POCSO Law: ১৫-তে বিয়ে, ১৭-তে অন্তঃসত্ত্বা, ‘বৈধ’ বলে মানল না কর্নাটক হাইকোর্ট
POCSO Law: পঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টে মান্যতা পেয়েছিল এরকমই একটি বিয়ে। কিন্তু কর্নাটক হাইকোর্টের যুক্তি এই বিয়ে বৈধ নয়।

নয়া দিল্লি: বয়স ১৮ না হলেও বয়ঃসন্ধির পরই কোনও কিশোরী বিয়ে করতে পারে ইসলামিক আইনে। পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে এই যুক্তি মান্যতা পেলেও, তা খারিজ করে দিল কর্নাটক হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে, পকসো (POCSO) আইন ওই ইসলামিক আইনের উর্ধ্বে। তাই ১৫ বছরের কোনও কিশোরীকে বিয়ে করা ও তাকে গর্ভবতী করে দেওয়া আইন-বিরুদ্ধ। যদিও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিচার করে ১ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেওয়া হয়েছে অভিযুক্তকে। তবে ওই মুসলিম কিশোরীর বিয়েকে আইনত মান্যতা দেয়নি আদালত। বিচারতি রাজেন্দ্র বাদামিকরের বেঞ্চে ছিল সেই মামলার শুনানি।
অভিযুক্ত অর্থাৎ ওই কিশোরীর স্বামীকে আটক করা হয়েছিল অভিযোগের ভিত্তিতে। তাঁর বিরুদ্ধে বাল্যবিবাহ নিরোধক আইনের ৯ ও ১০ ধারায় মামলা হয়। এছাড়া পকসো আইনের ৪ ও ৬ ধারায় মামলা হয়েছিল। অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে বিয়ে করা ও শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
চলতি বছরের জুন মাসে প্রথম ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ওই কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়ায় এলাকার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েছিল। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখা যায়, কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা। তখন তার বয়স ১৭। সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের তরফে থানায় বিষয়টি জানানো হয়। কিশোরীর স্বামীর বিরুদ্ধে কে আর পুরম থানায় একটি মামলা করে পুলিশ। এরপরই তাঁকে আটক করা হয়।
এরপর আদালতের দ্বারস্থ হন ওই ব্যক্তি। কর্নাটক হাইকোর্টে তাঁর আইনজীবী জানান, বিয়ের সময় ১৫ বছর অর্থাৎ যাকে বয়ঃসন্ধি বলা হয়, সেটা পেরিয়ে গিয়েছিল কিশোরী। ইসলামিক আইনে এটা বৈধ। তাই বাল্যবিবাহ নিরোধক আইনে এই বিয়েকে অবৈধ বলা যায় না। কিন্তু আদাল সেই আর্জি খারিজ করে দেয়। বিচারপতি উল্লেখ করেন, পকসো আইন এক বিশেষ আইন। এটি ইসলামিক আইনের উর্ধ্বে। পকসো আইন অনুযায়ী, শারীরিক সম্পর্কের ন্যুনতম বয়স ১৮।
তবে আদালত একথাও মেনে নেয় যে, ১৭ বছরের কোনও কিশোরী সবই বোঝে। যদিও বাবা-মার কথা অনুযায়ীই সে বিয়ে করেছিল, তবে বিয়ে নিয়ে কোনওদিনই কোনও আপত্তি বা অভিযোগ জানায়নি ওই কিশোরী। তাই অভিযুক্ত সেই কিশোরীর স্বামীকে ১ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দিয়েছে আদালত।
উল্লেখ্য, পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে এরকমই একটি বিয়েকে মান্যতা দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামিক আইনে এই বিয়েতে কোনও বাধা নেই।





