PM Modi on Constitution Day: ‘গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক পরিবারতন্ত্র’, সংবিধান দিবসে কর্তব্যের পথে চলার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

Constitution Day: সংবিধান দিবসে দেশবাসীকে কর্তব্য ও দায়িত্ববোধের পথে চলার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

PM Modi on Constitution Day: 'গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক পরিবারতন্ত্র', সংবিধান দিবসে কর্তব্যের পথে চলার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
সংসদে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংসদ টিভি


নয়া দিল্লি: আজ সংবিধান দিবস (Constitution Day)। দেশের সংবিধানের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে সংসদের সেন্ট্রাল হলে এদিন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ (Ramnath Kovind) সংবিধান পাঠ করেন। সংসদে উপস্থিত সদস্য়দের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। যদিও বিরোধী দলগুলি এই অনুষ্ঠানটি বয়কট করেছেন।

সংবিধান দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কী বললেন, একনজরে দেখে নেওয়া যাক-

  • এদিনের অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, আজ তাদের স্মরণ করার দিন।
  • আজ ২৬/১১। আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের একটি দিন। এই দিনেই দেশের শত্রুরা আমাদের মাটিতে প্রবেশ করে মুম্বইয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছিল। আমাদের বীর জওয়ানরা ওই আতঙ্কবাদীদের সঙ্গে লড়াই করতে করতে নিজের প্রাণ দিয়েছিলেন। আমি তাদেরও শ্রদ্ধা জানাই।
  • কখনও ভেবেছেন আজ যদি আমাদের দেশের সংবিধান তৈরি করতে হত, তাহলে কী হত? দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই, দেশভাগের যন্ত্রণা সহ্য করেও আমাদের দেশের বিভিন্নতা, অনেক ভাষা, অনেক মতকে মাথায় রেখেই সংবিধান তৈরি করা হয়েছিল। এই সংবিধানের মাধ্য়মেই গোটা দেশকে একসূত্রে বাঁধা হয়েছিল। আজকের দিনে সংবিধান তৈরি করতে হলে, আমরা হয়তো এক পাতাও লিখতে পারতাম না।
  • আমাদের সংবিধান কেবল অনেক ধারার মিলিত রূপ নয়, আমাদের সংবিধান সহস্র বছরের ইতিহাস, অখণ্ডতার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই আমাদের মধ্যে সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে। আমাদের সংবিধানের নিয়ম মেনেই জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করতে হয়।
  • সংবিধান দিবস পালন করার আরও একটি কারণ হল, এরমাধ্য়মে আমরা সঠিক পথে চলছি কিনা, তা জানতে পারি। প্রতি বছর সংবিধান দিবস পালন করা উচিত এবং সেখানে নিজেদেরই কাজের মূল্য়ায়ন করা উচিত।
  • দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের পর ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবস পালনের পরম্পরা তৈরি করা উচিত ছিল। এরফলে আমাদের প্রতিটি প্রজন্ম জানতে পারত কারা সংবিধান তৈরি করেছেন, এই সংবিধান তৈরির কারণ, প্রয়োজনীয়তা, প্রতিটি ধারার গুরুত্ব বোঝা যেত। কিন্তু কিছু লোক এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেননি।
  • বাবা সাহেব আম্বেদকরের ১৫০ তম জন্মজয়ন্তীতে আমাদের মনে হয়েছিল, এর থেকে বড় পবিত্র অনুষ্ঠান আর কিছু হতে পারে না। ২০১৫ সালে যখন আমি সংবিধান দিবস পালনের কথা বলেছিলাম, সেইদিনও বিরোধিতা করা হয়েছিল।
  • রাজনৈতিক দলগুলির নিজস্ব মতামত রয়েছে। তাদেরও দায়িত্ব সাধারণ মানুষের কাছে সংবিধানকে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু সেই দলগুলিই যখন নিজেদের লোকতান্ত্রিক ভূমিকা হারিয়ে ফেলে, তখন সংবিধানকেই আঘাত করা হয়।
  • দেশকে সমৃদ্ধ করতে আমাদেরই উদ্য়োগ করতে হবে। আমাদের দেশে দুর্নীতি রয়েছে। সংবিধানে কী এর অনুমতি দেওয়া হয়েছে? দুর্নীতির সাজাপ্রাপ্ত মানুষদের সঙ্গে যদি রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাজনৈতিক দলগুলি ওঠাবসা করে, তবে যুব সম্প্রদায়ের কাছে এই বার্তাই পৌঁছয় যে, দুর্নীতিতে খারাপ কিছু নেই। কিছু বছর পর মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষদের স্বীকার করেই নেয়। আমরা কী এই ধরনের সমাজ ব্যবস্থা তৈরি করতে চাই?  দুর্নীতিগ্রস্তদের ভুল শোধরানোর সুযোগ দেওয়া উচিত অবশ্যই, কিন্তু তাদের সমাজে প্রতিষ্ঠা করার যে প্রচেষ্টা চলছে, তা অনুচিত।
  • স্বাধীনতার ৭৫তম বর্ষ এটা। ইংরেজরা যেভাবে ভারতবাসীদের পিষে মারছিল, তার হাত থেকে মুক্তির জন্য স্বাধীনতার লড়াই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মহাত্মা গান্ধী দেশকে স্বাধীনতার লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করার পাশাপাশি কর্তব্য়ের পথে চলার জন্যও প্রস্তুত করছিলেন। উনি স্বচ্ছতা, নারী শিক্ষা, নারী সম্মান, আত্মনির্ভর ভারতের যে বীজ বপন করেছিলেন, তা স্বাধীনতার পর বটবৃক্ষ হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কেবল অধিকার নিয়ে এমন শাসন ব্যবস্থা তৈরি করা হল যেখানে সাধারণ মানুষকে বার্তা দেওয়া হল যে, আমরা থাকলেই আপনাদের অধিকার বজায় থাকবে।
  • দেশ স্বাধীনতার পর যদি কর্তব্যের উপর জোর দেওয়া হত, তবে অধিকার এমনিতেই সুরক্ষিত থাকত। কর্তব্য় থেকেই দায়িত্ববোধ তৈরি হয়, অধিকারবোধ থেকে কখনও কখনও সমাজকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করা হয়।
  • আমাদের উচিত কর্তব্য পালন করা। নিজের দায়িত্ব পালন করলেই অধিকার সুরক্ষিত থাকে। কর্তব্য়ের পথে চললে অধিকার সম্মানের সঙ্গে পাওয়া যায়। আমরা যতটা নিষ্ঠার সঙ্গে কর্তব্য় পালন করব, ততই সকলের অধিকার সুনিশ্চিত হবে।
  • এই অনুষ্ঠান কোনও রাজনৈতিক দলের বা প্রধানমন্ত্রীর ছিল না। এটি সংসদের অনুষ্ঠান ছিল। এখানে সংসদ ভবনের গরিমা রয়েছে, স্পিকারের সম্মান রয়েছে, বাবা সাহেব আম্বেদকরের সম্মান রয়েছে, আমরা সবাই এই পদগুলির সম্মান যাতে বজায় রাখতে পারি, এই প্রার্থনাই করি।

আরও পড়ুন: Arvind Kejriwal on Congress: ‘কংগ্রেসকে ভোট দিতেই পারেন যদি….’, শিক্ষামন্ত্রীর আক্রমণে পাল্টা খোঁচা কেজরীবালের 

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla