Draupadi Murmu: বিজেপির মাস্টারস্ট্রোক দ্রৌপদী মুর্মু, এক চালেই রাজ্যে রাজ্যে বিরোধী ঐক্যে চওড়া ফাটল

Draupadi Murmu: বিজেপির মাস্টারস্ট্রোক দ্রৌপদী মুর্মু, এক চালেই রাজ্যে রাজ্যে বিরোধী ঐক্যে চওড়া ফাটল
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পুষ্পস্তবক দিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছেন এনডিএ-র রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মুকে

Draupadi Murmu: আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে আদিবাসী নেত্রী দ্রৌপদী মুর্মুর নাম ঘোষণা করাটা বিজেপির মাস্টারস্ট্রোক বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে, রাজ্যে রাজ্যে বিরোধী ঐক্যে আরও ভাঙন ধরতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

TV9 Bangla Digital

| Edited By: Amartya Lahiri

Jun 24, 2022 | 5:47 PM

নয়া দিল্লি: আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যশবন্ত সিং এবং দ্রৌপদী মুর্মু। যিনিই জিতবেন, হবেন দেশের ১৫তম রাষ্ট্রপতি। চলতি বছরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে যে রাজনৈতিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তা গত ১৪ বারে একবারও দেখা যায়নি। আসলে এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, শাসক জোট এনডিএ-র কাছে যাতটা না গুরুত্বপূর্ণ, তার থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধীদের কাছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন তো উপলক্ষ মাত্র, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করাটাই তাদের লক্ষ্য। মাত্র দুটি বৈঠকে ঐক্যমত্য প্রার্থীও স্থির করে ফেলেছে তারা। তবে, এরপরই এসেছে বিজেপির মাস্টারস্ট্রোক। রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে আদিবাসী নেত্রী দ্রৌপদী মুর্মুর নাম। আর এতেই রাজ্যে রাজ্যে বিরোধী ঐক্যে আরও ভাঙন ধরতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বড় সুযোগ হাতছাড়া বিরোধীদের

দেশের মোট ১৭টি রাজ্যে একক ভাবে অথবা জোট গড়ে সরকার চালাচ্ছে বিজেপি। সংসদেও গেরুয়া শিবিরই সংখ্যাগরীষ্ঠ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইলেক্টোরাল কলেজের মোট ভোট রয়েছে ১০.৮৬ লক্ষ। এনডিএ-র হাতে আছে প্রায় ৫.২৩ লক্ষ ভোট। অর্থাৎ, সংখ্যাগরিষ্ঠতা অতিক্রম করতে প্রয়োজন মাত্র ২০,০০০ ভোট। দ্রৌপদী মুর্মুকে মনোনয়ন দিয়ে এই ঘাটতিটুকু মিটিয়ে ফেলতে পারবে শাসক জোট, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। আর এতেই বড় সুযোগ হাতছাড়া হল বিরোধীদের। আসলে, বিরোধীদের সব ভোট যদি এক জায়গায় আনা যায়, সেই ক্ষেত্রে কিন্তু পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এনডিএ প্রার্থীর। কিন্তু, বিজেডি বা ওয়াইএসআর কংগ্রেসের মতো কিছু কিছু আঞ্চলিক দল রয়েছে, যারা শাসক বা বিরোধী কোনও জোটেই না গিয়ে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকতে চায়। এই দলগুলিকে নিজেদের দিকে টানার বড় সুযোগ ছিল বিরোধী শিবিরের সামনে।

বিহার

বিহারে জেডিইউ এনডিএ-র শরিক হলেও, মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার কিন্তু সবসময় বিজেপির তালে তাল মেলান না। জেডিইউ-এর হাতে ২২,৭৬৯টি ভোট রয়েছে। বিজেপির সঙ্গে বিরোধ সত্ত্বেও, নীতীশ কিন্তু দ্রৌপদী মুর্মুকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করছেন।

ওড়িশা

ওড়িশায় শাসক দল বিজেডির হাতে রয়েছে ৩১,৭০৫টি ভোট। এই ভোট বিরোধীরা পাওয়ার আশা করেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদের নয়া দিল্লির বৈঠকে নবীন পট্টনায়ককেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। রাজ্যে বিজেপির সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের পথে থাকলেও, সেই বৈঠকে যোগ দেননি নবীন। শুধু তাই নয়, এখন তিনি দ্রৌপদী মুর্মুকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং বিরোধীদের প্রার্থী প্রত্যাহার করার অনুরোধ পর্যন্ত করেছেন।

ঝাড়খণ্ড

কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে ঝাড়খণ্ডে সরকার চালাচ্ছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা। জেএমএম নেতা তথা ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন প্রথম থেকেই বিরোধী দলের ঐক্যমত্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তবে, দ্রৌপদী মুর্মুকে প্রার্থী করার পর পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। এখন, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী এনডিএ-র প্রার্থীকেই সমর্থন করতে হতে পারে। হেমন্ত সোরেনের দলের অনেক বিধায়ক ও সাংসদই সাঁওতাল। আদিবাসী প্রার্থী দ্রৌপদী তাঁদের অনেকেরই আবেগের পছন্দ হতে পারে।

ছত্তীসগঢ়

ছত্তীসগঢ়ে কংগ্রেস এককভাবে ক্ষমতায় রয়েছে। কিন্তু, এখানেও কাজ করতে পারে আদিবাসী আবেগ। এই রাজ্যের জনসংখ্যার ৩০ শতাংশেরও বেশি হলেন আদিবাসী। ঝাড়খণ্ডের মতো ছত্তীসগঢ়ের কংগ্রেস বিধায়ক-সাংসদদের পক্ষেও যশবন্ত সিনহাকে ভোট দেওয়া কঠিন মনে হতে পারে। বিশেষ করে যশবন্ত মূলত বিজেপির ঘরের লোক এবং তাঁকে প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস দলের থেকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বিভিন্ন মন্তব্যের কারণে কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা তাঁকে এখন আর খুব একটা পছন্দ করেন না। দলের পক্ষে হুমকি বলেই মনে করেন।

অন্যান্য রাজ্য

মধ্যপ্রদেশেও জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ আদিবাসী। সেখানেও আদিবাসী নেত্রীর বিরুদ্ধে ভোট দিতে দ্বিধাদ্বন্দ্বের মুখে পড়তে পারেন কংগ্রেস বিধায়ক-সাংসদরা। এই নিয়ে দলে ভাঙন ধরলে আগামী নির্বাচনে বিজেপির জয় মসৃণ হবে। অন্ধ্রপ্রদেশে আবার কংগ্রেসকে আটকাতে ওয়াইএসআর কংগ্রেস এনডিএ-র প্রার্থীকে সমর্থন করতে পারে। জগন মোহন রেড্ডির দলের হাতে ভোট রয়েছে ৪৫,৮০০টি। উত্তর-পূর্ব ভারতের চারটি রাজ্যে আদিবাসীদের জনসংখ্যার পরিমাণ মোট জনসংখ্যার ৬৯ থেকে ৯৫ শতাংশ। আদিবাসী রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর প্রতি এই এলাকাতেও একই রকম সমর্থন আসতে পারে। এমনকি কংগ্রেস শাসিত রাজস্থানেও জনসংখ্যার প্রায় ১৩.৫ শতাংশ আদিবাসী। সেখানেও কংগ্রেসের দুর্গে ফাটল ধরতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজ রাজ্য গুজরাটেও কিন্তু, ১৪ শতাংশ আদিবাসী জনসংখ্যা রয়েছে।

Follow us on

Related Stories

Most Read Stories

Click on your DTH Provider to Add TV9 BANGLA