অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর নিয়ে চার্জশিট দিতে পারবে না পুলিশ, নির্দেশ ত্রিপুরা হাইকোর্টের

ত্রিপুরায় গিয়ে আটক হওয়া যুবনেতাদের ছাড়াতে নিজেই ত্রিপুরায় গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর হয়।

অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর নিয়ে চার্জশিট দিতে পারবে না পুলিশ, নির্দেশ ত্রিপুরা হাইকোর্টের
ফাইল ছবি

আগরতলা: ত্রিপুরা হাইকোর্টে কিছুটা স্বস্তি মিলল তৃণমূলের। আদালতের অনুমতি ছাড়া পুলিশ সম্পূর্ণ রিপোর্ট তথা দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দিল হাইকোর্ট। পাশাপাশি পুলিশের কাছে কেস ডায়েরিও তলব করেছে আদালত। ত্রিপুরা থেকে ফেরার পর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। নিম্ন আদালত সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশকে। এরপরই সেই নির্দেশ ও ওই এফআইআরের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল। আজ সেই আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্টের তরফে বলা হয়েছে, আপাতত কোনও রিপোর্ট বা চার্জশিট দিতে পারবে না পুলিশ। আগামী ২ সেপ্টেম্বর এই মামলার শুনানি রয়েছে।

মোট দুটি বিষয় নিয়ে মামলা হয়েছিল। প্রথমত, ত্রিপুরায় দলীয় কর্মসূচিতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহা ও জয়া দত্ত সহ একাধিক তৃণমূলের যুব নেতা। অন্যদিকে, খোয়াই থানায় যাওয়ার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেনদের বিরুদ্ধে দায়ের হয় এফআইআর। এই দুই বিষয় নিয়েই মামলা হয়েছিল ঘাসফুল শিবিরের তরফে। এফআইআর সংক্রান্ত মামলায় হস্তক্ষেপ করল হাইকোর্ট। জামিনযোগ্য মামলায় কেন এতক্ষণ আটক করা হল যুব তৃণমূল নেতাদের, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে হাইকোর্টে।

ত্রিপুরা পুলিশের সঙ্গে ‘দুর্ব্যবহার’ করার অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ৬ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল ত্রিপুরা পুলিশ। ঘটনার প্রেক্ষিতে ত্রিপুরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল। অভিষেক ছাড়াও সেই তালিকায় নাম ছিল দোলা সেন, কুণাল ঘোষ, ব্রাত্য বসু, সুবল ভৌমিক ও প্রকাশচন্দ্র দাসেরও। ৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তা খারিজের আবেদন নিয়েই ত্রিপুরা হাইকোর্টে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়।

ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৬ ও ৩৪ নম্বর- এই দু’টি ধারায় সরকারি কাজে বাধা দান ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এফআইআর হয়েছিল। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল তৃণমূল নেতারা পুলিশকে ‘বিজেপির দালাল’ বলে সম্বোধন করেছেন। খোয়াই থানার ওসি মনোরঞ্জন দেব বর্মা লেখেন, ‘তৃণমূলের নেতারা পুলিশকে বিজেপির দালাল’ বলে থানার মধ্যে বসেই ‘দুর্ব্যবহার’ করেছিলেন। আইনজীবী নরসিংহ দাস এ দিন জানান, এফআইআর ও নিম্ন আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধেই আবেদন জানানো হয়েছিল হাইকোর্টে। দু’পক্ষের শুনানির পর সরকার পক্ষকে নোটিস ইস্যু করেছে আদালত। আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে উত্তর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কোন আদেশে মামলা করা হল, তা জানাতে হবে। এর মধ্যে আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনও রিপোর্ট দিতে পারবে না পুলিশ।

ত্রিপুরায় গিয়ে আটক হওয়া যুবনেতাদের ছাড়াতে নিজেই ত্রিপুরায় গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ত্রিপুরা পৌঁছে বাকি তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে খোয়াই থানায় বসে দীর্ঘক্ষণ পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় অভিষেককে। শেষ পর্যন্ত দেবাংশুদের জামিন মঞ্জুর করিয়ে বাংলায় ফিরে এলেও পরের দিন অভিষেক ও বাকি তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এফআইআর রুজু করে খোয়াই থানা। আরও পড়ুন: ‘আগামী কয়েক দশকের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবেন’, জল্পনা বাড়িয়ে মোদীর ভূয়ষী প্রশংসা দিব্যেন্দুর চিঠিতে

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla