Kolkata Municipal Election: ‘রাজ্য নির্বাচন কমিশনটা তো রাজ্য সরকারই চালায়’, সকাল সকাল তোপ দিলীপ ঘোষের

Dilip Ghosh: একই সঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, তৃণমূল কলকাতা দখলে এতটাই মরিয়া, পুনর্নির্বাচনের সময় পর্যন্ত রাখতে চায়নি।

Kolkata Municipal Election: 'রাজ্য নির্বাচন কমিশনটা তো রাজ্য সরকারই চালায়', সকাল সকাল তোপ দিলীপ ঘোষের
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন দিলীপ ঘোষ। নিজস্ব চিত্র।

কলকাতা: পুরভোট নিয়ে মামলা চলছে কলকাতা হাইকোর্ট। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের এই ভূমিকা নিয়ে সমালোচনায় রাজ্য বিজেপি। শুক্রবার দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে রাজ্য সরকার চালায়। সে কারণেই পুরভোটের বিষয়টি নিয়ে আদালতে শুনানি চললেও কমিশনকে ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করতে হল। একই সঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, তৃণমূল কলকাতা দখলে এতটাই মরিয়া, পুনর্নির্বাচনের সময় পর্যন্ত রাখতে চায়নি।

এদিন ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “কলকাতায় পুরভোট জেতা তৃণমূলের কাছে একটা চাপের বিষয়। ওরা ভাবছে যে করে হোক কলকাতা জিততে হবে। তাই আদালতে মামলা চলছে, শুনানি হচ্ছে এদিকে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে ভোট ঘোষণাও হয়ে গেল। রাজ্য নির্বাচন কমিশন তো রাজ্য সরকার চালায়। সে জন্য তাদের ইচ্ছামতো হচ্ছে। সে কারণেই যেটা চাইছে সেটা হচ্ছে। যখন চাইছে তখন হচ্ছে। এটা নিয়ে সকলেই চিন্তিত। তা হলে কোর্টকাছারির মানে কী থাকল।”

এ প্রসঙ্গে উপনির্বাচন ঘিরে আইনি জটিলতার কথা তুলে ধরে দিলীপ বলেন, “গতবার উপনির্বাচনে ভাগাভাগি নিয়ে আদালতে গেল, আদালত বলল এখন ভোট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। আর কিছু করার নেই। এখন ভোট ঘোষণার আগে লোকে আদালতে গিয়েছে, তারপরও কোর্টের শুনানি হতে হতে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গেল। এমনকী এত তাড়াহুড়ো রিপোলিংয়ের জন্য সময় রাখাই হয়নি। কাউন্টিং করে রাতারাতি সব গুটিয়ে ফেলতে হবে। তৃণমূলের যে একটা তাড়া রয়েছে, বোঝাই যাচ্ছে।”

বৃহস্পতিবারই কলকাতা পুরসভার ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ১৯ ডিসেম্বর কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডে ভোট হবে। এই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে সাংবাদিক সমালোচনায় রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে একসঙ্গে নিশানা করেন আরেক বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য।

শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “মামলা চলাকালীন একতরফা ভাবে নির্বাচন ঘোষণা করা হল। কী করে নির্বাচন কমিশন এই বিজ্ঞপ্তি দিল? এখানে তো শাসকের আইন চলছে। কী ভাবে কলকাতা পুলিশ বা রাজ্য পুলিশকে দিয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও অবাধ ভোট করানো সম্ভব? কমিশন এদিন যা করল আমরা তাতে ধিক্কার জানাই। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি। আমরা বিশ্বাস করি এই প্রশাসন দিয়ে, এই পুলিশ দিয়ে, এই রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে কোনও ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করা সম্ভব নয়।”

যদিও তৃণমূলের দাবি, বিজেপি ভয় পেয়ে আদালতে গিয়েছে। ভোটে ভয় পাচ্ছে তারা। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের বক্তব্য, “বিধানসভা ভোট হল এতগুলো দফায়। হঠাৎ এমন কী ঘটল যে বিজেপিকে বলতে হচ্ছে সমস্ত ভোট একসঙ্গে করাতে হবে। পুরোদস্তুর উল্টে যাওয়া তো আসলে নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা। এমনিও হারবে, ওমনিও হারবে। কেন্দ্রের নির্বাচন কমিশন ভোট করলেও হারে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন ভোট করলেও হারে। ওরা তো একদিনের ভোটেও হারে, দফার ভোটেও হারে। হারবেই যখন, মুখ রক্ষার জন্য নানা জটিলতা তৈরি করে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে লাভ নেই।”

আরও পড়ুন: ভোটের ফলপ্রকাশ সম্ভবত ২১ ডিসেম্বর, আজ থেকেই কলকাতাজুড়ে বলবৎ আদর্শ আচরণ বিধি

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla