করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেহাল চিকিৎসক মহল, সংক্রমণে একদিনেই মৃত্যু ৫০ চিকিৎসকের

দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক না থাকা ও অধিকাংশের টিকাকরণে অনীহাকেও দায়ী করা হয়েছে এই বাড়তি সংক্রমণের জন্য।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেহাল চিকিৎসক মহল, সংক্রমণে একদিনেই মৃত্যু ৫০ চিকিৎসকের
করোনা রোগীর চিকিৎসায় ব্যস্ত চিকিৎসকেরা। ছবি:PTI

নয়া দিল্লি: বয়স মাত্র ২৬, কোভিড ওয়ার্ডে রোগীদের চিকিৎসা করতে করতে নিজেও সংক্রমিত হয়ে পড়েছিলেন আনাস মুজাহিদ নামক ওই চিকিৎসক। রিপোর্ট পজেটিভ আসার একদিনের মধ্যেই মৃত্যু হল তাঁর। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাবে  একদিনেই মৃত্যু হয়েছে ৫০ জন চিকিৎসকের। বছরের হিসাবে এখনও অবধি ২৪৪ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে দেশজুড়ে।

করোনার প্রথম ঢেউয়ে গত বছর মোট ৭৩৬ জন চিকিৎসক মারা গিয়েছিলেন। চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরু থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ দেখা দিতেই সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সংক্রমিত হচ্ছেন চিকিৎসকরাও।

ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যালোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে এখনও অবধি মোট ২৪৪ জন চিকিৎসক প্রাণ হারিয়েছেন। এরমধ্যে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে রবিবার। চিকিৎসক মৃত্যুর নিরিখে সবার প্রথমে রয়েছে বিহার, সেখানে এখনও অবধি মোট ৬৯ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। এরপরই রয়েছে যোগীরাজ্য উত্তর প্রদেশ, সেখানে মোট ৩৪ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। দিল্লিতে এখনও অবধি ২৭ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে করোনার চিকিৎসা করতে গিয়ে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশজুড়ে গণটিকাকরণ শুরু হওয়ার প্রথম ধাপেই প্রথম সারির করোনা যোদ্ধা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও অবধি দেশে মাত্র ৬৬ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মীই করোনা টিকা পেয়েছেন। মৃত চিকিৎসকদের মধ্যে কেবল ৩ শতাংশই টিকা নিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে জানানো হয় যে, বহু চিকিৎসকই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দিহান থাকায় করোনা টিকা নেননি। কেন্দ্রের তরফে লাগাতার তাদের বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে টিকা নেওয়ার জন্য। একইসঙ্গে চিকিৎসকের সংখ্যায় ঘাটতিও একটি বড় সমস্যা। টানা ৪৮ ঘণ্টা বিনা করোনা পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা রোগীর শুশ্রষা চালিয়ে যাচ্ছেন, এতে সংক্রমণ চিহ্নিতকরণে দেরী হয়ে যাচ্ছে এবং শেষমেশ মৃত্যু হচ্ছে।

সূত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রের তরফে প্রায় হাজার জন চিকিৎসকের মৃত্যুর কথা বলা হলেও আসল সংখ্যাটি আরও বেশি। কারণ স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কাছে মাত্র ৩.৫ লাখ চিকিৎসকের তথ্য রয়েছে, এদিকে দেশজুড়ে প্রায় ১২ লাখেরও বেশি চিকিৎসক রয়েছেন।

আরও পড়ুন: করোনার আবহে বিনামূল্যে মিলবে জ্বালানি, রাজস্থান সরকারকে জানাল রিলায়্যান্স