Weekend Getaways: সরস্বতী পুজো এবার জমজমাট! উইকেন্ডের রোম্যান্টিক মুডে সঙ্গীকে নিয়ে যান এই কাছের জায়গাগুলিতে
Saraswati Puja: অফিসের ব্যস্ততা, সংসারের কাজকর্ম থেকে অবসর মেলে না যে আবার একসঙ্গে সেই দিনগুলো কাটাবেন। তবুও মন চায় বলতে, 'বসন্তকে সাক্ষী রেখে আজ যদি ফের সঙ্গী হতাম?'
সরস্বতী পুজো (Saraswati Puja) মানে এক ঝাঁক স্মৃতি। ফেলে আসা সেই ছেলেবেলার দিনগুলো, স্কুলের সরস্বতী পুজো আর প্রথম প্রেম। আজ সেই রঙিন দিনগুলো ফিকে হয়ে গেছে ‘দায়িত্ববান’ হয়ে ওঠার দৌড়ে। অফিসের ব্যস্ততা, সংসারের কাজকর্ম থেকে অবসর মেলে না যে আবার একসঙ্গে সেই দিনগুলো কাটাবেন। তবুও মন চায় বলতে, ‘বসন্তকে সাক্ষী রেখে আজ যদি ফের সঙ্গী হতাম?’ তাই তো এই সরস্বতী পুজোয় সঙ্গীনীর সঙ্গে প্ল্যান করতে পারেন একটা ছোট্ট উইকেন্ড (Weekend Trip) একসঙ্গে কাটানোর। তিন দিনের ছোট্ট ট্যুরে কলকাতার আশেপাশে লুকিয়ে থাকা পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে (Tourist Spots) একবার ঢুঁ মারতে পারেন। কোথায় যাবেন ভাবছেন? দেখে নিন…
পুরুলিয়া
বাঙালির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলির মধ্যে একটি হল পুরুলিয়া। তিনদিনের ছুটিতে অনায়াসে ঘুরে ফেলতে পারবেন। হাওড়া থেকে চক্রধরপুর এক্সপ্রেসে সোজা পৌঁছে যান পুরুলিয়া। বসন্ত এখনও আসেনি, সুতরাং লাল পলাশের দেখা মিলবে না। তবে শাল, সেগুন ও মহুলের ঘন সবুজ জঙ্গল, লাল মাটির পথ, স্বচ্ছ জলাধার, সুবর্ণরেখা, কংসাবতী ও কুমারী নদীর একসঙ্গে জলস্রোত আপনার মন কেড়ে নেবে। পুরুলিয়া গেলে অযোধ্যা, জয়চণ্ডী ও বাগমুণ্ডী পাহাড়, পঞ্চকোট পাহাড়, মুরগুমা, তুর্গা ড্যাম, বামনি জলপ্রপাত, রঘুনাথপুর মিস করবেন না। যদি শুধুই বিশ্রামের উদ্দেশ্যে ছুটি কাটাতে চান তাহলে বরন্তিকে বেছে নিতে পারেন। পাহাড়ে ঘেরা পুরুলিয়ার ছোট্ট জনপদ।
বাঁকুড়া
সুবজে ঘেরা ঘন জঙ্গল, লাল মাটির পথ, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, স্থাপত্য এবং পোড়ামাটির গল্প নিয়ে আপনাকে স্বাগত জানাতে তৈরি বাঁকুড়া। পশ্চিমবঙ্গের এমন একটি জায়গা ঘুরে দেখুন যা টেরাকোটার ভাষা বলে। যেখানে রয়েছে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাটির বাঁধ। যেখানে পশ্চিমবঙ্গের ‘প্রাচীনতম’ পাহাড়ে হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিষ্ণুপুরের রসমঞ্চ থেকে জোড় শ্রেনী মন্দির কোনওটাই মিস করা চলবে না। আর বিষ্ণুপুর যাওয়ার প্ল্যান যখন করেছেন একটা বালুচরী শাড়ি কিনে স্ত্রীকে সারপ্রাইজও দিতে পারেন এখানে। সূর্যাস্তের ঐশ্বরিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন কংসাবতী বাঁধে। যদিও এর জন্য আপনাকে যেতে হবে মুকুটমণিপুর। আর যদি আপনারা দুজনেই পাহাড় ভালবাসেন, তাহলে শুশুনিয়ার জঙ্গল সাফারি করতে পারেন।
মুর্শিদাবাদ
পশ্চিমবঙ্গের যে শহরের অলি-গলি এখনও কথা বলে ওঠে ইতিহাসের। ভাগীরথীর তীরে নবাবী ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে একসঙ্গে নিয়ে বেঁচে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। বাংলার নবাবদের রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদ। আপনি যদি এই বাংলার ইতিহাসের খোঁজে থাকেন, দু রাত্রি তিন দিনে অনায়াসে ঘুরে ফেলতে পারবেন মুর্শিদাবাদ। এখানের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হল হাজারদুয়ারি। এছাড়াও এখানে রয়েছে কাঠগোলা বাগানবাড়ি, ইমামবাড়া, ঘড়ি ঘর, সিরাজ-উদ-দ্দৌলার মদিনা, মতিঝিল। শিয়ালদহ থেকে হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেসে চড়ে পৌঁছে যেতে পারেন মুর্শিদাবাদ। মুর্শিদাবাদ থেকে ঘুরে আসতে পারেন কাশিমবাজার রাজবাড়ি।
মৌসুনি দ্বীপপুঞ্জ
সঙ্গীনীকে পাশে বসিয়ে লং ড্রাইভে যেতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৌসুনি আইল্যান্ড থেকে। এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে দিঘা, তাজপুর, মন্দারমনি, চাঁদপুর অঞ্চলগুলো ঘিঞ্জি হয়েছে উঠেছে। তাই মানুষ নিজেই তৈরি করে নিয়েছে অফবিট। নামখানার কাছে মৌসুনি দ্বীপপুঞ্জ। এটি বকখালির কাছেই অবস্থিত। এখানে রয়েছে তাঁবুর ভিতর রাত কাটানোর সুযোগ। সমুদ্রের পার ধরে হেঁটে গেলে পৌঁছে যেতে পারেন ম্যানগ্রোভ মোহনা। সমুদ্রের তীরে কিছুটা সময় একান্তে কাটাতে চাইলে ঘুরে আসুন এই মৌসুনি দ্বীপপুঞ্জ থেকে।
আরও পড়ুন: সবুজ ঘাস আর ফুলের মেলা! বসন্তের সাক্ষী হতে কোন পাহাড়ে পাড়ি দেবেন?