
তেহরান: বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ইরান। মূল্যবৃদ্ধি থেকে শুরু করে সরকারের উপরে ক্ষোভ- সব মিলিয়ে আন্দোলন চরম পর্যায়ে গিয়েছে। এমনকী, ইরানের ধর্মীয় সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ খোমেইনিকেও পদ ছাড়তে বলেছে বিক্ষোভকারীরা। বিগত দুই সপ্তাহ ধরে উত্তাল ইরান। এর মাঝেই ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মহম্মদ মোভাহেদি আজাদ হুমকি দিলেন যে যারাই এই বিক্ষোভে অংশ নেবে, তাদের ঈশ্বরের শত্রু বলে গণ্য করা হবে। আর ইরানের আইনে এর অর্থ একটাই- মৃত্যুদণ্ড।
ইরানের স্টেট টেলেভিশনেই সরকারের তরফে বিক্ষোভকারীদের এই চরম হুঁশিয়ারি বার্তা দেওয়া হয়েছে। যারা নিজেরা বিক্ষোভে সামিল নন, কিন্তু বিক্ষোভকারীদের মদত দেবেন, তাদের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ আনা হবে এবং মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হবে।
ইরানের আইনের ১৮৬ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনও গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠান কোনও ধরনের সশস্ত্র বিক্ষোভ-প্রতিবাদ দেখায়, তাহলে তাদের সকল সদস্য এবং যারা তাদের জেনে বুঝে সাহায্য করেছে, তাদের মোহরাব (ঈশ্বরের শত্রু) বলে গণ্য করা হবে।
ওই আইনেরই ১৯০ ধারায় মোহরাবের শাস্তিও বর্ণনা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। ফাঁসি, প্রকাশ্যে হত্যা, ডান হাত ও বাম পা কেটে নেওয়া বা চিরতরে নির্বাসন।
ইরানের বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৫ জনের মৃত্যু এবং ২৩০০-রও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই তেহরানে সমস্ত ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, আমেরিকাও ইরানের এই সঙ্কটে নাক গলানোর চেষ্টা করছে। গতকালই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান স্বাধীনতা চাইছে। আমেরিকা সাহায্য করতে প্রস্তুত রয়েছে।