Taliban: কেবল হাক্কানিদের সঙ্গে শত্রুতাই নয়, অন্তর্দ্বন্দ্বের শিকড় ছড়িয়ে তালিবানের অন্দরমহলেও!
Taliban infighting Grows: সূত্রের খবর, সব স্তরের নেতাকে নিয়েই সরকার গঠনের পক্ষপাতি ছিলেন বরাদর। তালিবানের অন্তর্ভুক্ত নয়, এমন সদস্যদের নেওয়ার জন্যও সওয়াল করেছেন বরাদর, যাতে আন্তর্জাতিক স্তরে তালিবান কিছুটা ভাবমূর্তি ফেরাতে পারে। কিন্তু তাতে নাকি সায় নেই হাক্কানি নেতা খলিল উল রহমান হাক্কানি।
কাবুল: এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠন হয়নি, তার আগেই চরমে উঠেছে তালিবান(Taliban)-র অন্তর্দ্বন্দ্ব। সম্প্রতিই শোনা গিয়েছিল, হাতাহাতিতে জড়িয়েছিলেন তালিবান নেতা মোল্লা আব্দুল ঘানি বরাদর (Mullah Abdul Ghani Baradar) ও হাক্কানি নেতা খলিল উর-রহমান হাক্কানি (Khalil-ur-Rahman Haqqani)। তবে সূত্রের খবর, এই দ্বন্দ্ব কেবল শীর্ষ নেতৃত্বদের মধ্যেই নয়, শিকড় ছড়িয়ে পড়েছে একদম গভীরেও। হাক্কানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরোধের পাশাপাশি তালিবানের ভিতরেও দুটি গোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়েছে, ক্ষমতার শীর্ষ থাকা নেতা-মন্ত্রী বনাম তালিবান রাজনৈতিক ও যোদ্ধা।
সূত্রের খবর, সব স্তরের নেতাদের নিয়েই সরকার গঠনের পক্ষপাতি ছিলেন মোল্লা আব্দুল বরাদর। তালিবানের অন্তর্ভুক্ত নয়, অথচ শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে, এমন সদস্যদের নেওয়ার জন্যও সওয়াল করেছিলেন তিনি, যাতে আন্তর্জাতিক স্তরে তালিবান নিজেদের ভাল ভাবমূর্তি তৈরি করতে পারে। কিন্তু তাতে রাজি নন হাক্কানি নেতা খলিল উর রহমান হাক্কানি। চলতি মাসের শুরুতেই সেই বিষয়ে কথা কাটাকাটি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, চেয়ার ছেড়ে উঠে সোজা বরাদরকে নাকি ঘুষি মারেন খলিল উর রহমান হাক্কানি। এরপর গোলাগুলি চলে বলে সূত্রের খবর। ওই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে বলেও জানা যায়। ওই ঘটনার পরই নাকি কাবুল ছেড়ে কান্দাহারের দিকে চলে গিয়েছেন মোল্লা বরাদর।
এ দিকে, সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার দাবি, অন্তর্বর্তী যে মন্ত্রিসভা গঠন করেছে তালিবান, তাদের হাতে নাকি কোনও ক্ষমতাই দেওয়া হয়নি। তালিব সরকারের সুপ্রিম নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজ়াদাই নাকি কান্দাহার থেকে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। একাধিক তালিবান নেতাও মন্ত্রিসভায় তাদের পদ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, মোল্লা ঘানি বরাদর, মহম্মদ আব্বাস স্ট্য়ানকিজ়াই তালিবানের মুখ হিসাবে পরিচিত হলেও তালিব সরকারে তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়নি বলে নাকি ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। হাক্কানি নেতাদের সঙ্গে বরাদরের বিরোধের অন্যতম কারণ এটাও বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, তালিবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা মহম্মদ ওমরের ছেলে মোল্লা মহম্মদ ইয়াকুবকে মন্ত্রিসভায় গুরত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও নাকি তালিবানের অন্দরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে তালিবানের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, এরপর মন্ত্রিসভায় আর কোনও বদল আনা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, তালিবান যোদ্ধারাও নাকি শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা নিয়ে নিরাশ। আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করতে গত মে মাস থেকে তারা আফগান বাহিনীর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে ক্লান্ত। এদিকে, ক্ষমতা দখলের পরই তালিবান নেতারা তাদের দিকে আর ঘুরে দেখছেন না বলে অভিযোগ। প্রবল অর্থকষ্ট, খাদ্যসঙ্কটে আফগানিস্তানের স্থানীয় বাসিন্দারাই মাঝেমধ্যে তালিব যোদ্ধাদের সাহায্য করছেন, তাই তালিবান যোদ্ধারা আপাতত স্থানীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্কই বজায় রাখতে চায়। কিন্তু সেখানেই বিরোধ বেধেছে, কারণ শীর্ষনেতারা সাধারণ মানুষের মনে তালিবানকে নিয়ে যে ভয় রয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়েই ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইছে।