Cyber Crime: ‘হাসপাতালে ভর্তি, টাকার প্রয়োজন, গুগল পে কর প্লিজ’, অধ্যক্ষের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আসলে মেসেজ করছিলেন কে?

Cyber Crime: বিষয়টি নজরে আসতেই জেলা সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ জানিয়েছেন খড়গপুরের হিজলি কলেজের অধ্যক্ষ আশিসকুমার দন্ডপাট।

Cyber Crime:  'হাসপাতালে ভর্তি, টাকার প্রয়োজন, গুগল পে কর প্লিজ', অধ্যক্ষের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আসলে মেসেজ করছিলেন কে?
সাইবার ক্রাইমের শিকার অধ্যক্ষ

পশ্চিম মেদিনীপুর: এবার সাইবার ক্রাইমের শিকার হিজলি কলেজের অধ্যক্ষ । তাঁর নামে ফেসবুকে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে পরিচিতদের থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নজরে আসতেই জেলা সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ জানিয়েছেন, খড়গপুরের হিজলি কলেজের অধ্যক্ষ আশিসকুমার দন্ডপাট। অভিযোগ জানানোর পরেও তা বন্ধ না হওয়ায় আবারও সাইবার ক্রাইম শাখার দ্বারস্থ তিনি।

আশীষবাবুর বয়ান অনুযায়ী, কিছুদিন আগেই তিনি জানতে পারেন, তাঁর নাম করে কেউ বা কারা ফেসবুক মেসেজ্ঞারে টাকা চাইছেন। তিনি ফেসবুক খতিয়ে দেখেন, হুবহু তাঁর ছবি দিয়ে একটি নকল অ্যাকাউন্ট বানানো হয়েছে। আর ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে লোককে ‘পিং’ করে টাকা চাওয়া হচ্ছে।

তাঁর কথায়, “আমি জানতে পারি একটা ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। সাইবার ক্রাইমের দ্বারস্থ হয়েছি। কয়েক জন পড়ুয়া এবং পরিচিতদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হয়েছে।” মেসেঞ্জারে পাঠানো হচ্ছে ছবি। সেই ছবি আবার মারাত্মক। মুখে ব্যান্ডেজ করা, একাধিক ক্ষতি, নাকে-মুখে স্যালাইন গোঁজা! দেখে যে কেউ ভাববেন, দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন আহত ব্যক্তি। এই ধরনের ছবি অধ্যক্ষের অ্যাকাউন্ট থেকে পরিচিতদের কাছে পাঠিয়ে দাবি করা হচ্ছে টাকার।

কখন তিনি অসুস্থ, কখনও আবার বন্ধু অসুস্থ রয়েছেন বলে মেসেজ করে টাকা চাওয়া হয়েছে বলে দাবি অধ্যক্ষের। হাসপাতালে ভর্তির কয়েকটা ছবিও দিয়েছে তারা। অধ্যক্ষের দাবি, তিনি কিংবা তাঁর কোনও বন্ধুই অসুস্থ নন। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ, কলেজে গিয়েছেন নিত্য। অথচ তার ছবি এইভাবে হয়তো বিকৃত করে পাঠানো হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই ভুয়ো অ্যাকাউন্ট থেকে কারোর কাছ থেকে ৯৫০০, তো কারোর কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। গুগল পে করে দেওয়ার জন্য নম্বরও দেওয়া হয়েছে। ওই নম্বর দেখেই পরিচিতদের সন্দেহ হয়। তখন তাঁরা অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যখন পরিচিতরা বিষয়টি জানতে পেরেছেন তখন ওই ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারের ভুয়ো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

অধ্যক্ষ বলেন, “সাইবার ক্রাইম শাখার আধিকারিকদের ভুয়ো অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করার জন্য আবেদন করা হয়েছে।  নিজের পরিচিত বন্ধু বান্ধব ও ছাত্র ছাত্রীদের জানানো হচ্ছে ফেসবুকে বন্ধুত্বের আবেদন গ্রহণ না করতে।”

তবে এসবের মধ্যেই  সামাজিকভাবেও কিছুটা সম্মানহানি হয়েছে বলে ভেঙে পড়েছেন অধ্যক্ষ। এমনকি তাঁর বিদেশের বন্ধুরাও চিন্তায় পড়ে একাধিকবার ফোন করেছেন। তিনি সকলকে জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন, তাঁর কিছুই হয়নি। তাঁরা যেন কোথাও টাকা না পাঠান। যত দ্রুত সম্ভব তদন্তকারীরা সমস্যার সমাধান করুন, এটাই চান তিনি।

ওই ফোন নম্বরের সূত্র ধরেই তদন্ত শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় অধ্যক্ষের কোনও পরিচিত জড়িত রয়েছেন কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: Dilip Ghosh on Tripura: ‘ওখানে কোনও সন্ত্রাস হয়নি, এখানে তো পঞ্চায়েত ভোটেও লোক মরে’, ত্রিপুরা ভোট নিয়ে দাবি দিলীপের

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla