Arjun Singh: প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ নীচুতলার বিজেপি কর্মীদের হতাশ করে, দাবি অর্জুন সিংয়ের

PM-CM Meet: চলতি সপ্তাহেই দিল্লি সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Arjun Singh: প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ নীচুতলার বিজেপি কর্মীদের হতাশ করে, দাবি অর্জুন সিংয়ের
প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক নিয়ে অন্য সুর অর্জুন সিংয়ের গলায়। ফাইল ছবি।


উত্তর ২৪ পরগনা: দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক নিয়ে অন্য সুর শোনা গেল বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের গলায়। এই বৈঠক নিয়ে অখুশি ব্যারাকপুরের এই নেতা। অর্জুনের দাবি, এতে নীচু তলার বিজেপি কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়বেন।

অর্জুন সিং বলেন, “আমার মনে হয় যে দুর্নীতির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে সরকার চালান, প্রধানমন্ত্রীর এ বিষয়ে বিচার করা উচিৎ। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উনি বৈঠক করতে যান নিজের ভাইপোকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু এতে আমাদের মধ্যে একটা হতাশা কাজ করে। আমরা নীচু তলার কর্মী। আমাদের একটু খারাপ তো লাগেই। এখানে আমরা মার খাচ্ছি। ওখানে উনি গিয়ে দরবার করছেন।”

একই সঙ্গে যে বিজনেস সামিট নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় রাজ্যের কাছে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি করেছেন, সেখানে প্রধানমন্ত্রী যদি আসেন তাও বিজেপির সাধারণ কর্মীদের হতাশা বাড়াবে বলেই দাবি করেন অর্জুন সিং।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি চারদিনের দিল্লি সফরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে গিয়ে বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে আসেন মমতা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যে এগোলে দেশও এগোবে। সেই জন্য আগামী বছর এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গে যে বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন হবে, সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। করোনার কারণে বাণিজ্যের অবস্থা খারাপ। তাই কেন্দ্র-রাজ্য মিলে একটা সম্মেলন করলে, তা ভাল। আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ, বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনে এই আমন্ত্রণে মূলত দুটি কারণ খুঁজে পাচ্ছেন। প্রথমটি রাজনৈতিক। দ্বিতীয়টি প্রশাসনিক। রাজনৈতিক কারণ বলতে, এখন নিজের দলের সম্প্রসারণের পথে হাঁটছেন মমতা। আর সেখানে বার বার ত্রিপুরায় গিয়ে বাধা পেতে হচ্ছে মমতার দলকে। যে অভিযোগটা বিজেপি বাংলায় করে আসছে এতদিন ধরে, এখন ত্রিপুরায় গিয়ে সেই ধাক্কাটাই খেতে হচ্ছে তৃণমূলকে। আর সেই কারণেই কি কোনও একটা রাজনৈতিক বোঝাপড়ার দিকে আসতে চাইছেন মমতা? সেই জন্যই কি মোদীকে একেবারে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে গিয়ে আমন্ত্রণ? এমনই একগুচ্ছ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।

সিঙ্গুর থেকে টাটাকে কার্যত উচ্ছেদ করে বাংলার তখ্তে এসেছিলেন মমতা। তখন থেকেই মমতার বিষয়ে একটি শিল্পবিরোধী ভাবমূর্তি ভীষণভাবে প্রকট হয়ে উঠেছিল। রাজ্যের তরফে শিল্প টানার জন্য কম চেষ্টা করা হয়নি। বাণিজ্য সম্মেলন হয়েছে। সিঙ্গাপুরে পর্যন্ত ছুটে গিয়েছেন মমতা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বিভিন্ন সময়ে মৌ চুক্তিতে সই হলেও শেষ পর্যন্ত বড় কোনও শিল্পের মুখ দেখেনি বাংলা।

অন্যদিকে মোদীর ভাবমূর্তি শুরু থেকেই বিনিয়োগকারীদের কাছে উজ্জ্বল। মোদী যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকেই শিল্পের জোয়ার। ‘ভাইব্র্যান্ট গুজরাট’ মডেলের সাফল্য নিজেই তার প্রমাণ। এবার কি তবে মোদীকে বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনে নিয়ে এসে, বাংলার সেই শিল্পবিমুখ ভাবমূর্তিই ঘোচাতে চাইছেন মমতা?

আরও পড়ুন: Ashok Bhattacharya: সিপিএমের জেলা কমিটি থেকে সরছেন অশোক ভট্টাচার্য, সরতে চান রাজ্য কমিটি থেকেও

 

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla