শুক্রগ্রহে ‘যমজ’ অভিযান চালাবে নাসা, ঘোষণা মার্কিন স্পেস এজেন্সির

এই অভিযানে নাসাকে ইনফ্রারেড ম্যাপার দিয়ে সাহায্য করবে জার্মান এরোস্পেস সেন্টার। অন্যদিকে, ইতালিয়ান স্পেস এজেন্সি এবং ফ্রান্সের Centre National d'Etudes Spatiales র‍্যাডার এবং যন্ত্রাংশ দেবে মার্কিন স্পেস এজেন্সিকে।

শুক্রগ্রহে ‘যমজ’ অভিযান চালাবে নাসা, ঘোষণা মার্কিন স্পেস এজেন্সির
শুক্রগ্রহে দু'টি অভিযান চালাবে নাসা।

চাঁদ এবং মঙ্গলের পর এবার ভেনাস অর্থাৎ শুক্র গ্রহে অভিযান চালাবে মার্কিন স্পেস এজেন্সি। তাও আবার একটা নয়, একেবারে জোড়া অভিযান। এই দশকের শেষের দিকে এই দু’টি অভিযান শুরু করবে নাসা। পৃথিবীর সবথেকে কাছে রয়েছে শুক্র গ্রহ। এবার সেখানেই উঁকিঝুঁকি দেবে নাসা। জানার চেষ্টা করবে ভেনাস বা শুক্র গ্রহ আসলে কেমন। সেখানে কী কী রয়েছে। বিল নেলসন, নাসার নতুন অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জানিয়েছেন, “এই দুটো অভিযানেরই (টু সিস্টার মিশনস) লক্ষ্য হল এটা জানা যে, কীভাবে শুক্রগ্রহ নরকরূপী পৃথিবীতে পরিণত হয়েছিল।” বিল নেলসন আরও জানিয়েছেন, নাসার এই দুই অভিযান সমগ্র বিজ্ঞান সম্প্রদায়কে এমন এক গ্রহের ছানবিনের সাক্ষী থাকার সুযোগ দেবে, যেখানে বিগত ৩০ বছরে কেউ যায়নি।

নাসার ডিসকভারি প্রোগামের আওতায় থাকবে এই দু’টি অভিযান। এর খরচ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ৩৬৫০ কোটি টাকার কাছাকাছি। সূত্রের খবর, ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এই দু’টি অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন স্পেস এজেন্সি নাসার। এই মিশনের প্রধান হল ‘DAVINCI+’। এর অর্থ হল Deep Atmosphere Venus Investigation of Noble gases, Chemistry, Imaging। শুক্র বা ভেনাস কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল, এর বায়ুমণ্ডলে কী কী উপাদান (মূলত কার্বন-ডাই-অক্সাইড উপস্থিত) রয়েছে, এইসব তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে এর মাধ্যমে।

ভেনাসে আদৌ কোনওদিন কোনও সমুদ্র ছিল কি না, সে ব্যাপারেও সন্ধান করা হবে নাসার এই মিশনে। ভেনাস অর্থাৎ শুক্র গ্রহের বায়ুমণ্ডল যথেষ্টই ঘন। সেখানে রয়েছে সালফিউরিক অ্যাসিড মিশ্রিত মেঘ। এই ঘন বায়ুমন্ডল এবং সালফিউরিক অ্যাসিড মিশ্রিত মেঘ থাকার কারণ জানার চেষ্টা চালানো হবে নাসার দু’টি অভিযানের মাধ্যমে। এ ছাড়াও ভেনাসের বায়ুমণ্ডলে অন্যান্য কী কী গ্যাস রয়েছে এবং এমন কী কী উপাদান রয়েছে যেগুলো গ্রিন হাউসের প্রভাব বাড়াতে পারে, সেগুলোও জানার চেষ্টা করা হবে নাসার এই যমজ অভিযানে।

DAVINCI+ শুক্র গ্রহের প্রাকৃতিক গঠনের ছবিও পাঠাবে পৃথিবীতে। আসলে পৃথিবীর মতো বেশ কিছু প্রাকৃতিক গঠন রয়েছে ভেনাসে। যার থেকেই অনুমান করা হয়, সম্ভবত শুক্র গ্রহেও ‘পাত সংস্থান তত্ত্ব’- এর মতামত প্রযোজ্য। এটাই আদৌ সত্যি কি না তা যাচাই করে দেখা হবে। এছাড়া ওইসব ছবি দেখে বিজ্ঞানীরা বোঝার চেষ্টা করবেন ভেনাসে ঠিক কী কী টোপোগ্রাফি রয়েছে।

নাসার আর একটি অভিযান হল VERITAS। এর সাহায্যে Venus Emissivity, Radio Science, InSAR, Topography, Spectroscopy বোঝার চেষ্টার করা হবে। শুক্রগ্রহের জিওলজিক্যাল হিস্ট্রি অর্থাৎ গঠন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা হবে এই অভিযানের মাধ্যমে। অরবিট থেকে র‍্যাডারের সাহায্যে একটি থ্রিডি ম্যাপ তৈরি করে বিভিন্ন টোপোগ্রাফি এবং গঠন দেখে বোঝার চেষ্টা করা হবে যে ভেনাসে আদৌ কোনও আগ্নেয়গিরি রয়েছে কি না। তা থেকে এখনও অগ্ন্যুৎপাত হয় কি না। এর পাশাপাশি ভূমিকম্পের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে। খুটিয়ে দেখে হবে পাথরের গঠন-প্রকৃতি।

আরও পড়ুন- হারিকেন ডোরিয়ান, মহাকাশ থেকে কেমন দেখতে লাগে এই ঝড়? ছবি শেয়ার করল নাসা

এই অভিযানে নাসাকে ইনফ্রারেড ম্যাপার দিয়ে সাহায্য করবে জার্মান এরোস্পেস সেন্টার। অন্যদিকে, ইতালিয়ান স্পেস এজেন্সি এবং ফ্রান্সের Centre National d’Etudes Spatiales র‍্যাডার এবং যন্ত্রাংশ দেবে মার্কিন স্পেস এজেন্সিকে।