T20 World Cup 2021: কাপুরষরাই মাঠ ছেড়ে পালায়

২৪ অক্টোবর টি-২০ বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে চলেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান।

T20 World Cup 2021: কাপুরষরাই মাঠ ছেড়ে পালায়
বিরাট-বাবর (ছবি-টুইটার)

বিক্রম ভোরা

২৪ অক্টোবর টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup) মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান (India vs Pakistan)। গতকাল রাতে দুবাইয়ের বুর্জ প্লাজায় এবিপি নিউজের তরফে আয়োজিত বিশ্ব বিজেতা অনুষ্ঠানে ভারত-পাকিস্তানের আগামী ম্যাচ এবং দুই দেশের মধ্যে হতে চলা আসন্ন ক্রিকেট ম্যাচের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার জন্য উপস্থিত ছিলেন কপিল দেব, আজহারউদ্দিন, জাহির আব্বাস, অতুল ওয়াসন, দীনেশ কার্তিক, ইউনুস খান এবং মহম্মদ খান। ভারত-পাকিস্তান হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচের আগের দিন অর্থাৎ ২৩ অক্টোবর এই চ্যাট শো-য়ের একটি সিনেমা জনগনের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হবে।

এই চ্যাট শো-তে অংশগ্রহণকারীরা সাধারণভাবে সম্মত হন যে এই দুই দেশের মধ্যে আরও বেশি খেলা হওয়া উচিত। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বিশ্বকাপে টি-টোয়েন্টি ম্যাচের এক সপ্তাহেরও কম সময়ের আগে টুইটারে অশোক পণ্ডিতের একটি হিন্দি বার্তা ব্যাপকভাবে ট্রেন্ডিং। যার সারমর্মটা হল, যে পাকিস্তানে ক্রিকেট খেলাটা সীমান্তে এবং সন্ত্রাস হামলায় যারা মারা গিয়েছেন তাদের কাছে একটা অপমানের এবং ভারতের উচিত সেখানে না খেলা। এই ধরণের বক্তব্য নিরপেক্ষ সমর্থন পায়।

বিরাট এবং তার দল যদি সেখানে গিয়ে মাঠ ছাড়ার পরিবর্তে বিরোধীদের মারধর করে, তা হলে এটা কি আরও বেশি স্যালুট পাওয়ার যোগ্য হবে না? সৈন্যরা যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে যায় না, তাই না? বিশ্বের একমাত্র পরিবার থেকে উঠে আসা চার আসল ভাই জেনারেলের পতাকা নিয়ে প্রকৃত জায়গায় পৌঁছেছেন। এক এক ভাষায় বলতে গেলে যা দেশত্যাগের সমতুল্য।

তারা বলে স্যাম ম্যানেকশো বলেছিলেন আপনি হয় জিতুন অথবা আপনি যুদ্ধক্ষেত্রে চেষ্টা করে মারা যাবেন, কিন্তু আপনি যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যাবেন না এবং পবিত্রতার পিছনে লুকিয়ে থাকবেন না।

কেন এই প্রস্তাবকে আরও জনপ্রিয় ও কুৎসিত করা হল, কারণ এটি একটি বিসিসিআইয়ের আয়োজিত ইভেন্ট। যা সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং আইসিসির মধ্যস্থতায় করা হলেও আমরা পাকিস্তানকে হতাশ করিনি বা আমরা একতরফাভাবে তা করতে পারবও না।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকার ভারতকে পরাজিত করলে তাদের দলকে ব্ল্যাঙ্ক চেক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। হয়তো আমাদের তাঁর টাকা বাঁচাতে সাহায্য করা উচিত। অতীতে পাঁচ বার চেষ্টা করেও পাকিস্তান কখনও আমাদেরকে হারাত পারেনি এবং তাদের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শারজা স্টেডিয়ামে কাজ করার সময় এক ঘটনার সাক্ষী হতে পেরেছিলাম যেখানে, ১৯৮৬ সালে এক ম্যাচে শেষ বলে জাভেদ মিঁয়াদাদের ছয়ে প্রয়োজন ছিল। আমি বিশ্বাস করতে পারি না যে এক কিংবদন্তি সেটা করতে পারেন। ভারতীয় প্লেয়াররা শেষ মুহূর্ত অবধি কোনও চমৎকারের সন্ধানে থাকে। ২০০৭ সালে ইনজামাম উল হকের শেষ বলে ভারত জিতেছিল। ঢাকাতে ২০১৬ সালে আমরা ওদের ৮৩ রানে অল আউট করেছিলাম। ভারত আসলে আইসিসি আয়োজিত ১৭টি টুর্নামেন্টের মধ্যে ১৪টিতে জিতেছিল। ১৯৯২ সালে আমরা ৪৩ রানে জিতেছিলাম। ১৯৯৬ সালে ৩৯ রানে আমরা জয় পেয়েছিলাম। ১৯৯৯ সালে ৪৭ রানে আমরা জয় অর্জন করেছিলাম। ২০০৩ সালে ৬ উইকেটে সহজ জয় হাসিল করেছিলাম। ২০০৭ সালের ফাইনালে মাত্র ছয় রান বাকি থাকতে মিসবা শ্রীসন্থকে ক্যাচ দিয়েছিলেন, সেই মুহূর্তটি মনে রাখার মতো। ২০১১ সালে আমরা ২৯ রানে জয়ী হই। ২০১২ এবং ২০১৩ সালে আমরা ৮ উইকেটে জয়ী হয়েছিলাম। ২০১৪ সালে আমরা ৭ উইকেটে জিতেছিলাম। ২০১৫ সালে আমরা ৭৬ রানে জয়ী হয়েছিলাম। ২০১৬ সালে আমরা ছয় উইকেটে ওদের হারাই এবং ২০১৭ সালে আমরা ১২৪ রানে জয়ী হয়েছিলাম। ২০১৯ সালে আমরা ওদের ৮৯ রানের ব্যবধানে হারিয়েছিলাম। টি-২০ কেমন যেন সার্কাস হতে থাকছে, সমস্যাটা এখানেই। এই নিয়ে কাজ করে বেশি লাভ নেই। আমরা ক্রমাগত ক্রিকেট খেলে আসছি এবং যার ফল পাচ্ছি। পাকিস্তান আমাদের মতো ক্রিকেট কোথাও খেলেনি। সীমান্তে থাকা প্রতিটি সৈনিক বলবে চলো আবার আমরা জয়ী হয়ে আসি। মাঠ ছেড়ে পালানোর কোনও মানে হয় না। এমনকি যদি আমরা হেরে যাই, তাহলে কি? এটি কেবল ১৭ থেকে ৪ করে দেবে, তাই এখনও অনেক দূর যেতে হবে।

ওহ, প্রকৃতপক্ষে, এখন একেবারেই প্রাসঙ্গিকতা ছাড়াই খেলাধুলার সাথে রাজনীতিকে মেশানোই যেন সেই চাবিকাঠি। খেলাধুলা এখন বিশুদ্ধ রাজনীতি। সুতরাং, যতটা ভালো এটা মনে হচ্ছে তার মধ্যে পবিত্রতার মাত্রা শূন্যে। এই কারণেই এই ধরনের একটি টুইট মনোযোগ পেতে পারে। আমাদের সমস্যা হল আমরা পাকিস্তান ক্রিকেটকে এবং এই বিষয়টাকে সামলানো নিয়ে খুব বেশি গুরুত্ব দিই। তাদের সমস্যা হল তারা সব যুদ্ধ এবং সংঘাতই বিশেষ করে ১৯৭১ সালের ক্ষত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই কারণেই সব সময় একটা যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এই ধরণের খেলনা ম্যাচের যেখানে ক্রিকেটাররা কিছু মজা পায় এবং বিনোদনের জন্য অর্থ পায় তার সঙ্গে আমাদের সৈনিকরা যেভাবে দাঁড়িয়ে থাকে এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়েও দায়িত্ব পালন করে তা নিয়ে কোনও তুলনা হওয়ারই নয়। প্লেয়াররা খেলার শেষে করমর্দন করেন। একে অপরকে সাধুবাদ জানায়। সৈনিকরা মৃতদের শেষবারের জন্য স্যালুট জানায়। তাঁদের পতাকা দিয়ে মুড়িয়ে দেয়। ফলে এই ম্যাচকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে ছোট করবেন না। এটা শুধু ব্যাট-বলের খেলা। ফলে যান, খেলুন। হারুন বা জিতুন পরের দিন এটা ভুলে যান।

কুলভূষণ যাদবের স্বাধীনতার জন্য আমরা একটি খেলাকে যদি ব্যবহার করি, তা হলে কলিং কার্ড হিসেবে আমাদের ক্রিকেটকে ব্যবহার করা উচিত। কিন্তু তারপরও আমাদের মনে নেই যে তিনি এখনও কারাগারেই আছেন।

এবং আমরা এমনকি পাত্তাও দিই না।

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla