শ্বশুরবাড়ি কলকাতায়, পাঞ্জাবের ভরত কুমারই ‘সুমিত’ নামে ভাড়া নিয়েছিল সাপুরজির ফ্ল্যাট

জয়পাল সিং ভুল্লারকে (Jaipal Singh Bhullar) লজিস্টিক সাপোর্ট দিত ভরত কুমার। গত কালই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

শ্বশুরবাড়ি কলকাতায়, পাঞ্জাবের ভরত কুমারই 'সুমিত' নামে ভাড়া নিয়েছিল সাপুরজির ফ্ল্যাট
সুমিতের নামে বানানো ভরত কুমারের সেই ফেক আইডি

কলকাতা: গত কাল অভিজাত আবাসনে পরপরপ ২৫-৩০ টা গুলির শব্দে চমকে গিয়েছিলেন বাসিন্দারা। তাঁরা আরও চমকে যান যখন শোনেন তাঁদের প্রতিবেশী হয়ে এত দিন ধরে আবাসনে ছিল দুই ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ গ্যাংস্টার। এসটিএফের গুলিতে মৃত্যু হয় তাদের। ফ্ল্যাট থেকে বের করে আনা হয় একাধিক অপরাধে যুক্ত জয়পাল সিং ভুল্লার ও যশপ্রীত সিং-এর দেহ। কী ভাবে সাপুরজির অভিজাত আবাসনে দিনের পর দিন গা ঢাকা দিয়ে ছিল কুখ্যাত দুষ্কৃতীরা? শুরু হয় সেই তথ্যের খোঁজ। আর সেই তদন্তে নেমেই উঠে আসে সুমিত কুমার নামে এক ব্যক্তির নাম। তিনিই নাকি ভাড়া নিয়েছিলেন ওই ফ্ল্যাট। কিন্তু কে এই সুমিত কুমার?

ব্রোকারের কাছে সব নথি দিয়েই ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এই ঘটনার পর আর সেই সুমিত কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁকে ফোন করলে তাঁর মোবাইল সুইচড অফ পাওয়া যায়। কোথায় গায়েব হয়ে গেলেন সুমিত? এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছিল। এ বার জানা গেল, ‘সুমিত’ আসলে ভরত কুমার। সুমিত কুমার বলে আদতে কারও অস্তিত্ব নেই। ওই নামে ভুয়ো আইডি বানিয়েছিলন ভরত কুমার। উল্লেখ্য, গত কালই এই ভরত কুমারকে গ্রেফতার করে পাঞ্জাব পুলিশ। তাকে জেরা করেই নিউ টাউনের ওই আবাসনের কথা জানতে পারে পুলিশ।

কী তথ্য পেয়েছে পাঞ্জাব পুলিশ?

পাঞ্জাব পুলিশের ডিএসপি বিক্রমজিৎ ব্রার জানিয়েছেন, কলকাতায় শ্বশুরবাড়ি ভরত কুমারের। সুমিত নামের ভুয়ো আইডি বানিয়ে ভরতই এসেছিল কলকাতায়। দিন পাঁচেক কলকাতায় ছিল সে। ব্রোকারকে আধার কার্ড দেখিয়ে ভাড়া নেয় ফ্ল্যাট। তারপর, জয়পাল ও যশপ্রীতকে ফ্ল্যাটে রেখে সে পাঞ্জাবে ফিরে যায়। গত কাল গ্রেফতার হওয়া ভরত কুমারকে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হয়েছে। তাকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হেফাজতে নিয়ে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নেওয়ার চেষ্টা করবে পুলিশ। অন্য কোনও সঙ্গীর খোঁজ পেলে তাকেও গ্রেফতার করবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: চুক্তিপত্রের কোথাও নামই নেই ভুল্লারদের! সাপুরজির সেই ফ্ল্যাটের আসল মালিকানা নিয়েই গহীন রহস্য

কে এই ভরত কুমার?

কুখ্যাত দুষ্কৃতী জয়পাল সিং ভুল্লারকে ধরতে দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছিল পাঞ্জাব পুলিশ। তল্লাশি অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন জ্যাক।’ পাঞ্জাব পুলিশের ডিজিপি দিনকর গুপ্তা জানিয়েছেন, এই গ্যাংস্টারই খুন করে পাঞ্জাবের দুই এএসআই-কে। তাদের তল্লাশি চালাতে গিয়ে গত কাল বুধবার তারা গ্রেফতার করে ভরত কুমার নামে এক ব্যক্তিকে। জানা গিয়েছে জয়পালকে লজিস্টিক সাপোর্ট দিত এই ভরত কুমার। সে ভরতই ধরা পড়ার পর পুলিশকে বলে দেয় জয়পালের অবস্থান। সেখান থেকে সূত্র পেয়েই খবর দেওয়া হয় কলকাতা পুলিশকে।

আবাসনের মালিক কে?

ওই ফ্ল্যাটের মালিকের নাম নিয়েও সমস্যা আছে। প্রথমে জানা যায়, ওই ফ্ল্যাটের মালিকের নাম সাবির আলি। বিহারের বাসিন্দা তিনি। আবাসন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা জানাচ্ছেন, এই ফ্ল্যাটটি দেখাশোনা করতে আসতেন সাবির আলি। তিনি খোঁজখবর নিতেন ফ্ল্যাটের। ভাড়ার দেওয়ার ব্যাপারটিও দেখতেন। অন্যদিকে, এই ঘটনায় ধৃত ব্রোকার সুশান্ত সাহার বক্তব্য, ফ্ল্যাটটির এগ্রিমেন্টে নাম রয়েছে তাঁর দাদা আকবর আলির। তিনি কলকাতার আনন্দ পালিত রোডের বাসিন্দা। ব্রোকারের দাবি ফ্ল্যাটের মালিক আকবর আলি। তবে চুক্তিপত্রের কোথাও নেই ভুল্লারদের নাম। জয়পালরা যে সুমিত কুমারের নামে ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়, তা ব্রোকারের মাধ্যমে। এবং ফ্ল্যাটটি ব্রোকারের মাধ্যমে ভাড়া দেন আকবর আলিই।