ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে শ্রী সিমেন্ট
গত ১০ মাস ধরে ক্লাব-ইনভেস্টর চুক্তি জট চলছে। পরিমার্জিত চূড়ান্ত চুক্তিপত্রে ক্লাব সই না করায় বেশ বিরক্ত শ্রী সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ। আর তার জেরে এ বার সম্পর্ক ছেদ করার পথে হাঁটছে বিনিয়োগকারী সংস্থা।

কলকাতা: আরও আঁধারে মশাল। ক্লাব-ইনভেস্টর চুক্তি জটে কর্তাদের আচরণে বীতশ্রদ্ধ লগ্নিকারী সংস্থা। ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে শ্রী সিমেন্ট (Shree Cement)। গত ১০ মাস ধরে ক্লাব-ইনভেস্টর চুক্তি জট চলছে। পরিমার্জিত চূড়ান্ত চুক্তিপত্রে ক্লাব সই না করায় বেশ বিরক্ত শ্রী সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ। আর তার জেরে এ বার সম্পর্ক ছেদ করার পথে হাঁটছে বিনিয়োগকারী সংস্থা।
ইনভেস্টরের প্রতিনিধির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও শর্ত ছাড়াই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে স্পোর্টিং রাইটস ফিরিয়ে দেবে তারা। এতদিন পর্যন্ত শ্রী সিমেন্টের দাবি ছিল, সম্পর্ক ছেদ করতে চাইলে ক্লাবকে ৬০ কোটি টাকা দিতে হবে। সেই শর্তেই স্পোর্টিং রাইটস ফিরিয়ে দেবে তারা। তবে এই দড়ি টানাটানিতে এ বার বিরক্ত বিনিয়োগকারী সংস্থা। তাই ৬০ কোটি টাকাকে ‘ক্ষতি’ হিসেবে দেখেই বিনা শর্তে ক্লাবকে স্পোর্টিং রাইটস ফিরিয়ে দেওয়ার পথে শ্রী সিমেন্ট। স্পোর্টিং রাইটস ফিরে পেলেও ইস্টবেঙ্গলের ফুটবল ভবিষ্যত্ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
আর কয়েকদিনের মধ্যেই বিচ্ছেদের সমস্ত প্রক্রিয়া শুরু করে দেবে লগ্নিকারী সংস্থা। দীর্ঘ কয়েক মাসের চুক্তি জটে রীতিমতো ক্লান্ত শ্রী সিমেন্ট। চুক্তিপত্রের বেশ কয়েকটা জায়গায় শিথিলতা আনার পরও ইস্টবেঙ্গল কর্তারা বেঁকে বসেন। ৩১ আগস্ট ফিফা ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হচ্ছে। ক্লাব কর্তারা আরও দেরিতে সই করলে দলই ঠিকমতো গঠন করতে পারবে না লগ্নিকারী সংস্থা। ফ্রি ফুটবলার ছাড়া কাউকে সই করাতে পারবে না। একই সঙ্গে ট্রান্সফার ব্যানও তুলতে হবে। কারণ কোয়েস জমানার ফুটবলারদের বকেয়া না মেটানোয় ইস্টবেঙ্গলকে ট্রান্সফার ব্যানের কোপে পড়তে হয়েছে।
শ্রী সিমেন্টের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে চাপে ফেলে দেবে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে। অনেকদিন ধরেই অপেক্ষা করছিলেন বিনিয়োগকারী সংস্থার কর্তারা। চূড়ান্ত চুক্তিপত্রে সই করা নিয়ে একের পর এক মিটিং করেছেন কর্তারা। মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গেও কথা চালায় ক্লাব। তবু সুরাহা কিছুই হয়নি। খেলা হবে দিবসের মঞ্চ থেকেও ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের ছেড়ে খেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। চুক্তিপত্র নিয়ে বরং একের পর এক নতুন দাবি করতে থাকেন কর্তারা। ক্লাব কর্তাদের এই আচরণেই বেশ ক্ষুব্ধ শ্রী সিমেন্ট। ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙল লগ্নিকারী সংস্থার কর্তাদেরও। তাই সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে হেঁটে ক্লাবকে আরও চাপে ফেলে দিল বিনিয়োগকারী সংস্থা। শ্রী সিমেন্ট ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করলে ইস্টবেঙ্গলের চলতি মরসুমে আইএসএল খেলাও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
আরও পড়ুন: বৈঠকই সার, চুক্তি জটেই আটকে ইস্টবেঙ্গল





