CPIM: সেলিমের থেকে সুজন চক্রবর্তী অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য নেতা: কুণাল
CPIM: সিপিএমের খসড়া রিপোর্ট নিয়ে চলছে শোরগোল। কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক জোট নয়। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সাম্প্রতিক খসড়া রিপোর্টে উল্লেখ। অথচ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংহতি রক্ষায় গান্ধীজিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিজেপি বিরোধিতায় ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক সেলিমের।

কলকাতা: “বিজেপিতে যারা আছে, তাদের মধ্যে সাংগঠনিক ভাবে, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় শুভেন্দু অনেকটাই এগিয়ে।” কয়েকদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতার এ ভাষাতেই দরাজ প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছিল কুণাল ঘোষকে। যা নিয়ে বিস্তর জলঘোলাও হয়। বঙ্গ বিজেপির নতুন সভাপতি ‘নির্বাচন’ নিয়ে যখন চাপানউতোর তুঙ্গে তখন কুণালের এ কথায় বেশ ইঙ্গিতবাহী বলেই মত ছিল রাজনীতির কারবারিদের। এবার কুণালের নজর সিপিএমে। “মহম্মদ সেলিমের থেকে সুজন চক্রবর্তী অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য নেতা।” বামেদের নিশানা করতে গিয়ে সুজন চক্রবর্তীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা গেল তাঁকে। একইসঙ্গে তাঁর আরও দাবি, সুজন চক্রবর্তীর গ্রহণযোগ্যতাকে সেলিম সহ্য করতে পারেন না। তাই বিভ্রান্ত করারও চেষ্টা করেন।
প্রসঙ্গত, আরজি কর থেকে হেলা বাড়ি, বিগত কয়েক মাসে বারবার কলকাতার রাস্তায় গর্জে উঠেছে বামেরা। লোকসভা ভোটের পর উপনির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়লেও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সেই অর্থে ভাটা পড়েনি। এবার সেই সিপিএমকেই ‘জোট’ নিয়ে তীব্র খোঁচা দিলেন কুণাল। সাফ কথা, “সিপিএম শূন্য। ২০১১ সালের পর কোনও ভোট একা লড়ার মুরোদ হয়নি আপনাদের। কমরেড মহম্মদ সেলিম শুনতে পাচ্ছেন? দম হয়নি আপনাদের। ২০১৬ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট। ২০২১ সালেও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট। আপনি তো ঘুরে ঘুরে সিট বাছেন, তুলনায় নিরাপদ সিটে দাঁড়ান আর হারেন।”
এখানেই না থেমে আক্রমণের সুর আরও চড়িয়ে তিনি বলেন, “সিপিএম এককভাবে একটাও নির্বাচন লড়েনি। এই যে বিকাশ ভট্টচার্য। সেও তো কংগ্রেসের সমর্থনে এমপি।” এদিকে আবার সিপিএমের খসড়া রিপোর্ট নিয়ে চলছে শোরগোল। কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক জোট নয়। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সাম্প্রতিক খসড়া রিপোর্টে উল্লেখ। অথচ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংহতি রক্ষায় গান্ধীজিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিজেপি বিরোধিতায় ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক সেলিমের। সিপিএম বলছে, রাজনৈতিক সমঝোতা আর আসন সমঝোতা এক নয়। আদর্শগত এবং নীতিগতভাবে সম মনোভাবাপন্ন না হলে রাজনৈতিক সমঝোতা হয় না। কিন্তু আসন সমঝোতা হয়। সেক্ষেত্রে আসন সমঝোতায় শুধু সিপিএমের আগ্রহ থাকলে হবে না, কংগ্রেসেরও একইরকম আগ্রহ থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন সেলিম। এবার সেই কুণাল সিপিএমের অবস্থান নিয়ে খোঁচা দিতেই শুরু হয়েছে চর্চা। অন্যদিকে কংগ্রেস প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আবার তৃণমূলকেও খোঁচা দিয়েছেন সেলিম। তাঁর কথায়, “নামে তৃণমূল কংগ্রেস হলেও আদতে ওরা বিজেপির উইং।” এরপরই খানিক কংগ্রেসের প্রশংসা করে আবার বলেন, “কংগ্রেসে থেকেই তো তৃণমূল কংগ্রেস। সেখান থেকেই বিজেপি। তবে কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রবণতা অনেকটা কমেছে।”
