খেলার জন্য লাগে খেলোয়াড় ও পরিবেশ, তৃণমূল ছেড়ে কটাক্ষ নান্টুর

নাম না করে পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব ও ক্রিড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং সরাসরি প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আইপ্যাকের বিরুদ্ধে এবার সুর চড়ালেন তৃণমূলত্যাগী নান্টু পাল (Nantu Pal), তুললেন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

খেলার জন্য লাগে খেলোয়াড় ও পরিবেশ, তৃণমূল ছেড়ে কটাক্ষ নান্টুর
ফাইল ছবি

শিলিগুড়ি: ‘খেলা হবে’ স্লোগান দেওয়া সহজ। কিন্তু তার জন্য দরকার খেলোয়াড় ও খেলার পরিবেশ। দল ছেড়ে তৃণমূল (TMC) কে এভাবেই কটাক্ষ করলেন শিলিগুড়ির নির্দল প্রার্থী নান্টু পাল (Nantu Pal)।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর শিলিগুড়িতে উপস্থিতির দিনই দল ছেড়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছেন নান্টু। এবার দলের শীর্ষনেতৃত্ব-সহ নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন শিলিগুড়ি বিধানসভা কমিটির সদ্য প্রাক্তন চেয়ারম্যান। নির্বাচনী আবহে মমতা-সহ তৃণমূল নেতৃত্ব যখন ‘খেলা হবে’ স্লোগান দিয়ে বিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন তখন তৃণমূলত্যাগী নান্টুর কটাক্ষ, “কোচ অদৃশ্য। শিলিগুড়ির খেলায়াড় থাকতেও বাইরের প্লেয়ার এনে খেলাতে চাইছেন এঁরা। আর কেউ নেতা হয়ে উঠুক তা চান না এরা। তাই নেতা তৈরির সাপ্লাই লাইন কাটতেই আমার নাম প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দিতে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র হয়েছে।”

এখানেই থামেননি তিনি। তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্বের দিকেও আঙুল তোলেন। রবিবার শিলিগুড়িতে মমতার সভার আগেই নান্টুর ক্ষোভ প্রশমনে উদ্যোগী হয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। কিন্তু এদিন নান্টু বলেন, “ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) আমায় স্নেহ করেন। কলকাতায় গেলে তাঁর গাড়িতে নানা জায়গায় যাই। তা নিয়ে কথা শুনিয়েছেন ক্রিড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas)। এসব কথা মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে পারিনি।” তিনি যোগ করেন, “আমি খেলাধুলো জগতের লোক। আমায় স্পোর্টস বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান পদে রেখেও কেন দফতর তালাবন্ধ রাখা হয়? কেন স্পোর্টস বোর্ডের টাকা খরচের ক্ষমতা কলকাতার কুক্ষিগত? শিলিগুড়িতে বহু ক্রিড়া সংগঠন থাকলেও কোন অদৃশ্য শক্তির বলে তারা আমার নাম পাঠায় না প্রার্থী হিসেবে? অথচ একমাস আগে আমার মেয়ের বিয়েতে বাড়িতেই এসেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।” এমনই সব বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন নান্টু।

প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে নান্টুর ক্ষোভ, আইপ্যাকের নির্দেশেই গত এক বছর ধরে তিনি নানা প্রচারে থেকেছেন। রীতিমতো ওয়ার্ম-আপ করেছেন। কিন্তু হঠাৎই যেভাবে প্রার্থিবদল করে দেওয়া হল তা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, শিলিগুড়িতেই এই চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র হয়। এবারেও তা হয়েছে। নান্টুর আরও কটাক্ষ, খেলা হবে স্লোগান দেওয়া সহজ। কিন্তু খেলোয়াড় ও খেলার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

প্রসঙ্গত, গোটা রাজ্যে বামেরা প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হলেও শিলিগুড়িতে ছবিটা আলাদা। সেখানে নিজেদের রাজ্যপাট দখলে রেখেছেন অশোক ভট্টাচার্য। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন বাদ দিলে শিলিগুড়িতে দাঁত ফোটাতে পারেনি তৃণমূল। ২০১৬ সালে যে বাইচুং ভুটিয়াকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল, তিনি নিজেই এবার অশোকের হয়ে প্রচারে করেছেন। এই পরিস্থিতিতে শহর থেকেই প্রার্থী নির্বাচন করতে দলনেত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন শিলিগুড়ির তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতে দেখা যায়, সেই অনুরোধ রাখেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই শিলিগুড়ির তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ জানায়, ভোটপ্রচারে অংশগ্রহণ করবেন না তাঁরা। এবার টিকিট পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন নান্টু পাল। কিন্তু তা না হওয়ায় রবিবারই দলত্যাগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: মালদা জেলা পরিষদ হাতছাড়া তৃণমূলের, ১৫ সদস্য গেলেন বিজেপিতে

এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, “ওঁকে বোঝানো হয়েছিল। আমরা চাই ওঁর শুভবুদ্ধির উদয় হোক। দলের প্রার্থিচয়ন করেন মুখ্যমন্ত্রী। আমাদের কাজ কেবল শৃঙ্খলাবদ্ধ সৈনিক হিসেবে কাজ করা।”