Chorbagan Pandal Stampede: সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট! আসলে ঠিক কী ঘটেছিল চোরবাগান সর্বজনীনে? কীভাবে মৃত্যু ২০ জনের?
Chorbagan Pandal Stampede Cause: আলো কম হওয়ার কারণে দৃশ্যমানতা কম ছিল। আলো থেকে অন্ধকার জায়গায় প্রবেশে ও বাইরে যাওয়ার সময় একই রাস্তা, আর তাতেই দুর্ঘটনার প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। প্রশ্ন উঠছে, মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানোর দায়িত্বে প্রচুর ভলেন্টিয়র ছিলেন। কিন্তু বৃষ্টির সময় তাঁরা কোথায় ছিলেন?

কলকাতা: সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট! সপ্তমীর সন্ধ্যায় আকস্মিক বৃষ্টি। সে বৃষ্টির পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিল আবহাওয়া দফতর। ভিড় উপেক্ষা করেই শহরের বড় পুজোগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। চোরবাগান সর্বজনীনেও গত কয়েকদিনে প্রচুর ভিড়। বৃষ্টি যখন শুরু হয়, বাঁচতে হুড়মুড় করে মণ্ডপে ঢুকে পড়েন দর্শনার্থীরা। তাতেই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা।
চোরবাগান সর্বজনীনের উদ্যোক্তা প্রীতম সরকার বলেন, “বৃষ্টিটা যখন শুরু হল, বেশি মাত্রায় লোক ভিতরে ঢুকে গিয়েছিল। একসঙ্গে নির্দিষ্ট সংখ্যক লোককেই ভিতরে ঢোকার মতো ব্যবস্থা করা হয়েছিল। চাপে মণ্ডপের একটা অংশ ভেঙে পড়ে। ফোনে যতটুকু শুনেছি চার পাঁচ জন আহত হয়েছেন।”
আলো কম হওয়ার কারণে দৃশ্যমানতা কম ছিল। আলো থেকে অন্ধকার জায়গায় প্রবেশে ও বাইরে যাওয়ার সময় একই রাস্তা, আর তাতেই দুর্ঘটনার প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। প্রশ্ন উঠছে, মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানোর দায়িত্বে প্রচুর ভলেন্টিয়র ছিলেন। কিন্তু বৃষ্টির সময় তাঁরা কোথায় ছিলেন? পুলিশ কেন ভিড় সামলাতে পারল না? পুজো উদ্যোক্তাদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দুর্ঘটনায় আহত সমস্ত ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে (MCH) পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে লালবাজার কন্ট্রোল রুম থেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী, দমকল বাহিনী, কলকাতা পুলিশের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ (DMG) এবং মেডিকেল টিমসহ অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়েছে শুনে নিজের প্রাণ বাঁচাতে সবাই দৌড়তে শুরু করেছিলেন আর পদপিষ্ট হয়েছেন। মারা গিয়েছেন।” স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, ‘এখানে পাঁচজন পড়েছিল।’ এখানে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে দর্শনার্থীরাও। এক জন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এখানে হাজার হাজার ভলান্টিয়র, পুলিশ ছিল। কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই প্রথমে নেওয়া হচ্ছিল না। এত বড় ঘটনা ঘটছে. চোখের সামনে দেখছে। কলকাতা পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়েছিল, পুলিশ কিছু করেনি। আমরা লোকালরাই করে গিয়েছি। পুজো কমিটির কোনও লোককেই দেখা যায়নি।” এমনকি ওখানে কোনও অ্যাম্বুলেন্সেরও ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
