টাকা দাও, পুরসভায় চাকরি নাও! প্রার্থীদের কাছে আসছে ফোন

স্বাস্থ্য দফতরের পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে বারবার ফোন করে টাকা চাওয়া হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে ভিনরাজ্যের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট নাম্বার।

টাকা দাও, পুরসভায় চাকরি নাও! প্রার্থীদের কাছে আসছে ফোন
নেহা মুখার্জি- নিজস্ব চিত্র

শিলিগুড়ি: বিধানসভা নির্বাচনের আগে পুরসভার (Siliguri Municipality) স্বাস্থ্য দফতরে চতুর্থ শ্রেণির অস্থায়ী দু’টি পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে উঠল টাকা চাওয়ার অভিযোগ। বিস্ফোরক এই অভিযোগ উঠেছে প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে। বহু পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, স্বাস্থ্য দফতরের ওই পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে বারবার ফোন করে টাকা চাওয়া হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে ভিনরাজ্যের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট নাম্বার। ঘটনায় উদ্বিগ্ন পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলী। সূত্রের খবর, আগামী সোমবার দফতর খুললে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হবে।

শিলিগুড়িতে স্বাস্থ্য দফতরের সংশ্লিষ্ট দু’টি পদের জন্য ৭০ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তাঁদের অনেকের কাছেই পাঠানো হয়েছে ভিনরাজ্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর। যেখানে অগ্রিম টাকা পাঠালে পুরসভার ওই পদগুলিতে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হবে বলে দাবি করা হয়েছে। এই চক্রের ফাঁদে যাতে কোনও ভাবেই চাকরিপ্রার্থীরা না পড়েন তা নিশ্চিত করার জন্য TV9-বাংলায় বিস্তারিত জানিয়ে সকলকে সতর্ক করেছেন প্রশাসক বোর্ডের সদস্য শংকর ঘোষ।

শিলিগুড়ি পুরসভা

এই বিষয়ে শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য শঙ্কর ঘোষ বলেন, “সম্প্রতি আমাদের চতুর্থ শ্রেণীর চাকরির একটি পরীক্ষা হয়েছিল। সেখানে যে সব প্রার্থীরা পরীক্ষায় বসেছিলেন তাঁদের কাছে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে টাকা চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ এসেছে। আমরা এই বিষয়ে সকলকে সচেতন হওয়ার জন্য আবেদন করছি। পুরসভার কোনও চাকরির জন্য আলাদা করে টাকা-পয়সা চাওয়া হয় না।”

ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, এই ধরনের প্রতারণা চক্রের পেছনে জামতারা গ্যাংগের হাত থাকতে পারে। যা নিয়ে আগামী সোমবার পুরসভা খোলার পরে লিখিতভাবে পুলিশে অভিযোগ জানাবেন কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: বাবু মাস্টারের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা বর্ষণ, হাসপাতালে রক্তাক্ত বিজেপি নেতা

শিলিগুড়ি পুরসভার ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের শিলিগুড়ি জংশন এলাকার বাসিন্দা নেহা চাকি মুখার্জি বলেন, “আমার কাছে গত শুক্রবার অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। আমাকে বলা হয়, পুরসভার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারিনি। তবে যদি আমি ৭৫ হাজার টাকা একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে পাঠিয়ে দেই সেক্ষেত্রে আমার ওই চাকরি হয়ে যাবে। বিষয়টি আমি পরিবারের বাকি সদস্যদের জানাতেই খোঁজখবর শুরু করেন। দেখা যায় যে অ্যাকাউন্ট নম্বর আমায় দেওয়া হয়েছে তা ভিনরাজ্যের। আমি পুরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করে এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছি।”

শিলিগুড়ি পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের চতুর্থ শ্রেণীর দু’টি পদে নিয়োগ করার জন্য সম্প্রতি শিলিগুড়ি বাঘাযতীন পার্ক এলাকায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। এই দু’টি পদের জন্য ৭০ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। এখনও পর্যন্ত সেই পরীক্ষার ফলাফল না বের হলেও ভোটের মুখে এই ঘটনায় হইচই শুরু হয়েছে।

কখনও এটিএম কার্ড ব্লক হওয়া, বা পুরস্কার জিতেছেন জানিয়ে বলে নানা ধরনের লোভ দেখিয়ে টাকা পয়সা আত্মসাৎ করছে একাধিক প্রতারণা চক্র। এ ক্ষেত্রেও সেই ধরনের বড় চক্র আছে বলেই মত পুরসভার।

আরও পড়ুন: বেঁকে বসল আরএসপি, একগুঁয়ে কংগ্রেসও! জোটের ভবিষ্যৎ আটকে সেই মালদায়