মানুষ খুনে সিদ্ধহস্ত! নৃশংসতায় বিশ্বশ্রেষ্ঠ! ছাত্র না জঙ্গি, তালিবান আসলে কারা?

Who are Talibans: আফগানিস্তানের একটি ইসলামিক মিলিট্যান্ট গ্ৰুপ, যারা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত আফগানিস্তান শাসন করেছিল।

মানুষ খুনে সিদ্ধহস্ত! নৃশংসতায় বিশ্বশ্রেষ্ঠ! ছাত্র না জঙ্গি, তালিবান আসলে কারা?
মহিলাদের অবস্থা তো আরও সঙ্গীন। আফগানিস্তানে আপাতত মেয়েদের কাজ করা নিষিদ্ধ। পড়াশোনা? সেটা সপ্তম শ্রেণির পর আর নয়। ছেলেদের জন্যও রয়েছে একাধিক ফতোয়ার ফিরিস্তি। কাবুলের এক মহিলা বাসিন্দা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানাচ্ছেন, ভারতের সঙ্গে তাঁদের অবিচ্ছন্ন যোগাযোগ। যার অন্যতম মাধ্যম ছিল গান। কিন্তু এখন সেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে বসেছে।

পাশতু ভাষায় তালিবান শব্দের অর্থ ছাত্র। তালিবান আফগানিস্তানের একটি ইসলামিক মিলিট্যান্ট গ্ৰুপ, যারা এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত আফগানিস্তান শাসন করেছিল। সেই সময় তালিবানি শাসনকে স্বীকৃতি দিয়েছিল মোট ৩টে দেশ। সেই দেশগুলি হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও পাকিস্তান। ১৯৯০ সালের আশেপাশে মোল্লা মোহম্মদ ওমর চরমভাবাপন্ন ইসলামে বিশ্বাসী এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ন্যাটোর হিসাবে বর্তমানে তালিবানের সক্রিয় সদস্য প্রায় ৮৫ হাজার।

১৯৭৩ থেকে আফগানিস্তানে গণতন্ত্র থাকলেও ১৯৭৮ সালে পিপলস’স ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (PDPA) তৎকালীন ‘রিপাবলিক অফ আফগানিস্তান’-এর গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে ও কমিউনিস্ট সরকার গঠন করে। তারা দেশের নাম বদলে ‘ডেমোক্র্যাট রিপাবলিক অফ আফগানিস্তান’ করে। এই সরকার তৎকালীন সোভিয়েত রিপাবলিককে তাদের বন্ধুরাষ্ট্রের মর্যাদা দেয়। আফগানিস্তানে তখন গৃহযুদ্ধের আগুন জ্বলছে। সোভিয়েত সৈন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আফগানিস্তানে ঢোকে ও আমেরিকা সমর্থিত মুজাহিদিন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। ১৮৮৯তে বিভিন্ন কারনে সোভিয়েত সৈন্য আফগানিস্তান থেকে সরে গেলেও সোভিয়েত রিপাবলিক আর্থিক ভাবে কমিউনিস্ট আফগান সরকারকে সাহায্য করতে থাকে।

১৯৯২ সালে আফগান মুজাহিদিনরা কাবুল দখল করে নতুন সরকার গঠন করে। পুনরায় আফগানিস্তানের নাম বদল হয়, নতুন নাম হয় ‘ইসলামিক রিপাবলিক অফ আফগানিস্তান’। তালিবান ইতিমধ্যে তাদের ক্ষমতা বাড়াতে থাকে ও আফগান মুজাহিদদের সরিয়ে গোটা দেশের দখল নিতে থাকে। ১৯৯৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর তালিবান কাবুল দখল করে ও প্রতিষ্ঠা করে ‘ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তান’।

১৯৯০ এর শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠার পর আফগানিস্তানের তালিবান ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯৯০-এর সেপ্টেম্বর তালিবান হেরাত দখল করে। ১৯৯৬-এর ২৭শে সেপ্টেম্বর কাবুল দখল করে তালিবান। প্রতিষ্ঠা হয় ‘ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তানের’। মোল্লা ওমর নিজেকে ‘আমির আল মুমিন’ বা ‘কমান্ডার অফ ফেথফুল’ ঘোষণা করে। এরপরে ধীরে ধীরে ১৯৯৮ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের ৯০ শতাংশ এলাকা দখল করে তালিবান। শুধুমাত্র পঞ্জশির ছিল তাদের হাতের বাইরে। আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ তাদের স্বাগত জানিয়েছিল। কারণ তালিবান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতায় এসে তারা আফগানিস্তানের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে তারা। কিন্তু ক্ষমতায় এসেই তারা তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে শরিয়ত আইন বলবৎ করে।

তালিবান প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমর ২০১৩তে মারা যায়। ২০১৫ সালে সেই খবর স্বীকার করে তালিবান। তারপরে তালিবান প্রধান হয় মোল্লা মনসুর। মোল্লা মনসুর ২০১৬ সালে আমেরিকার একটি ড্রোন হানায় মারা যায়। তারপর থেকে তালিবান প্রধান হিসাবে রয়েছে হিবাতুল্লা আকুন্দজাদা। তার অধীনে রয়েছে তিনজন উপপ্রধান। তারা হল, আব্দুল গনি বরাদর, মোহম্মদ ইয়াকুব ও সিরাজুদ্দিনা হাক্কানি। তাদের অধীনে আবার রয়েছে ১৭ জনের একটি মন্ত্রিসভা। তালিবানের বিচারসভার প্রধান বিচারক হিসাবে রয়েছে আব্দুল হাকিম। এছাড়াও রয়েছে ২৬ সদস্যের লিডারশিপ কাউন্সিল। এরা প্রত্যেকে মিলে পরিচালনা করবে তালিবান সরকারের শাসনযন্ত্র।

Rulling Body Of Taliban

আফগানিস্তানে তালিবানের পুনরায় ক্ষমতা দখল করায় ইতিমধ্যেই সেখানে শুরু হয়ে গিয়েছে চরমপন্থী শাসন। নারীদের জন্য বন্ধ হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরজা। সে দেশে নিষিদ্ধ হয়েছে স্মার্টফোন ও টিভি। জোর করে দেশের যুবকদের তালিবানে যোগ দেওয়ানো শুরু হয়েছে। জীবনহানির আশঙ্কা বেড়েছে সাংবাদিক, বিচারক ও পিস অ্যাকটিভিস্টদের। তালিবানরা মহিলাদের জোর করে বিয়ে করছে।

তবে, এখনও পর্যন্ত আশার আলো ১৯৯৬ সালে তালিবানের বাড়বাড়ন্ত দেখে ভারতসহ বেশ কিছু দেশের সহায়তায় গঠিত হওয়া নর্দান অ্যালায়েন্স এখনও পঞ্জশিরের ক্ষমতা নিজেদের দখলে রেখেছে। সঙ্গে পুনরুদ্ধার করেছে আরও কিছু জেলা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন আফগান রাষ্ট্রপতি আশরফ গনির ডেপুটি আমিরুল্লা সালেহ। তিনি নিজেকে আফগানিস্তানের ‘কেয়ারটেকার রাষ্ট্রপতি’ হিসাবে ঘোষণাও করেছেন।

আরও পড়ুন: যেকোনও মুহূর্তে হতে পারে হামলা! কারা যেতে পারবে বিমানবন্দরে, ঠিক করে দিল মার্কিন দূতাবাস

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla