রাষ্ট্রদ্রোহে অভিযুক্ত গুরুংকে এসকর্ট করল কেন পুলিস? প্রশ্ন বিরোধীদের

বিজেপির সাংসদ সৌমিত্র খাঁ শিলিগুড়িতে দাঁড়িয়েই প্রশ্ন তোলেন, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় অভিযুক্ত গুরুং। তাঁকে এসকর্ট করে নিয়ে গেল কেন পুলিস?

রাষ্ট্রদ্রোহে অভিযুক্ত গুরুংকে এসকর্ট করল কেন পুলিস? প্রশ্ন বিরোধীদের
বিমল গুরুং

শিলিগুড়ি: অনেকদিন পর মুক্ত মঞ্চে। সামনে হাজার হাজার কালো মাথা। ফের পুরনো মেজাজে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং (Bimal gurung)। আর এ সব কিছু সম্ভব হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) জন্যই। প্রকাশ্যে এমনটাই দাবি করেছেন ইউএপিএ মামলায় অভিযুক্ত বিমল গুরুং। শিলিগুড়ির গান্ধী ময়দানে গুরুংয়ের এই সভা নিয়ে সমালোচনার ঝড় তোলেন বিরোধীরা। বিজেপির কটাক্ষ, ভোটের জন্য নীচে নেমে গিয়েছেন
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিজেপির সাংসদ সৌমিত্র খাঁ শিলিগুড়িতে দাঁড়িয়েই প্রশ্ন তোলেন, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় অভিযুক্ত গুরুং। তাঁকে এসকর্ট করে নিয়ে গেল কেন পুলিস? তাঁর আরও তোপ, মুখ্যমন্ত্রী বাংলা ভাগ চাইছেন কিনা স্পষ্ট করুন। ইউএপিএ ধারায় পুলিস মামলা করেছে। আর সেই পুলিসই আবার এসকর্ট করছে। এটা বাংলার লজ্জা। পুলিস কমিশনার এর উত্তর দিন। বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তৃণমূলের দালাল পুলিস। সংবিধান, আইনের শাসন কিছুই মানছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়।

এদিন সভামঞ্চ থেকে আরও একবার বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়ান বিমল গুরুং। বিজেপিকে ‘বিশ্বাসঘাতক’-এর তকমা দেন এই মোর্চা নেতা। বলেন, “বিজেপি আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমাদের পৃথক রাজ্যের দাবি ছিল। বারবার দিল্লিতে ওদের কাছে গিয়েছি। নেতা, মন্ত্রীদের সামনে দরবার করেছি। কিন্তু আমাদের পাত্তা দেওয়া হয়নি। আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।” এই মঞ্চ থেকেই গুরুং হুঁশিয়ারি দেন উত্তরবঙ্গ জুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবে মোর্চা। তৃণমূলের সঙ্গে থেকে এই লড়াই লড়বে। গুরুং বলেন, “উত্তরবঙ্গে প্রতিটা আসনে আমরা তৃণমূলকে জেতাব। এই লড়াই আমাদের নিজেদের গোর্খাল্যান্ডের দাবির প্রতি লড়াই।”

 আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর জন্যই আজ আমি এখানে, তৃণমূলকে জেতাব, গোর্খাল্যান্ডও হবে: গুরুং

গুরুং এর সভা নিয়ে সায়ন্তন বসুর আক্রমণ, মোর্চা নেতারা বলছেন বিজেপি প্রতিশ্রুতি রাখেনি। তারাই বলছে তৃণমূলের সঙ্গে তারা থাকবে। এবার মুখ্যমন্ত্রী বলুন কি চান। আর বাংলার মানুষ ঠিক করুন তাঁরা কি করবেন। কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীর কটাক্ষ, পাহাড় যখন অশান্ত ছিল তখন মুখ্যমন্ত্রী গুরুংকে দেশবিরোধী আখ্যা দিয়েছিলেন। এখন ভোটে জেতার অপেক্ষায় গুরুংকে সঙ্গে নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য আল-কায়েদা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গেও আন্ডারস্ট্যান্ডিং করে নেবেন।