Tokyo Olympics 2020: নীরজ আলোয় কেন ঢাকা পড়বেন দেবেন্দ্র ঝাঝারিয়া?

আথেন্সের পর রিও ১২ বছর পর কোনও অ্যাথলিট যখন আবার পদকের রং মিলিয়ে দেন, বলতে হয় অদম্য ইচ্ছে তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছিল সাফল্যের সেই দিনগুলো। দেবেন্দ্রর ক্ষেত্রে এ কথাই বলতে হবে।

Tokyo Olympics 2020: নীরজ আলোয় কেন ঢাকা পড়বেন দেবেন্দ্র ঝাঝারিয়া?
Tokyo Olympics 2020: নীরজ আলোয় কেন ঢাকা পড়বেন দেবেন্দ্র ঝাঝারিয়া?

সঙ্ঘমিত্রা চক্রবর্তী

সাফল্য পেতে হলে কাউকে পোডিয়ামে উঠতে হয়। একটা কিংবা দুটো সোনা প্রতিষ্ঠা দেয় কাউকে। কিন্তু স্বীকৃতি? কতগুলো পদক জিতলে তবে স্বীকৃতি মেলে? যদি নীরজ চোপড়ার (Neeraj Chopra) কথা বলি, তা হলে এক সোনাতেই সুপারহিট। আর যদি দেবেন্দ্র ঝাঝারিয়ার (Devendra Jhajharia) কথা বলা হয়? দুটো সোনা, একটা রুপোর পরও দেবেন্দ্র গ্ল্যামারের আলো থেকে বহু দূরে। এক সোনাতেই অনেকে বায়োপিকের কথা বলছেন, কিন্তু যিনি অলিম্পিকের আসর থেকে তিন তিনটে পদক নিয়ে আসেন, তাঁকে সিনেমাতে তুলে ধরা দূরে থাক, হয়তো পাশ দিয়ে পেরিয়ে গেলেও চিনতে পারবেন না। দেবেন্দ্র ঝাঝারিয়া আর নীপজ চোপড়ার গল্পটা এমনই।

১৯৭২ সালের মুরলীকান্ত পেটকর সুইমিংয়ে সোনা জিতে প্যারালিম্পিকে (Paralympics) ভারতের যাত্রা শুরু করেছিলেন। সেই সোনালি সড়ক বেছে নিয়েছিলেন দেবেন্দ্র। ২০০৪ সালে আথেন্স প্যারালিম্পিকে জ্যাভলিন থেকে প্রথম সোনা। ১২ বছর পর আবার রিওতে তাঁর গলায় সোনার পদক। এবং, টোকিও প্যারালিম্পিকে (Tokyo Olympics) ধারাবাহিক দেবেন্দ্রর রুপো প্রাপ্তি।

২০০৪ সাল থেকে ২০২১ — ১৭ বছরের সুদীর্ঘ কেরিয়ারে সাফল্যে একাকার থেকেছেন দেবেন্দ্র। এশিয়ান থেকে বিশ্বমিট কখনও নিরাশ করেননি দেশকে। মজার কথা হল, আমরা প্রত্যাশার যে পারদ চড়িয়ে রাখি তার সমীকরণে কোথাও দেবেন্দ্ররা নেই। তাও এই দেবেন্দ্ররাই নিজেদের তাগিদে, প্রতিবন্ধকতার পাহাড় ঠেলতে ঠেলতে পাহাড়চূড়ায় পৌঁছে যান। এই বাস্তব কোলাজে দেবেন্দ্র, মারিয়াপ্পান থাঙ্গাভেলু, ভাবিনাবেন প্যাটেল, অবনী লেখরারা মিলেমিশে রয়েছেন।

নীরজ চোপড়ার উত্থান ২০১৬ সালে। যুব বিশ্বমিট থেকে। মাত্র ৫ বছরে অলিম্পিকের সোনার মঞ্চে হরিয়ানার ছেলে। সাফল্য, পরিশ্রম, অধ্যাবসায়, হারিয়ে যেতে যেতে ফিরে আসা, সব ছাপিয়ে গিয়ে স্বপ্নের আধার তৈরি — এসব যখন স্বীকৃতি পায় নীরজ, চানু, রবি দাহিয়াদের, তখন মনে হয় দেবেন্দ্ররা কি এই গোলার্ধের অ্যাথলিট নন? আশ্চর্য লাগে ভাবলে, অ্যাথলিট আর প্যারা অ্যাথলিটের মধ্যে এতটা ফারাক কেন? শুধু প্রতিবন্ধকতার কারণেই কি তাঁরা প্রাপ্য সম্মান পান না? যদি তাই হয়, তা হলে বলতে হবে আমাদের ভাবনায় গলদ আছে!

আথেন্সের পর রিও ১২ বছর পর কোনও অ্যাথলিট যখন আবার পদকের রং মিলিয়ে দেন, বলতে হয় অদম্য ইচ্ছে তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছিল সাফল্যের সেই দিনগুলো। দেবেন্দ্রর ক্ষেত্রে এ কথাই বলতে হবে। বরং একধাপ এগিয়ে গিয়ে বলা উচিত সর্বোচ্চ স্তরে জ্যাভলিনকে কেউ যদি স্বীকৃতি দিয়ে থাকেন, তিনি দেবেন্দ্র ঝাঝারিয়া। কী পরিমান তাগিদ থাকলে রিওর ৫ বছর পর আবার পদকের আলো জ্বালাতে পারেন!

নীরজ সোনার ছেলে। অলিম্পিকে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে সোনা ফলানো এই নীরজই ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা অ্যাথলিট। নীরজকে নিয়ে যদি এত কথা বলা হয়, দেবেন্দ্রকে নিয়ে তা হলে আরও বেশি বলতে হবে। বলতেই হবে।

আরও পড়ুন: Tokyo Paralympics 2020: টোকিওয় সুপারহিট সোমবার, অবনীর সোনার পর জোড়া রুপো ও ব্রোঞ্চ ভারতের

আরও পড়ুন: AVANI EXCLUSIVE : ”শেষ শটের পর স্বপ্নের মত লাগছিল”

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla