‘বাবার মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী’, হাসপাতালের পাঁচতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী তরুণ!

Suicide: ভাইকে নিয়ে কত স্বপ্ন ছিল বাবার। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হল না। বাবা-ভাই একসঙ্গে এভাবে চলে গেলেন! ভাইয়ের ওই মেসেজের মানে কী? বিড়বিড় করছেন শোকে পাথর দাদা।

'বাবার মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী', হাসপাতালের পাঁচতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী তরুণ!
প্রতীকী চিত্র

পূর্ব বর্ধমান: ইংরেজি অনার্সের পড়া শেষ করেই বেঙ্গালুরু পড়তে যাওয়ার কথা অশোকের। চোখে অনেক স্বপ্ন। ছেলেকে নিয়ে অনেক আশা পরিবারের। কিন্তু মাত্র দু’ ঘণ্টার মধ্যেই সব কেমন যেন ওলটপালট হয়ে গেল। হাসপাতালে বাবার মৃত্যুর ঘণ্টা দুয়েক পর সেই বিল্ডিং থেকেই ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন ছেলে! ঘটনায় স্তম্ভিত পরিবার থেকে পড়শিরা।

পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের তোরকনা গ্রাম। এখানেই দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে ভরা সংসার কার্ত্তিক রুইদাসের (৪৯)। কিন্তু সুখের পরিবারে আচমকা বজ্রপাত। মাত্র ৪৯ বছর বয়সে ব্রেন স্ট্রোক হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হল কার্ত্তিকবাবুর। আর বাবার মৃত্যুশোক সহ্য করতে না পেরে সেই হাসাপাতালেরই পাঁচতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন তৃতীয় বর্ষে পাঠরত ইংরেজি অনার্সের ছাত্র অশোক। মাত্র দুটো ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা ও ছেলেকে হারাল পরিবার।

সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় কার্ত্তিক রুইদাসের। ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তিনি। প্রথমে তাঁকে বর্ধমানের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে একটি বেসরকারি নাসিংহোমে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

কিন্তু হাল ছাড়েনি পরিবার। সপ্তাহ খানেক ফের তাঁকে দুর্গাপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সব চেষ্টা ব্যর্থ করে সোমবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার মৃত্যু হয় কার্ত্তিকবাবুর। হাসপাতাল থেকে বাবার মৃত্য সংবাদ দাদা অলোককে দেন অশোক। মা ভেঙে পড়বেন কষ্টে। তাই তাঁকে তক্ষুনি এই খবর জানাতে বারণ করেন দাদাকে। কিন্তু এরপর আর ভাইয়ের খোঁজ পাননি অলোক।

এরপর সাড়ে নটা নাগাদ একটা ফোন আসতেই পড়িমরি করে ঘর থেকে বেরিয়ে যাযন অশোক। ভাইকে বারবার ফোন করেছেন। কিন্তু ততবারই তিনি ফোন কেটে দিয়েছেন। অবশেষে দাদার ফোনে একটি মেসেজ পাঠালেন ভাই। তাতে লেখা, ‘বাবার মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী’। ঘটনার আধঘণ্টা পর হাসপাতাল চত্বরে ভাইকে দেখতে পান দাদা। কিন্তু নিথর ও রক্তাক্ত দেহ! হাসপাতালের পাঁচতলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন ভাই! অশোককে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

ভাইকে নিয়ে কত স্বপ্ন ছিল বাবার। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হল না। বাবা-ভাই একসঙ্গে এভাবে চলে গেলেন! ভাইয়ের ওই মেসেজের মানে কী? বিড়বিড় করছেন শোকে পাথর দাদা। মঙ্গলবার বাবা ও ছেলের মৃত দেহ খণ্ডঘোষের তোরকোনার বাড়িতে পৌঁছতে শোকের ছায়া নেমেছে এলাকায়। আরও পড়ুন: মেঝেতে পড়ে ছটফট করতে করতে হট্ করে স্থবির হয়ে গেল শরীরটা! বেআব্রু মাথাভাঙা হাসপাতালের ‘ঔদাসিন্য’ 

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla