চরম আর্থিক দুরবস্থায় ‘খেলা হবে’ গানের ডিজে, চাইছেন সহায়তা

২০২১ সালের ৯ জানুয়ারি তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে এই গান পোস্ট করার পর ২৫ মিলিয়ন দর্শকের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার দর্শকদের কাছ প্রশংসিত হয়েছে তাঁর মিক্সিং, জুটেছে 'ডিজে আমিন' পরিচিতি। কিন্তু প্রচারের আলোয় মেটেনি অর্থিক অনটন।

চরম আর্থিক দুরবস্থায় 'খেলা হবে' গানের ডিজে, চাইছেন সহায়তা
নিজস্ব চিত্র

বীরভূম: ‘খেলা হবে’ ( Khela Hobe)। একুশের বঙ্গ ভোটের ময়দানে যখন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতাদের অহরহ যাতায়াত, রাজ্যের শাসক দলের শীর্ষ নেতাদের মুখে শোনা গিয়েছে এই শব্দবন্ধ। খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় প্রতিটি সভায় বলেছেন ‘খেলা হবে’। আবার সেই স্লোগান নিয়ে ডিজে (DJ) গানের তালে তৃণমূল তো বটেই নাচতে দেখা গিয়েছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদেরও। সেই ডিজে গানের স্রষ্টা যিনি, যাঁর ডিজে মিক্সিংয়ের ছন্দে পা মিলিয়েছে শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের শাসক দলের কর্মী-সমর্থকেরা, করোনা ও লকডাউনের কোপে তিনি আর্থিক ভাবে বিপর্যস্ত। চারজনের সংসার নিয়ে আকুলপাথারে পড়েছেন যুবক মহম্মদ আমিন।

একুশের বিধানসভার নির্বাচনে প্রচার দিক দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার প্লাটফর্মে সবচেয়ে বড় ‘ট্রেন্ডিং’ তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যের লেখা ‘খেলা হবে’ স্লোগান। সেই স্লোগানের সঙ্গে মিক্সিংয়ের কারুকাজ করে ব্যাপক ভাবে যিনি ছড়িয়ে দেন, তাঁর নাম মহম্মদ আমিন। ‘মমতাদি আর একবার’ গানকে ছড়িয়ে দেওয়া এই আমিন গত দেড় বছর ধরে বেকার। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী-সহ সংসারের চার সদস্যের মুখে দু’বেলা খাবার তুলে দিতেই হিমশিম খাচ্ছেন পেশায় রাজমিস্ত্রি, হাঁসন বিধানসভার অন্তর্গত তারাপীঠ থানার নিমপখুড়িয়ার বাসিন্দা মহম্মদ আমিন।

২০২১ সালের ৯ জানুয়ারি তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে এই গান পোস্ট করার পর ২৫ মিলিয়ন দর্শকের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার দর্শকদের কাছ প্রশংসিত হয়েছে তাঁর মিক্সিং, জুটেছে ‘ডিজে আমিন’ পরিচিতি। কিন্তু প্রচারের আলোয় মেটেনি অর্থিক অনটন। পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা চার। আর রোজগেরে সদস্য তিনি একা। মা, স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে চারজনের সংসার আমিনের। করোনা পরিস্থিতিতে কোনও আয় নেই এই রাজমিস্ত্রির।

আমিন এখন চাইছেন কোনও একটা কাজ। পাশাপাশি দেবাংশুর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা তাঁর। এদিকে আমিনের এই দুরবস্থার কথা শুনে তাঁর এলাকার তৃণমূল সমর্থকরা জানাচ্ছেন, হাঁসন বিধানসভা দলের জয়ে আমিনের ডিজে গানেরও ভূমিকা রয়েছে। তবে তাঁরা স্বীকার করেছেন, তেমন ভাবে সাহায্য করেতে পারেননি গ্রামের ডিজে আমিনকে। তবে বিষয়টি শীর্ষ নেতৃত্বের কানে তুলবেন।

আরও পড়ুন: ‘সন্ধির’ পথে শতাব্দী-অনুব্রত! ৩ বছর পর জেলা কমিটির বৈঠকে উপস্থিত দুই নেতৃত্ব 

এখন আমিনের পরিস্থিতির কথা শুনে এগিয়ে এসেছেন গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা। কেউ কেউ ভিডিয়ো ও ভয়েস ও বিভিন্ন সাউন্ড মিক্সংয়ের বরাত দিচ্ছেন তাঁকে। কিন্তু এতে অভাব যে মিটছে না, জানান ‘খেলা হবে’-র ডিজে আমিন।

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla