১৪ মিনিটের ফোন কল! সব ‘শেষ’ হওয়ার আগে ঘানিকে কী বলেছিলেন বাইডেন?

২৩ জুলাই শেষবার কথা হয়েছিল জো বাইডেন ও আসরাফ ঘানির। তখনও তাঁরা বোঝেননি যে বিপদ ঠিক কতটা কাছে।

১৪ মিনিটের ফোন কল! সব 'শেষ' হওয়ার আগে ঘানিকে কী বলেছিলেন বাইডেন?
ফাইল ছবি

ওয়াশিংটন: ১৫ অগস্ট সব বাধা সরিয়ে স্রোতের মতো কাবুলে প্রবেশ করে তালিবান। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে যায় পরিস্থিতি। সন্ধে নামার আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান প্রেসিডেন্ট আসরাফ ঘানি। আর ওই দিন রাতের মধ্যেই প্রেসিডেন্টের ভবনে প্রবেশ করে তালিবরা। পেন্টাগনও আশা করেনি যে অত দ্রুত সব কিছু আয়ত্তের বাইরে চলে যাবে। জানা গিয়েছে, তালিবানের হাতে কাবুলের দখল চলে যাওয়ার কয়েকদিন আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ফোনে কথোপকথন হয় ঘানির। বিপদ তখনও আঁচ করতে পারেননি তাঁরা। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের হাতে এসেছে সেই কথোপকথনের প্রতিলিপি।

জানা গিয়েছে, ১৪ মিনিট ধরে কথা হয়েছিল দুই রাষ্ট্রনেতার। তবে তাঁদের সেই কথোপকথন থেকে স্পষ্ট যে, তাঁরা তখনও পর্যন্ত বিপদের আঁচ তেমনভাবে পাননি। ২৩ জুলাই শেষবার ফোনে কথা হয় তাঁদের।

কী বলেছিলেন বাইডেন?

ঘানিকে সাহায্য করার কথা বলেছিলেন তবে একটি শর্তে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি ছিল, কী পরিকল্পনা রয়েছে, তা যদি ঘানি স্পষ্টভাবে জানান তাহলে আমেরিকা সাহায্য করবে। ঘানিকে দেওয়া বাইডেনের পরামর্শ ছিল, আফগানিস্তানের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কৌশল নির্ণয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনে সামনে রাখতে হবে কোনও সেনা অফিসারকে। এই প্রসঙ্গে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল বিসমিল্লা খান মোহম্মদির কথাও উল্লেখ করেন বাইডেন।

একইসঙ্গে ওই ফোন কলে আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রশংসাও করেন বাইডেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আপনার হাতে সেরা সৈন্য আছে। আপনার হাতে ৩ লক্ষ সশস্ত্র সেনা আছে, যারা লড়াইতে পারদর্শী। বাইডেন আরও জানিয়েছিলেন যে, তালিবানের বিরুদ্ধে আফগান সরকার কী ভাবে লড়াই করছে, তা নিয়ে বিশ্বে অনেক ভুল ধারনা তৈরি হয়েছে, তাই ছবিটা বদলানো প্রয়োজন। বাইডেনের পরামর্শ ছিল, আফগানিস্তানের রাজনৈতিক নেতারা যদি একত্রিত হয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে কৌশল সম্পর্কে জানান তাহলে অনেকেরই ধারনা বদলাতে পারে। বাইডেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন, ‘আমরা যদি কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবে লড়াই জারি রাখি, তাহলে আফগানিস্তানের সরকার শুধু স্থায়ীই হবে না, এগিয়েও যাবে।’

কী বলেছিলেন আসরাফ ঘানি?

ঘানি অবশ্য জানিয়েছিলেন, যা করার খুব দ্রুত করতে হবে। তালিবানদের পিছনে যে পাকিস্তানের ব্যাপক সমর্থন আছে, তাও বুঝতে পেরেছিলেন ঘানি। তিনি বলেছিলেন, ‘তালিবান ঠাণ্ডা মাথায় এগোচ্ছে। এর পিছনে পাকিস্তানের পরিকল্পনা ও সমর্থন রয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে অন্তত ১০ থেকে ১৫ হাজার আন্তর্জাতিক জঙ্গি।’

প্রাক্তন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিএ বলেছিলেন বাইডেন। কিন্তু ঘানি তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘কারজাইকে এর মধ্যে এনে কোনও লাভ নেই। উনি উল্টো কথা বলছেন।’ ঘানি জানিয়েছিলেন শেষবার ১১০ মিনিট তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল কারজাইয়ের। আর সেখানে নাকি কারজাই তাঁকে অভিশাপ দিয়েছিলেন শুধু। তাই ঘানি সব শেষে বলেছিলেনম ‘সবাইকে সঙ্গে নেওয়া সম্ভব নয়।

বাইডেন ও ঘানির মধ্যে আর কথা না হলেও পরবর্তীতে আফগানিস্তানের সঙ্গে আমেরিকার যোগাযোগ হয়। বাইডেনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান, জেনারেল মার্ক মিলে, সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল ম্যাকেঞ্জির সঙ্গে ঘানির কথা হয়েছিল। আরও পড়ুন: মুখে মুচকি হাসি, হাত মেলাচ্ছেন পথ চলতি মানুষদের সঙ্গে! বিমানবন্দর দখল নিতেই ভিন্ন রূপ তালিবানের

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla