ বেঁধে যায়। হক্কানি নেটওয়ার্ক ও বরাদর অনুগামীদের মধ্যে গুলিযুদ্ধ হয় বলে জানা যায়। দোহা থেকে শাস্তির হুঁশিয়ারি দিতে বাধ্য হয় তালিবান নেতারা। পূর্ব আফগান ও পশ্চিম আফগান পাসতুনদের শত্রুতা চরমে বলেই খবর।

আন্তর্জাতিক গোয়েন্দারা বলছেন তালিবান এখন তিনভাগ। তালিবানের একটি অংশ হচ্ছে পাক ঘনিষ্ঠ হক্কানি নেটওয়ার্ক। তালিবানের দ্বিতীয় অংশ মোল্লা বরাদর ও তাঁর অনুগামীরা। তালিবানের তৃতীয় অংশ ইয়াকুব মোল্লা নিয়ন্ত্রিত কোয়েটা সুরা। এই তিন গোষ্ঠীর কারও সঙ্গে কারও মতের মিল হচ্ছে না। তাই বারবার সরকার গঠন পিছিয়ে যাচ্ছে। এমনও শোনা যাচ্ছে, হিবাতুল্লা আখুন্দজাদাকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মানতে সকলেই প্রস্তুত। মোল্লা আবদুল গনি বরাদরের প্রেসিডেন্ট হওয়া নিয়েও আপত্তি নেই সে অর্থে। কিন্তু, ইসলামিক আমিরশাহির গঠন নিয়ে মত পার্থক্য চরমে উঠেছে।

বরাদর ও অনুগামীরা উদারপন্থী ইসলামিক সরকার গঠনের পক্ষে। হক্কানি নেটওয়ার্ক শরিয়তপন্থী পুরনো তালিবান ব্যবস্থা চায়। বরাদর চান আফগানিস্তানের সব জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে সরকার হোক। হক্কানি নেটওয়ার্ক চায়, শুধুমাত্র পাসতুনরাই সরকার পরিচালনায় থাকবে। ইয়াকুব অনুগামী কোয়েটা সুরা কট্টরপন্থী, তাদের অবস্থান আবার স্বতন্ত্র।

হক্কানি নেটওয়ার্কের পৃষ্ঠপোষক পাকিস্তান। তাই তালিবান সরকার গঠনে নাক গলাতে পাক গুপ্তচর প্রধানও মাঠে নেমেছে বলেই সূত্রের খবর। কাবুলে পৌঁছে গিয়েছেন আইএসআই প্রধান হামিদ ফৈয়াজ। হামিদ ফৈয়াজের কথায়, “আমরা আফগানিস্তানে শান্তির প্রতিস্থাপন চাই। চিন্তা করবেন না। সব ঠিক হয়ে যাবে।”

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে রাজনৈতিক সরকার চান বরাদর। হক্কানি নেটওয়ার্ক কট্টর সামরিক সরকার গঠনের পক্ষপাতী। মন্ত্রিসভায় সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি থাকুক, চায় হক্কানি। হক্কানি জঙ্গিদের সেনায় সামিল করার দাবিও উঠেছে। হক্কানিদের হয়ে চাপ সৃষ্টি করতেই আইএসআই প্রধান হামিদ ফৈয়াজ কাবুলে পৌঁছেছেন। সেনাবাহিনীতে হক্কানি গোষ্ঠী থাকলে, তার উপর পাকিস্তানের প্রভাব থাকবে। পাকিস্তানের মাধ্যমে চিনও আফগানিস্তানের সরকারি নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। কিন্তু আবদুল গনি বরাদর তালিবানের সার্বভৌমত্বের পক্ষে।

বর্তমানে কাবুল হক্কানি নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণে। আর কান্দাহারে বসে রয়েছেন বরাদর-সহ তালিব নেতারা। তাঁদের আশঙ্কা, সেনায় হক্কানি যোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্ত করা বিপজ্জনক। এতে ভবিষ্যতে অভ্যুত্থানের আশঙ্কা থেকে যায়। নিরাপদ দূরত্বে বসে কাবুলে নজর রাখছে আমেরিকা ও ভারত। আফগানিস্তান নিয়ে দুই গণতন্ত্রের কূটনৈতিক স্তরে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। স্থির হয়েছে, আফগানিস্তান সন্ত্রাসে মদত না দেওয়া পর্যন্ত এই দুই শক্তিই হস্তক্ষেপ করবে না।

উত্তর এবং পশ্চিম আফগানিস্তান সীমান্তজুড়ে রয়েছে আর এক সামরিক সুপার পাওয়ার। রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও কাবুলে চোখ পেতে রয়েছেন। তালিবান একজোট কখনই ছিল না। কিন্তু, তালিবানের গোষ্ঠীগুলি এত দ্রুত পরস্পরের শত্রু হয়ে যাবে, তা কেউই অনুমান করেনি। আফগানিস্তানের আবহাওয়া দ্রুত বদলাচ্ছে। কাবুল নদীর জল কোনদিকে গড়াচ্ছে বুঝতে পারছেন না খোদ কাবুলিরাই। আরও পড়ুন: ভবানীপুরের ভোট নিয়ে তবে কি আদালতেই যাচ্ছে বঙ্গ বিজেপি? জোরাল হচ্ছে জল্পনা

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla