Madan Mitra: মোদী-শাহ আর আমার স্টেটাস এক: মদন মিত্র

Madan Mitra: "দিলীপ ঘোষ যদি বলতে পারেন, তাহলে এটাও বলতে পারেন শহিদ মিনার থেকে ঝাঁপ মেরে আত্মহত্যা করাও সম্ভব। এ খেলা ভবানীপুরের খেলা। তাই নরেন্দ্র মোদি আর অমিত শাহ স্টার ক্যাম্পেনার থেকে নাম সরিয়ে নিয়েছেন।''

Madan Mitra: মোদী-শাহ আর আমার স্টেটাস এক: মদন মিত্র
মাহেশে মদন মিত্র। ছবি: ফেসবুক

হুগলি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)- এর সঙ্গে তাঁর ‘স্টেটাস’- এর কোনও ফারাক নেই। রবিবার মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) জন্য আশীর্বাদ চান মদন মিত্র (Madan Mitra)। তার পরেই এই মন্তব্য করেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক।

ভবানীপুরে উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর জয়ের ব্যাপারে একরকম নিশ্চিত বলে জানান কামারহাটির বিধায়ক। এদিন ছড়া কেটে কেটে তিনি বলেন, “ভবানীপুর থেকে কামারহাটি, লক্ষ এবার সবার দেশের মাটি/ মমতার হাত ধরে সামনে হাঁটি, দিল্লি হবে এবার বাংলার ঘাঁটি।” আর তার পরেই প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী।

মদনের কথায়, “পুজো দিয়ে মনটা অনেক শান্তি হল। কারণ আকাশে এখন হেলিকপ্টার আর প্লেন কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এতে বোঝা গিয়েছে এখন আর বহিরাগত স্টার ক্যাম্পেনাররা নেই।” তিনি আরও যোগ করেন,”তবে দুঃখ কিছু নেই, অমিত শাহ আর নরেন্দ্র মোদি যেমন স্টার ক্যাম্পেনারে নেই। আমিও নেই। ফলে ওঁদের আর আমার স্টেটাসটা এক হয়ে গিয়েছে। এখন তুমি আমি একই।”

উল্লেখ্য, এদিন দিলীপ ঘোষ ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে মন্তব্য করেছেন নন্দীগ্রামে যদি (হার) হতে পারে, তাহলে ভবানীপুরে কেন নয়? এই নিয়ে মদনের কটাক্ষ, “দিলীপ ঘোষ যদি বলতে পারেন, তাহলে এটাও বলতে পারেন শহিদ মিনার থেকে ঝাঁপ মেরে আত্মহত্যা করাও সম্ভব। এ খেলা ভবানীপুরের খেলা। তাই নরেন্দ্র মোদি আর অমিত শাহ স্টার ক্যাম্পেনার থেকে নাম সরিয়ে নিয়েছেন।”

মাহেশে পুজো দিয়ে একটি রক্তদান শিবিরে যোগ দেন মদন। সেখানে আবার তিনি বলেন, ‘দুয়ারে সরকার, দুয়ারে রেশন পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আর কী চাই!” এর পরেই তাঁর হাতে ওই শিবিরের তরফে একটি উপহারের বাক্স তুলে দেওয়া হলে মদনের টিপ্পনী, “কিছু নিলেই এজেন্সি লেলিয়ে দেবে। বলবে দেখুন দেখুন টাকা নিচ্ছে।”

উল্লেখ্য, আগামী ৩০ তারিখ ভবানীপুরে উপ নির্বাচন। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই তাঁর হয়ে শুরু থেকেই প্রচারে নেমেছেন মদন মিত্র। এবারে বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন মমতা। কিন্তু ১৯৬৫ ভোটে তিনি হেরে যান বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। তাই নিয়ম অনুযায়ী ৬ মাসের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে বিধায়ক পদে জিতে আসতে হবে। সেই জন্যই এবার ভবানীপুরে উপনির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন তিনি। তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতাদের ভাগ করে প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভবানীপুরে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রচারে সক্রিয় ভূমিকাতে দেখা গিয়েছে মদন মিত্রকে।

কয়েকদিন আগেই কর্মীদের নিয়ে এক বৈঠকে মদনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে দেওয়াল লিখন ও প্রচার চালাতে দেখা গিয়েছে মদনকে। সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেছিলেনন, “মদন তুমি নিজের পাড়াটা ভালভাবে দেখবে। পরশু দিন তোমায় দেখছিলাম ধুতি-পাঞ্জাবি পরে দাঁড়িয়েছিলে। একদম ওই ভাবে। কিন্তু বেশি সাজুগুজু করবে না। মদন একটু কালারফুল ছেলে। মাঝে মাঝে বেশি কালারফুল হয়ে যায়। সেই সময়ে একটু প্রবলেম হয়ে যায়।”

আরও পড়ুন: ‘দেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই’, রাজারহাটে লক আপে নিহত বিজেপি কর্মীর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla