Congress Meeting: মেঘালয়ে ভাঙনেও নেই হেলদোল, বিরোধী ঐক্য বজায় রাখার বার্তাই কংগ্রেসের মুখে

Congress Wants Opposition Unity : এরপরই বিরোধী ঐক্যে ভাঙন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, "আমরা চাই সমস্ত বিরোধী দলগুলি ঐক্যবদ্ধ থাকুক"।

Congress Meeting: মেঘালয়ে ভাঙনেও নেই হেলদোল, বিরোধী ঐক্য বজায় রাখার বার্তাই কংগ্রেসের মুখে
এখনও বিরোধী ঐক্যেই আস্থা কংগ্রেসের। ফাইল ছবি

নয়া দিল্লি: একদিকে একের পর এক রাজ্যে ভাঙন ধরাচ্ছে তৃণমূল(TMC), অন্যদিকে দিল্লি সফরে গিয়েও গান্ধী পরিবারকে এড়িয়ে গিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। গোটা বিরোধী জোটই যখন প্রশ্নের মুখে, সেই সময় মুখ খুলল কংগ্রেস (Congress)। শীতকালীন অধিবেশনের আগে বৃহস্পতিবার দলীয় বৈঠকে বসেছিল কংগ্রেস, সেখানেই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিরোধী ঐক্য ধরে রাখার কথা বলা হয়েছে।    

বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যসভায় কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge) বলেন, “সনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে আমরা শীতকালীন অধিবেশন নিয়ে আলোচনা করেছি। সংসদে আমরা একাধিক বিষয় তুলে ধরব। ২৯ নভেম্বর, অর্থাৎ অধিবেশন শুরুর দিন আমরা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য়ের দাবি সহ কৃষকদের একাধিক সমস্য়া নিয়ে আলোচনা করব।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চিনের আগ্রাসন, পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির বিষয়গুলিও সংসদে তুলে ধরব। আমরা চাই এই বিষয়গুলি আলোচনা করা হোক। আমরা তৃণমূল সহ বাকি বিরোধী দলগুলির সঙ্গেও যোগাযোগ করব একইসুরে মিলিত হওয়ার জন্য।”

এরপরই বিরোধী ঐক্যে ভাঙন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমরা চাই সমস্ত বিরোধী দলগুলি ঐক্যবদ্ধ থাকুক”।

সম্প্রতিই জাতীয় রাজনীতিতে যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস উঠে এসেছে, তাতে বেশ অসন্তুষ্ট কংগ্রেস। ত্রিপুরা থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে অসম, গোয়া হয়ে এবার মেঘালয়েও কংগ্রেসে ভাঙন ধরিয়েই নিজের সংগঠন শক্তিশালী করছে তৃণমূল। গতকালই মেঘালয়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা সহ মোট ১২ জন কংগ্রেস নেতা তৃণমূলে যোগ দেন। এরফলে উত্তর পূর্ব ভারতের ওই রাজ্যে বিরোধী দলের আসন দকল করল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরেই কংগ্রেস নেত্রী কীর্তি আজাদ ও অশোক তানওয়ারও তৃণমূলে যোগ দেন।

কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুসম্পর্ক থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পরই রাজ্যের গণ্ডি পার করে জাতীয় স্তরের রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরির কাজ শুরু করেছে তৃণমূল। আর তাতেই বেজায় চটেছে কংগ্রেস , কারণ তৃণমূলে যোগ দেওয়া নেতাদের মধ্যে অধিকাংশই কংগ্রেসের। গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফালেইরিও থেকে শুরু করে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় বা সুস্মিতা দেব, সকলেই কংগ্রেসের পরিচিত মুখ ছিলেন। দিল্লি সফরে গিয়েও সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা না করা নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর সাফ জবাব, “ওনারা পঞ্জাব নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। তাছাড়া আমরা দিল্লি এলেই সনিয়ার সঙ্গে দেখা করতে হবে কেন? এইরকম কোনও সাংবিধানিক নিয়ম রয়েছে নাকি”।

একের পর এক রাজ্যে ক্ংগ্রেসে ভাঙন ধরিয়েই নিজেদের সংগঠনকে মজবুত করছে তৃণমূল। এই নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব খুব একটা মাথা না ঘামালেও কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী দাবি করেছেন, তৃণমূল বিজেপির হয়েই কাজ করছে। বিজেপির লক্ষ্য কংগ্রেস মুক্ত ভারতের, আর সেই কাজেই সাহায্য করছে তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী ঐক্য কতটা বজায় থাকবে, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla