SC on Mukul Roy: মুকুল রায়কে নিয়ে বাড়ল চাপ! দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন অধ্যক্ষ, চায় সুপ্রিম কোর্ট

Mukul Roy: মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ সংক্রান্ত এক মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

SC on Mukul Roy: মুকুল রায়কে নিয়ে বাড়ল চাপ! দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন অধ্যক্ষ, চায় সুপ্রিম কোর্ট
মুকুল রায়কে নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিক অধ্যক্ষ, চায় সুপ্রিম কোর্ট। অলঙ্করণ অভীক দেবনাথ।

নয়া দিল্লি: মুকুল রায়ের (Mukul Roy) বিধায়ক পদ নিয়ে যা সিদ্ধান্ত তা বিধানসভার অধ্যক্ষকেই নিতে হবে। সোমবার এমনই ইঙ্গিত দিল সুপ্রিম কোর্ট। অধ্যক্ষ দ্রুত যাতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন, সে কথাই বলা হয়েছে। ২০২২ সালের জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে ফের এই মামলার শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে।

মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ সংক্রান্ত এক মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সেই মামলারই শুনানি ছিল। এদিন বর্ষীয়ান আইনজীবী অভিষেক মনুসিংভি অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে বিচারপতি নাগেশ্বর রাও ও বিচারপতি হিমা কোহলির বেঞ্চে জানান, আগামী ২১ ডিসেম্বর মুকুল রায়ের সদস্যপদ খারিজের আর্জি নিয়ে অধ্যক্ষের কাছে শুনানি রয়েছে।

আগামী জানুয়ারিতে ফের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি। তার আগে ২১ ডিসেম্বর এই বিষয়ে অধ্যক্ষ পদক্ষেপ করবেন বলেই আশা করছে সুপ্রিম-আদালত। আইনের পথে হেঁটেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের।

এ প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে আমরা স্বাগত জানাই। মুখ্যমন্ত্রী নাকি বলেছেন উনি সুপ্রিম কোর্টের রায়কে খুব মানেন। আশা করব মুখে ও কাজে একইরকম হবে। উনি বা ওনার পার্টি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বিধানসভার অধ্যক্ষ, যাঁর নিরপেক্ষ থাকার কথা কিন্তু থাকেন না, তাঁর কাজে মুখ্যমন্ত্রীর কথার প্রমাণ থাকবে।” অন্যদিকে টুইটারে শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ। আবারও আইনের জয়।

অন্যদিকে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যদি সুপ্রিম কোর্টের কোনও নির্দেশিকা থাকে তা আমরা নিশ্চয়ই মেনে চলব। এটা তো খুব স্বাভাবিক কথা। আইনের বিচার প্রক্রিয়াকে আমরা সব সময় মর্যাদা দিই। সম্মান করি। নতুন করে বলার কিছু নেই। যে পিটিশনটা ফাইল হয়েছে ওর (মুকুল রায়) সদস্যপদ খারিজ করার জন্য, সেটা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েই দেখছি।”

প্রথা ভেঙে মুকুল রায়কে বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি বা পিএসি-র চেয়ারম্যান করা হয়েছে। এই অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। এই ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতি যথেষ্ট সরগরম হয়েছে। অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় মুকুলের নাম ঘোষণা করার পর রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের কাছে নালিশ করতে যায় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি পরিষদীয় দল। এমনকী মুকুল রায় এখনও এই পদে থাকায়, পিএসির বৈঠক থেকেও মুখ ফেরায় বিজেপি। পাশাপাশি হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন কল্যাণীর বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়।

বিধানসভার রুল বুক-এর ৩০২ ধারা অনুযায়ী, আনুপাতিক হারে পিএসি কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়। এখানে সেই বিধি মানা হয়নি বলে বিজেপি’র অভিযোগ। নিয়ম অনুযায়ী, ১৪:৬ অনুপাতে কমিটির সদস্য নিবার্চন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ১৩:৭ অনুপাতে করা হয়েছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট জানায়, বিধায়ক মুকুল রায়কে পিএসি চেয়ারম্যান রাখা হবে কি হবে না সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ৭ অক্টোবরের মধ্যে বিধানসভার স্পিকারকে এই সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু তার ঠিক দু’দিন আগে এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন বিধানসভার অধ্যক্ষ।

কলকাতা হাইকোর্টের গত ২৮ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে বলা হয়েছিল ৭ অক্টোবরের মধ্যে বিধানসভার অধ্যক্ষ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিলে পদক্ষেপ করবে কলকাতা হাইকোর্ট। এই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে মামলা করেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএসএফ ইস্যুতে কথা বলতেই দিল্লি সফর, জানিয়ে গেলেন মমতা

আরও পড়ুন: Mamata on Tripura: এখন মানবাধিকার কমিশন কোথায়? কনভয়ের ল্যাজে কী হয়েছিল তখন তো খুব…! নাড্ডার গাড়িতে হামলা প্রসঙ্গ তুলে তোপ মমতার

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla