ত্রিপুরায় তৃণমূলের মুখ হোক সুস্মিতাই! চাইছে ঘাসফুল শিবির

ত্রিপুরায় তৃণমূলের (TMC) রাজ্য নেতৃত্ব চাইছে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মেয়ে সুস্মিতার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে। সম্ভবত আগামী মাসেই ত্রিপুরা যাচ্ছেন সুস্মিতা (Susmita Deb)।

ত্রিপুরায় তৃণমূলের মুখ হোক সুস্মিতাই! চাইছে ঘাসফুল শিবির
ছবি টুইটার

আগরতলা: রাজ্যের বাইরে ঘাসফুলের বিস্তার বাড়াতে উঠেপড়ে লেগেছে তৃণমূল (TMC)। একাধিক রাজ্যে তৃণমূলের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা হলেও আপাতত পাখির চোখ ত্রিপুরা (Tripura)। বিপ্লব দেব সরকারকে উৎখাত করে সরকার গড়াই মূল লক্ষ্য। গত কয়েকদিন ধরে যে ভাবে দলের সাংসদ থেকে যুব নেতারা আগরতলা উড়ে গিয়েছেন, তা থেকেই স্পষ্ট যে ত্রিপুরাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূল। কিন্তু রাজ্য নেতৃত্বের প্রশ্ন ‘মুখ’ হবে কে? এ রাজ্য থেকে প্রথম সারির নেতা-মন্ত্রীরা গেলেও ত্রিপুরায় ঘাসফুল শিবিরের একটা মুখ দরকার। আর সেই জায়গাটা সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রাক্তন কংগ্রেস নেত্রী সুস্মিতা দেবকেই (Susmita Deb) দিতে চায় ত্রিপুরার ঘাসফুল শিবিরের নেতারা।

ত্রিপুরা তৃণমূলের সভাপতি আশিস লাল সিংহ, সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রাক্তন বিধায়ক সুবল ভৌমিক চান সুস্মিতা দেবকে ত্রিপুরার ঘাসফুল শিবিরের মুখ করা হোক। তাঁদের মতে, সুস্মিতা সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিচিত মুখ। সুস্মিতা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষমোহন দেবের কন্যা। আর সন্তোষমোহন শিলচর থেকে পাঁচ বার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি ত্রিপুরা পশ্চিম থেকেও দু’বার সাংসদ হয়েছিলেন। বাবার পরিচয় এবং সুস্মিতার নিজের পরিচিতি ব্যবহার করেই বিপ্লব দেবের রাজ্যে ঘাস ফুলের শিকড়কে গভীরে নিয়ে যেতে চান আশিসলালরা।

সূত্রের খবর, দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে সুস্মিতার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। তবে সরাসরি সেই দাবিতে এখনও মান্যতা দেওয়ার ঘোষণা করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তৃণমূলের অন্দরে কান পাতলে অবশ্য শোনা যাচ্ছে, অসমের পাশাপাশি ত্রিপুরাতেও কাজে লাগানো হবে সন্তোষ তনয়াকে। প্রয়োজনে সেখানেও নেতৃত্ব দিতে দেখা যেতে পারে সুস্মিতাকে। পড়শি রাজ্যে নেতাদের বক্তব্য, ত্রিপুরায় একটা মুখ দরকার। সেই মুখ অবশ্যই হতে পারেন সুস্মিতা। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা-অভিষেকরা। সূত্রের খবর, আগামী মাসে ত্রিপুরায় যেতে পারেন সুস্মিতা। সঙ্গে থাকতে পারেন তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কেউ কেউ, থাকতে পারেন একাধিক সাংসদও।

তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর গতকালই প্রথম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সুস্মিতা। তৃণমূলে তাঁর দায়িত্ব প্রসঙ্গে মঙ্গলবার সুস্মিতা বলেন, ‘আমি নিঃশর্তে তৃণমূলে যোগ দিয়েছি। তৃণমূলে যোগ দিয়ে আমি আমার কোনও আদর্শের সঙ্গে সমঝোতা করেছি বলে মনে করি না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে যে দায়িত্ব দেবেন, সেই দায়িত্ব আমি মাথা পেতে নেব।’

গত সোমবার সকালেই কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেন শিলচরের প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেব। সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখেই ইস্তফা দেন তিনি। ওই দিন জমা দুপুরের আগে কলকাতা্য এসে তৃণমূলে যোগ দেন সুস্মিতা। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে সোজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে সুস্মিতা দেব পৌঁছন। সেখানে বৈঠক সেরে চলে যান নবান্নে। আরও পড়ুন: ‘মুকুল চাপে পড়েই তৃণমূলের গিয়েছেন, বিধানসভায় কোন মুখে আসবেন!’ নয়া ইঙ্গিত দিলীপের

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla