বিশ্লেষণ: ব্যানড মাস্টারকার্ড, আপনার ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড কি অসুবিধায় পড়বে?

Explained: এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, কোন কোন ব্যাঙ্কের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্লেষণ: ব্যানড মাস্টারকার্ড, আপনার ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড কি অসুবিধায় পড়বে?
গ্রাফিক্স- অভীক দেবনাথ

মাস্টারকার্ডে অনুমোদন দেওয়া বন্ধ করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI)। ২২ জুলাই থেকে আর ভারতে আর গ্রাহকরা নতুন করে মাস্টারকার্ড পাবেন না। মাস্টারকার্ড এশিয়া আর ওই দিন থেকে নতুন ক্রেডিট, ডেবিট বা প্রিপেড কোনও কার্ডই অনুমোদন করতে পারবে না। দেশের একাধিক ব্যাঙ্ক মাস্টারকার্ডের সঙ্গে চুক্তিতে রয়েছে। সেক্ষেত্রে কী হবে তাদের ভবিষ্যৎ? এর আগে আমেরিকান এক্সপ্রেসওয়েকেও ব্যান করেছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তারপর এ বার মাস্টারকার্ড। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, কোন কোন ব্যাঙ্কের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।

ভিসাই ভরসা

দেশের একাধিক বেসরকারি ব্যাঙ্কের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে মাস্টারকার্ডের। এইচডিএফসি, ইয়েস ব্যাঙ্ক, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক ও আরবিএল ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের মাস্টারকার্ড দেয়। কিন্তু আরবিআই ব্যান করায় আর গ্রাহকদের মাস্টারকার্ড দিতে পারবে না ব্যাঙ্কগুলি। তাহলে উপায়? ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যাঙ্ক ভিসা কোম্পানির সঙ্গে কথা বলেছে শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। আরবিএল ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই ভিসার সঙ্গে চুক্তিও করে ফেলেছে বলে জানা গিয়েছে একাধিক সংবাদ মাধ্যম মারফত। অর্থাৎ এ বার থেকে মূলত ভিসা ও রুপে কার্ডের মাধ্যমেই লেনদেন হবে।

আম জনতার কী সমস্যা?

যাঁদের কাছে মাস্টারকার্ড রয়েছে তাঁদের কী সমস্যায় পড়তে হবে? এই প্রশ্নটাই ঘুরে বেড়াচ্ছে আম জনতার মধ্যে। তবে স্বস্তির খবর, যাঁরা ইতিমধ্যেই মাস্টারকার্ড ব্যবহার করছেন, তাঁদের ওপর এই ব্যানের কোনও প্রভাব পড়বে না। অর্থাৎ নির্দ্বিধায় মাস্টারকার্ড ব্যবহার করা যাবে। আরবিআই এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছে।

কেন ব্যান হল মাস্টারকার্ড?

২০১৮ সালের ৬ এপ্রিল আরবিআই জানিয়েছিল, একাধিক সংস্থা লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে জমা রাখছে না। এরপরই শীর্ষ ব্যাঙ্ক কড়া নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছিল, লেনদেন সংক্রান্ত সব তথ্য নিখুঁত ভাবে জমা রাখতে হবে। দেশের অভ্যন্তরে লেনদেনের জন্য অন্য খাত ও বিদেশ লেনদেনের জন্য অন্য খাত ব্যবহার করতে হবে। এই তথ্য যথেষ্ট সুরক্ষা ও গোপনীয়তার সঙ্গে জমা রাখতে হবে বলে জানিয়েছিল। এরই সঙ্গে প্রতি ৬ মাসে সেই কম্পলায়েন্স তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। সেই সংক্রান্ত কোনও অসহযোগিতার জন্যই ব্যান হয়েছে মাস্টারকার্ড।

কোন আইনে ব্যান মাস্টারকার্ড?

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, লেনদেন আইন, ২০০৭ এর ১৭ ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে শীর্ষ ব্যাঙ্ক। চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে এই আইনেই আমেরিকান এক্সপ্রেসওয়ে ব্যাঙ্কিং ক্রপকেও কার্ড অনুমোদন করা থেকে নিষিদ্ধ করে রেখেছে শীর্ষ ব্যাঙ্ক।

কী প্রতিক্রিয়া মাস্টারকার্ডের?

আরবিআই ব্যান করার পর মাস্টারকার্ড বিবৃতি প্রকাশ করে এ বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিবৃতিতে মাস্টারকার্ডের দাবি, ২০১৮ সালে নিয়ম হওয়ার পর থেকে প্রত্যেক বারই নির্দিষ্ট তথ্য পাঠিয়েছে তারা। তারপরেও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ব্যান করায় মাস্টারকার্ড সংস্থা জানিয়েছে, তারা হতাশ। তবে দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করে ফের ভারতের বাজারে ফিরে আসায় আশাবাদী এই সংস্থা। আরও পড়ুন: বিশ্লেষণ: কেন বাড়ল মহার্ঘ ভাতা? কতটা লাভ হল সরকারের? জেনে নিন DA-র DNA

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla