মাত্র ৬ সাংসদ নিয়ে ইজরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী বেনেত, কীভাবে সম্ভব?

গত বছর মে মাসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে জোট সরকার করার জন্য ডাক পাননি বেনেত। তখন থেকেই মতবিরোধ তৈরি হয় নেতানিয়াহু ও বেনেতের মধ্যে।

মাত্র ৬ সাংসদ নিয়ে ইজরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী বেনেত, কীভাবে সম্ভব?
ছবি- পিটিআই

জেরুজালেম: পাঁচ দফায় ইজরায়েলের (Israel) প্রধানমন্ত্রীত্ব সামলেছেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি প্রথম ক্ষমতায় আসেন ১৯৯৬ সালে। এরপর ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ডানপন্থী এই নেতাই ইজরায়েলের ক্ষমতার অলিন্দে। ২০১৯ সালের দুই দফা ভোটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয় ইজরায়েলের কোনও দল। তৃতীয় দফায় বিরোধী দলনেতা বেনি গানৎসের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগ করে নিতে রাজি হন নেতানিয়াহু। ডিসেম্বরে সেই প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়। তখন নতুন করে ভোট হয় ইজরায়েলে। সেই ভোটেও সংখ্য়াগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হয় তাঁর লিকুদ পার্টি। স্বাভাবিক ভাবে সরকার গঠনের জন্য ডাক পান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া ইয়েস আতিত দলের ইয়ার লাপিদ। এরপর ইয়েস আতিত দলের পাশে এসে দাঁড়ান একদা নেতানিয়াহু ঘনিষ্ঠ নাফতালি বেনেত। এরপরই ডান-বান-মধ্যপন্থী দলগুলি মিলে ক্ষমতায় আসে ইজরায়েলের নতুন সরকার প্রধানমন্ত্রী হন বেনেত।

১২০ আসনের ইজরায়েল পার্লামেন্টে বেনেতের দল ইয়েমিনা পার্টির স্রেফ ৬ জন সাংসদ। উগ্র ডানপন্থী দলের নেতা বেনেত হলেন ইজরায়েলের প্রাক্তন কম্যান্ডো। জোট সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ২ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকবেন তিনি। তারপর ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হবেন ইয়েস আতিত দলের ইয়ার লাপিদ।

কে এই নাফতালি বেনেত?

* ২০০৫ সাল থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় বেনেত।
*২০০৬ সালে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির চিফ অব স্টাফ নির্বাচিত হন নাফতালি বেনেত।
*২০১০ সালে ইয়েশা কাউন্সিলের প্রধান হন বেনেত। সেই ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করেন তিনি।
*২০১২ সালে উগ্র ডানপন্থী জিউস হোম পার্টির নেতৃত্ব দেওয়া শুরু করেন তিনি।
*২০১৮ সালে জিউস হোম পার্টির নাম বদল করে ইয়েমিনা করেন বেনেত।

গত বছর মে মাসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে জোট সরকার করার জন্য ডাক পাননি বেনেত। তখন থেকেই মতবিরোধ তৈরি হয় নেতানিয়াহু ও বেনেতের মধ্যে। এরপর ইয়ার লাপিদের সঙ্গে জোট করে ক্ষমতার শিখরে এলেন বেনেত। উল্লেখ্য, প্যালেস্তাইনের বিরুদ্ধে বেনেতের মন্তব্য নিয়ে একাধিকবার বিতর্ক হয়েছে। মামলা গড়িয়েছে আদালতেও। ২০১৩ সালে বেনেত দাবি করেছিলেন, প্যালেস্তাইনের সন্ত্রাসীদের হত্যা করা উচিত। কখনওই মুক্তি নয়। অর্থাৎ মতাদর্শের দিক থেকে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তেমন বিরোধ নেই বেনেতের। এমনটাই মত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের।

আরও পড়ুন: ইজরায়েলে নেতানিয়াহু যুগের অবসান, এবার দেশ চালাবে জোটের সরকার