Arambagh Potato Farming: বিঘার পর বিঘা জমি ভরেছে জলে, দুশ্চিন্তার ভাঁজে নিজেদের সর্বনাশ দেখছেন ওঁরা!

Hooghly: রাজ্যে প্রতি মাসে পাঁচ লক্ষ টন আলু লাগে। ভিন্‌ রাজ্যে যায় প্রায় এক লক্ষ টন। নতুন আলু এখনও ওঠেনি। অন্তর্বর্তী সময়ে রাজ্যের মানুষের জন্য ওই আলু প্রয়োজন।

Arambagh Potato Farming: বিঘার পর বিঘা জমি ভরেছে জলে, দুশ্চিন্তার ভাঁজে নিজেদের সর্বনাশ দেখছেন ওঁরা!
ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা, নিজস্ব চিত্র

হুগলি: একের পর এক ঝড়ঝঞ্ঝার কোপ। প্লাবন। করোনার প্রাদুর্ভাব। বিপদের অন্ত নেই। বিপদে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চাষিরা। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় এ বার ফের আতঙ্কিত আলু চাষিরা (Potato Farmer)। কারণ? অকাল বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখছেন তাঁরা।

আলুচাষিরা জানাচ্ছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাসও রয়েছে। ইতিমধ্যেই বিস্তীর্ণ আলু জমিতে  জল জমতে শুরু করেছে। যদি আরও বৃষ্টিপাত বাড়ে তাহলে ক্ষতির মুখে পড়বেন তাঁরা। কারণ, এক মাস আগেই অকালবর্ষণে  নষ্ট হয়ে গিয়েছিল বিঘার পর বিঘা জমি। ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে এ বার অভাবের মুখে পড়তে চলেছেন তাঁরা।

কেউ সমবায় সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছেন, কেউ  বা মহাজনী প্রথায় চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বীজ কিনেছেন। এখন, ফলন নষ্ট হলে ঋণশোধ তো দূরের কথা, বীজের দামটুকুও পাবেন না তাঁরা। গোঘাটের এক আলুচাষির কথায়, “সমবায় থেকে ধার করেছিলাম, চাষের জন্য। সেই টাকা সুদ সমেত কেটে নিল। এখন শুনছি সে টাকা নাকি কোম্পানির ঘরে গিয়েই পৌঁছয়নি। তারপরে আবার এই বৃষ্টি। আমাদের তো একূল-ওকূল দুইকূল গেল!”

অন্য আরেক আলুচাষি বলছেন, “মরসুমেই যা একটু চাষাবাদ করতে পারি। নিজের জমি তো নেই। ভাগচাষে কাজ করি। এরমধ্যে যদি, এভাবে চাষের ক্ষতি হয়, তাহলে আমাদের পেটে দানাপানি না দিয়ে মরতে হবে।”

শুধু আরামবাগ নয়, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার আলুচাষিদের পরিস্থিতিও একই। তাঁরাও আশঙ্কা করছেন, এ বছর হয়ত লাভের অঙ্ক দূর, সামান্য চাষের খরচটাও তুলতে পারবেন না।

ইতিমধ্যেই জমি থেকে জল বের করতে উঠে পড়ে লেগেছেন চাষিরা। কিন্তু, তাতেও কি ফলন বাঁচানো সম্ভব হবে? কৃষকদের একাংশ যদিও বলছেন, যতটুকু বাঁচানো যায়, ততটুকুই লাভ।

কৃষকের ক্ষতিপূরণের প্রসঙ্গে আবার কোনও কোনও মহল থেকে বলা হচ্ছে ফসল বিমার কথা। এই পরিস্থিতিতে বাংলার কৃষকেরা বলছেন, মুখে দরদ দেখালেও, আসলে কোনও সরকারই তাদের পাশে নেই। এলাকার আলু চাষিদের দাবি, সরকার তাঁদের আলু বীজ ও রাসায়নিক সার দিয়ে সহযোগিতা করুক। তাহলে তাঁরা নতুন করে আলু চাষ করতে পারবেন। এই সব দাবিদাওয়ার মাঝেই নতুন করে বৃষ্টিতে অশনী সঙ্কেত দেখছেন চাষিরা।

একদিকে ফলনের ক্ষতি, অন্যদিকে বীজের চড়া দাম, সারের কালোবাজারি, কোনদিকে যাবেন আলুচাষিরা? কৃষকদের অভিযোগ, সারের বস্তায় যে দাম লেখা রয়েছে, তার থেকে অনেক বেশি দামে সেই সার কিনতে হয়েছে তাঁদের। ভেবেছিলেন আলুর ফলন ভাল হবে, সে চাপে নিস্তার মিলবে। কিন্তু অকাল বৃষ্টি সবকিছুই কেড়ে নিল। পরিস্থিতি এমনই যে, এ বার অনেক আলুচাষিরাই ভাবছেন চাষ থেকেই সরে আসবেন।

প্রশ্ন উঠছে, চাষিরা যদি আলু চাষ কমিয়ে দেয় তাহলে ফলন হবে কীভাবে? আর তা যদি না হয় তা হলে ফের আলুর বাজার অগ্নিমূল্য হবে। আলুটুকুও যদি মধ্যবিত্তের পাতে তুলতে ছ্যাঁকা খেতে হয়, তা হলে হেঁশেল চলবে কী করে! রাজ্যে প্রতি মাসে পাঁচ লক্ষ টন আলু লাগে। ভিন্‌ রাজ্যে যায় প্রায় এক লক্ষ টন। নতুন আলু এখনও ওঠেনি। অন্তর্বর্তী সময়ে রাজ্যের মানুষের জন্য ওই আলু প্রয়োজন। ফলে, আলু যত দ্রুত ফলে তত ভাল। নয়ত পড়ে যোগানের অভাব দেখা দিতে পারে। তার প্রভাব সরাসরি পড়বে বাজারে এমনটাই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

আরও পড়ুন: বুধে বঙ্গে বৃষ্টির দামট, উধাও শীত, সপ্তাহান্তে ‘হাওয়া বদল’…কী বলছেন আবহবিদরা?

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla