চমকপ্রদ উত্থানের কেন্দ্রে যে নায়করা

Tokyo Olympics 2020: একঝাঁক তরুণের দাপট ও অভিজ্ঞতার মিশেলে ভারতের সাফল্য এল। জেনে নিন ব্রোঞ্জজয়ী ভারতের হকির তারকাদের....

চমকপ্রদ উত্থানের কেন্দ্রে যে নায়করা
চমকপ্রদ উত্থানের কেন্দ্রে যে নায়করা (সৌজন্যে-হকি ইন্ডিয়া টুইটার)

সঙ্ঘমিত্রা চক্রবর্তী

অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে এই ভারতীয় হকি দল যে ভারতের ৪১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাবে, তা হয়ত অনেকেই কল্পনা করেনি। টোকিও অলিম্পিকের (Tokyo Olympics) জন্য দল ঘোষণার সময় থেকেই সকলের উৎসাহ ছিল ভারতীয় পুরুষ হকি দলের ওপর। গ্রাহাম রিডের কোচিংয়ে মনপ্রীত-হার্দিকরা আজ টোকিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতেছে। বিশ্বাস হতে না চাইলেও এটাই সত্যি। লক্ষ্মীবারে ভারতের লক্ষ্মীলাভ হল একথা না মেনে উপায় নেই। একঝাঁক তরুণের দাপটে ভারতের সাফল্য এল। জেনে নিন ব্রোঞ্জজয়ী ভারতের হকির তারকাদের….

মনপ্রীত সিং (Manpreet Singh) (অধিনায়ক): পঞ্জাবের ছেলে মনপ্রীতের ১৯ বছর বয়সে জাতীয় দলে অভিষেক হয়। জুনিয়র বিশ্বকাপে জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের ফাঁক ফোঁকর খুঁজে বের করতে ওস্তাদ। আর তাঁর থ্রু তো অসাধারণ। এই নিয়ে তৃতীয় বার অলিম্পিকে অংশ নিলেন তিনি।

পিআর শ্রীজেশ (PR Sreejesh) (গোলকিপার): ভারতীয় পুরুষ হকি দলের সব থেকে অভিজ্ঞ ও সিনিয়র প্লেয়ার শ্রীজেশ। ২০০৬ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক কেরলের শ্রীজেশের। ২০১৬ সালে ভারতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। গোলকিপার হিসেবে সব সময় নিজের সেরাটা দিয়ে বিপক্ষের গোল আটকে দিয়ে ভারতকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তাঁর ঝুলিতে একাধিক পদক থাকলেও ছিল না অলিম্পিক পদক। লন্ডন, রিও অলিম্পিকের পর অবশেষে টোকিও অলিম্পিকে স্বপ্নপূরণ হল শ্রীজেশের।

হরমনপ্রীত সিং (Harmanpreet Singh): এটা তাঁর দ্বিতীয় অলিম্পিক। রিও অলিম্পিকে ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন তিনি। ২০১৬ জুনিয়র বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন হরমনপ্রীত সিং। সেখান থেকে সিনিয়র দলে সুযোগ। তারপর ভারতীয় দলের নিয়মিত সদস্য। ড্র্যাগফ্লিকে দক্ষ ও ডিফেন্সে অত্যন্ত শক্তিশালী প্লেয়ারদের মধ্যে একজন হলেন হরমনপ্রীত। পেনাল্টি কর্নার বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম তিনি।

রুপিন্দর পাল সিং (Rupinder Pal Singh): পঞ্জাবের রুপিন্দরের জাতীয় দলে অভিষেক ২০১০ সালে। রিওর পর টোকিও রুপিন্দরের দ্বিতীয় অলিম্পিক। তিনি দলের এমনকি বিশ্বের সেরা ড্র্যাগ ফ্লিকার বলে পরিচিত। তাঁর ডিফেন্সিভ স্কিল যে কাউকে চমকে দেওয়ার মতো। উচ্চতাকেও বিশেষভাবে কাজে লাগান তিনি।

সুরিন্দর কুমার (Surender Kumar): ২০১৩ সালে হরিয়ানার ছেলে সুরিন্দর কুমারের জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়। ভারতীয় ডিফেন্সের মূলস্তম্ভ সুরিন্দর। হকি ইন্ডিয়া লিগের মাধ্যমে নজর কাড়েন তিনি। রিও অলিম্পিকের ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন তিনি।

বীরেন্দ্র লাকরা (Birendra Lakra): ওড়িশার বীরেন্দ্রর জাতীয় দলে অভিষেক ২০১২ সালে। টোকিও অলিম্পিকে তিনি ভারতীয় দলের সহ-অধিনায়ক ছিলেন। ২০০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলেছেন তিনি। লন্ডন অলিম্পিকে ভারতীয় দলের অংশ ছিলেন। কিন্তু হাঁটুর চোটের অস্ত্রোপচারের জন্য রিও অলিম্পিকে অংশ নিতে পারেননি।

অমিত রুহিদাস (Amit Rohidas): ২০১৩ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হলেও প্রথম দিকে নিয়মিত সদস্য ছিলেন না ওড়িশার অমিত। তাঁকে প্রায় ৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। নানা বড় ইভেন্টে ডিফেন্সে নিজেকে প্রমাণ করতে করতে অবশেষে সুযোগ পান তিনি। এটাই তাঁর প্রথম অলিম্পিক।

হার্দিক সিং (Hardik Singh): পঞ্জাবের ২২ বছর বয়সী হার্দিক সিংয়ের অলিম্পিক অভিষেক হল টোকিওয়। তাঁর পরিবারের সদস্যরা হকির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হার্দিকের জাতীয় দলে অভিষেক ২০১৮ সালে। খুব কম সময়েই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন তিনি। টোকিও অলিম্পিকে একের পর এক ম্যাচে গোল করে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে কোথায় নেই হার্দিকের গোল। ভয়ডরহীন ছেলেটা টোকিওর পারফরম্যান্সে সকলের মনে ছাপ ফেলে দিল।

বিবেক সাগর প্রসাদ (Vivek Sagar Prasad): মধ্যপ্রদেশের বিবেকের জাতীয় দলে অভিষেক ২০১৮ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে। এটাই তাঁর প্রথম অলিম্পিক। অত্যন্ত প্রতিভাবান মিডফিল্ডার। অত্যন্ত গতিময় ও বল নিয়ন্ত্রনে রাখতে দক্ষ। ঠাণ্ডা মাথায় বিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করতে ওস্তাদ।

নীলকান্ত শর্মা (Nilakanta Sharma): মনিপুরের ছেলে নীলকান্ত শর্মার জাতীয় দলে অভিষেক ২০১৭ সালে। এটাই প্রথম অলিম্পিক সফর ভারতীয় মিডফিল্ডার নীলকান্তর। জুনিয়র বিশ্বকাপজয়ী দল ও ২০১৮ সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলের সদস্য ছিলেন তিনি।

সুমিত কুমার (Sumit Kumar): হরিয়ানার সোনেপত থেকে লড়াই করে উঠে আসা সুমিত কুমারের অলিম্পিক অভিষেক হল টোকিওতে। ২০১৬ সালের জুনিয়র বিশ্বকাপ দলের সদস্য ছিলেন তিনি। জাতীয় দলে অভিষেক ২০১৭ সালে। দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে কঠোর পরিশ্রমী সুমিত জায়গা করে নিয়েছেন ভারতীয় দলে।

শমশের সিং (Shamsher Singh): পঞ্জাবের আটারি গ্রাম থেকে উঠে আসা শমশের সিং মাত্র ১০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলেছেন। এটাই তাঁর প্রথম অলিম্পিক সফর। কেরিয়ারের শুরুতেই অলিম্পিকে মতো বড় মঞ্চে সুযোগ পাওয়া শমশের সকলকে চমকে দিয়েছেন।

দিলপ্রীত সিং (Dilpreet Singh): পঞ্জাবের দিলপ্রীত সিংয়ের জাতীয় দলে অভিষেক ২০১৮ সালে। কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান গেমস ও বিশ্বকাপে নজর কাড়া পারফরম্যান্সের সুবাদে অলিম্পিকেও দলে থাকার সুযোগ পান দিলপ্রীত। টোকিওতেই অলিম্পিক অভিষেক হয় পঞ্জাবের ছেলের।

গুরযন্ত সিং (Gurjant Singh): পঞ্জাবের ছেলে গুরযন্ত সিংয়ের টোকিওতে অলিম্পিক অভিষেক হল। জাতীয় দলে অভিষেক ২০১৭ সালে। জুনিয়র এশিয়া কাপ ও জুনিয়র বিশ্বকাপে সোনাজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি।

সিমরনজিৎ সিং (Simranjeet Singh): ২৪ বছর বয়সী পঞ্জাবের সিমরনজিৎ সিংয়ের অলিম্পিক অভিষেক হল টোকিওতে। এবারের অলিম্পিকে দলের হয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন সময় গোল করে জয়ের দিকে এগিয়ে দিয়েছিলেন এই পঞ্জাব তনয়। ২০১৮ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হয়। এই মিডফিল্ডারের দাদা গুরযন্ত সিংও টোকিও অলিম্পিকের ব্রোঞ্জজয়ী দলের সদস্য।

অলিম্পিকের আরও খবর পড়তে ক্লিক করুনঃ টোকিও অলিম্পিক ২০২০

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla